সকল মেনু

জলবায়ু পরিবর্তন দৃশ্যমান, আগামীতে অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে বিজ্ঞানীদের সংশয়

সিনিয়র রিপোর্টার: জলবায়ু পরিবর্তন এখন দৃশ্যমান। ঋতুর বৈশিষ্ট বদল হওয়ায় খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়ছে। দেশে ফসলের বৈচিত্র্য আসছে। যে কারণে কারণে দুর্যোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দরিদ্র, নারী, প্রান্তিক ও বিপন্ন জনগোষ্ঠীর অভিবাসনের মাত্রা সাম্প্রতিকালে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, বলেন জলাবায়ু বিজ্ঞানীরা।

বন্যপ্রবণ এলাকায় জীবন ও জীবিকায় প্রভাব বেশি পড়ছে। যে কারণে ‘মাইগ্রেশন’ বা স্থানান্তর হচ্ছেন অনেকে। আগামীতে জলবায়ু অভিবাসীর সংখ্যা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেজ্ঞরা।

দক্ষিণ এশিয়ার খ্যাতিমান পরিবেশবিদ, বিজ্ঞানী, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং স্বপ্নদর্শী চিন্তাবিদ ড. আতিক রহমানের সভাপতিত্বে রাজধানীর গুলশানে সোমবার (৩১ অক্টোবর) কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর এ্যাডভান্সড স্টাডিজ (বিসিএএস) এবং জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ইউএন-উইমেন ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউএন উইমেনের জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমণ কর্মসূচির প্রধান দিলরুবা হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের পরিচালক (উপসচিব) মো. খায়রুজ্জামানসহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিরা।

কর্মশালায় বিসিএএসের গবেষণা ফেলো ড. দ্বিজেন মল্লিক দেশের অতি ঝুঁকিপ্রবণ ৫টি অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জলবায়ু ঝুঁকি এবং অভিবাসন নিয়ে সম্পাদিত গবেষণার বিষয়ে আলোকপাত করেন। বাংলাদেশের দুর্যোগ প্রবণ পাঁচটি অঞ্চল জামালপুর, কুড়িগ্রাম, কক্সবাজার, সাতক্ষীরা এবং খুলনার ওপর পরিচালিত গবেষণাপত্র কর্মশালায় তুলে ধরেন তিনি।

একইসঙ্গে, সিএএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক শেখর কান্তি রায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ ঝুঁকি নিরুপণ (সিআরএ) ও জলবায়ু অভিবাসন বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে কর্মশালায় আলোচক ও অতিথিরা

মাঠ গবেষণার ফলাফলে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে অভিভাবসনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে এই প্রবণতা তুলনামূলক বেশী। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস এবং নদী ভাঙ্গনের মতো দৃশ্যমান বড় দুর্যোগ বাড়ছে।

পাশাপাশি লবণাক্ততা এবং সমুদ্রের পানির স্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী এবং ধীরে সংঘটিত দুর্যোগের কারণে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের দরিদ্র, শ্রমজীবি মানুষের জীবন ও জীবিকা সংকটে পড়েছে। তারা জীবিকার সন্ধানে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। নতুন কর্মস্থলে তারা মজুরী বৈষম্য  মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

গবেষণায় উঠে এসেছে, মানুষ নানা কারণে অভিবাসী হলেও বেশিরভাগই জলবায়ু পরিবর্তনে জীবিকার সংকটে স্থান ত্যাগ করছেন। বাধ্য হয়ে নিকটবর্তী উপশহর বা দূরবর্তী শহরগুলোতে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগীতা, দক্ষতা, সচেতনতা এবং জ্ঞানের অভাবে সরকারের বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। তবে অভিবাসী পরিবারের নারী, শিশু, কিশোরী, প্রতিবন্ধী ও বয়স্করা তুলনামূলক বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হন।

‘ডকুমেন্টেশন’ না থাকায় বা ‘বৈধ পরিচয়’ সংকটে তাদের সুবিধা ও সেবাও মিলছে না বলে জানানো হয়। 

সেবা বৃদ্ধির সুপারিশ হিসেবে গবেষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে, জলবায়ু অভিবাসন মোকাবিলার জন্য সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। তাদের যথাযথ মনিটরিং, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জেন্ডার সংবেদনশীল কর্মসূচী গ্রহণের তাগিদ দেয়া হয়।

জলবায়ু অভিবাসীর সংখ্যা আগামীতে আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেজ্ঞরা।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি দিলরুবা হায়দার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসনের প্রকৃতি ও ধরণ অন্যান্য অভিভাবসন থেকে আলাদা। দেশের উত্তরাঞ্চলের চেয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ঝুঁকি ভিন্ন। কাজের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরার বেশিরভাগ লোক যাচ্ছে কলকাতা। কারা যচ্ছেন, কতো সময়ের জন্য -সেই তথ্য নেই।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পলিসি তৈরি করতে সঠিক ডকুমেন্টেশন দরকার। দুর্যোগ মোকাবিলা এবং তাদের সহায়তা করতেও সঠিক ডকুমেন্টেশন জরুরি, বলেন দিলরুবা হায়দার।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন বিষয়ক আলোচনা ও কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং পরিবার ও সমাজে নারী-পুরুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য ভালোভাবে বোঝা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের পরিচালক (উপসচিব) খায়রুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন দৃশ্যমান। ঋতুর বৈশিষ্ট বদল হওয়ায় দেশের খাদ্য উৎপাদন এখন ঝুঁকিতে পড়ছে। যে কারণে দুর্যোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দরিদ্র, নারী, প্রান্তিক ও বিপন্ন জনগোষ্ঠীর অভিবাসনের মাত্রা সাম্প্রতিকালে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীতে আরো বাড়ায় আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখানে সমস্যা আমাদের সমন্বিত ডাটা নেই।

মাটির নিচে পানির লেয়ার ৩মিটারের মধ্যে থাকলে উৎপাদন ভালো হয়, সেই লেয়ার আরো নিচে নামছে। যে কারণে উত্তলাঞ্চলে এখন ফলের উৎপাদন কমছে বলেন খায়রুজ্জামান।

তিনি আরো বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে আমরা এবিষয়ে অনেক কাজ করছি। ৫ বছরের জন্য আমরা মুজিব কেল্লার একটি প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। ১০ কিলোমিটার স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার তৈরি করেছি।

অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা

দেশের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিরাও কর্মশালায় তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম), ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও), ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিসিডিডি), মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জেন্ডার সংবেদশীল কর্মসূচী গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

পেছনের খবর : ২০টি মন্ত্রণালয়ের ১৩ বিষয়ে সমন্বয় না হওয়ায় অনগ্রসর পর্যটন শিল্প

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top