Homeটিউটোরিয়াল কর্ণারসরকারি বন্ডে নিশ্চিত মুনাফা হলেও ঝুঁকি কেমন

সরকারি বন্ডে নিশ্চিত মুনাফা হলেও ঝুঁকি কেমন

রাহেল আহমেদ শানু: সরকারি বন্ড কি এবং কিভাবে লেনদেন করতে হয়- তা অনেকের অজানা। সরকারি বন্ডের দাম শেয়ার বা ক্লোজ এন্ড মিচ্যুয়াল ফান্ডের মত ফুলটাইল নয়। তাই এখানে ক্যাপিটাল গেইনের সুযোগ যেমন কম; তেমন ক্যাপিটাল লসের সুযোগও অনেক কম।

নিশ্চিত লাভজনক এই বিনিয়োগ সম্পর্কে নিচে তুলে ধরা হলো- ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়ন করতে সরকার বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ঋণ গ্রহণ করে। তেমনি সরকার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকের ঋণ গ্রহণ করে। সরকার যখন দেশি উৎস থেকে কোন ঋণ নেয়; তখন তা দুভাবে নিয়ে থাকে- (১) সঞ্চয়পত্র বিক্রি (২) এবং সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড বিক্রি করে।

সঞ্চয়পত্রকে বলা হয় সেফ ইনভেস্ট বা নিরাপদ বিনিয়োগ। এখানে সরকার দেউলিয়া হয়ে না গেলে আপনার লস করার কোন আশঙ্কা নাই। এখানে অলমোস্ট জিরো রিস্ক; তাই বলা হয় সেভ ইনভেস্টমেন্ট। তাই বেশিরভাগ মানুষ সঞ্চয়ী আমানত তাদের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে থাকেন।

তেমনি সরকারি বিল-বন্ড ও জিরো রিস্ক ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজ। এখানে পার্থক্য হল সঞ্চয়পত্র সেকেন্ডারি মার্কেটে ট্রেড করার যায় না। কিন্তু বিল-বন্ডগুলো মেয়াদপূর্তির আগেই সেকেন্ডারি মার্কেটে হাতবদল করা যায়।

সরকারি বন্ডের বাজার : সরকারি বিল-বন্ডের প্রাধান ক্রেতা-বিক্রেতা সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, বীমা, এনবিএফআই এবং উচ্চ সম্পদশালী ব্যাক্তিরা। সরকার বিল-বন্ড বিক্রি করে তাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ২.৫ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। সম্প্রতি ঘোষিত ২০২২-২৩ সালের বাজেটে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি ঋণ নেবে বলে সরকার বাজেট ঘোষণা করে। সেই বিল এবং বন্ড প্রথম বিক্রি শুরু করেছে সরকার।

বন্ডের সেকেন্ডারি মার্কেট : এতদিন ব্যাংক, বীমা এবং উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের এমআই মডিউল ব্যবহার করে সরকারি বিল-বন্ড সেকেন্ডারি মার্কেটে ট্রেড করতে পারত। অর্থাৎ শেয়ার যেমন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ট্রেড হয়; তেমন বন্ডের ট্রেড হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে।

সর্বশেষ অর্থ বছরে ২ লাখ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বন্ডের সেকেন্ডারি মার্কেটে। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৩৩ কোটি টাকা।

পুজিবাজারে বন্ডের সেকেন্ডারি ট্রেডিং : বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই সেকেন্ডারি বন্ড ট্রেডিং এখন পুজিবাজারে। ফলে ব্যাংকের এডি ব্রাঞ্চে না গিয়ে ক্ষুদ্র-মাঝারি বিনিয়োগকারীরা এখন তাদের বিও একাউন্ট থেকেই সরকারি ট্রেজারি বন্ড লেনদেন করতে পারবেন। শুরুতে সরকারের ২৫৫টা বন্ড বাজারে লিস্টিং হবে। যাদের ফেস ভ্যালু হবে ১০০ টাকা এবং লট হবে ১০০০।

নিশ্চিত লাভজনক : বিভিন্ন মেয়াদের সরকারি বন্ড আছে। যেমন: ২, ৫, ১০ ও ২০ বছরের। এসব সরকারি বন্ডের সুদ হার ও বিভিন্ন রকমের। মেয়াদ যত বেশি সুদ হার ও তত বেশি। ৬ মাস পর পর সুদ আপনার বিও একাউন্টে বা নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেয়া হবে। বন্ডের মেয়াদ শেষে মূল টাকাও একইভাবে আপনার ব্যাংকে চলে যাবে।

উদাহরণ স্বরুপ- আপনি ২ বছর মেয়াদি ৫% কুপন রেটের ১০০০ টি বন্ড কিনেছেন ১ লাখ টাকায়। যদি ২ বছর আপনি ধরে রাখেন তবে ৬ মাস পরপর ২৫০০ টাকা সুদ পাবেন এবং মেয়াদপূর্তি হলে ১ লাখ টাকা ফেরত পাবেন। যেহেতু এটি সেকেন্ডারি মার্কেটে ট্রেড হবে তাই আপনি চাইলে ২ বছর মেয়াদ শেষের আগেই এটি সেকেন্ডারি মার্কেটে বিক্রি করে মূল পুঁজি তুলেও নিতে পারবেন।

ধরুণ আপনি কেনার ৩ মাস পরেই বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন। এই ক্ষেত্রে ইল্ডকার্ভ ভিত্তিক প্রাইসিং হওয়ায় সেকেন্ডারি মার্কেটে আপনি এমন দাম পাবেন যাতে সেই ৩ মাস হোল্ডিং পিরিয়ডের সুদ+মূলধন পেয়ে যান।

সরকারি বন্ডের দাম শেয়ার বা ক্লোজ এন্ড মিচ্যুয়াল ফান্ডের মত ফুলটাইল নয়। তাই এখানে ক্যাপিটাল গেইনের সুযোগ যেমন কম; তেমন ক্যাপিটাল লসের সুযোগও অনেক কম।

একমাত্র দেশের নীতি বা সুদহারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না ঘটলে সেকেন্ডারি মার্কেটে বন্ডের দামের তারতম্য ঘটে না। যদি কেনার পরে সেকেন্ডারি মার্কেটে বন্ডের দাম পড়েও যায় তবু মেয়াদপূর্তি হলে সরকার আপনাকে মূল টাকা সম্পূর্ণ ফেরত দিবে।

সুতরাং ধৈর্য্য নিয়ে মেয়াদ পর্যন্ত অপেক্ষা করলে লস হওয়ার কোন সুযোগ নাই। আর যদি কেনার পরে সেকেন্ডারি মার্কেটে দাম বেড়ে যায় তখন সেল দিয়ে লাভ নিয়ে নেয়ার সুযোগ তো আছেই!

তবে যারা সুদ এড়িয়ে চলেন তারা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করবেন না। সরকারি সব বন্ড ইন্টারেস্ট বিয়ারিং বন্ড।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সাত দিনের সর্বাধিক পঠিত