সকল মেনু

ইউনাইটেড এয়ারের পরিচালকদের শেয়ার স্থানান্তর স্থগিতের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার: ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের সাবেক পরিচালনা পর্ষদসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের বিও হিসাবের ডেবিট ট্রানজেকশন (শেয়ার স্থানান্তর) স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

পুঁজিবাজারের ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট থেকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) স্থানান্তরের অপেক্ষায় থাকা

সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর ইতোপূর্বে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কমিশন ডিপোজেটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা ১৯৯৯ এর ধারা ১৪ এবং প্রবিধানমালা ২০০৩ এর ৪৮ ও ৫১ (২) এর অধীনে সিডিবিএলকে অবিলম্বে চিঠিতে উল্লেখিত কোম্পানির পরিচালক, স্বতন্ত্র পরিচালক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিও হিসাবের ডেবিট ট্রানজেকশন স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

ইউনাইটেড এয়ারের পরিচালক ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী, পরিচালক শাহিনুর আলম ও সৈয়দ আব্দুল মুকদাতির, স্বতন্ত্র পরিচালক ড. বিজন কুমার সাহা এবং মাহিদবুল ইসলাম চৌধুরীর বিও হিসাবের ডেবিট ট্রানজেকশন স্থগিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।

ছয় বছর ধরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে কোম্পানির আর্থিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে কাজ করছে বিএসইসি। তবে, সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সীমাহীন দুর্নীতি এবং তহবিল তছরুপের কারণে কোম্পানিটিকে কোনোভাবেই দাঁড় করানো সম্ভব হচ্ছে না। যেকারণে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সহযোগিতাসহ চারটি সুপারিশ বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করে কোম্পানির পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ।

অন্যদিকে, স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং রেগুলেশন লঙ্ঘনের কারণে গত বছর কোম্পানিটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপটেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএসইসির কাছে নির্দেশনা চেয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। ওই সময় ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। সেইসঙ্গে কোম্পানির আর্থিক অসঙ্গতি খতিয়ে দেখতে ২০১২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশেষ নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে তাহবিল তছরুপের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি, কারসাজি করে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে ইচ্ছাকৃত লোকসানি কোম্পানিতে পরিণত করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ১০ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশেষ নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি।

প্রতিষ্ঠানটির ১ লাখ ৬০ হাজার প্রান্তিক বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগকৃত প্রায় ৭৯৩ কোটি টাকার সুরক্ষায় ৮ জন অভিজ্ঞ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে বিএসইসি। যদিও, বিদেশে পলাতক রয়েছে কোম্পানির সাবেক ফাউন্ডার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন তাসারুল আহমেদ চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বিএসইসি। পর্ষদে মনোনীত স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন—কাজী ওয়াহিদ উল আলম, এম সাদিকুল ইসলাম, মাসকুদুর রহমান সরকার, এটিএম নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূইয়া, মুহাম্মদ ইউনুস, মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ ও সৈয়দ এরশাদ আহমেদ। কাজী ওয়াহিদ উল আলম প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন ।

একই বছরের ৪ মার্চ নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণের পর এয়ারলাইনটির অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা করছেন।

পুঁজিবাজারে ২০১০ সালে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়া ও বিভিন্ন সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের কারণে ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মূল মার্কেট থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করা কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। ব্যর্থতার জন্য কোম্পানির সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালকসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা দায়ী বলে মনে করে কমিশন।

ইউনাইটেড এয়ারকে ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি ওটিসি মার্কেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ওটিসি মার্কেট বাতিল করে আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যত সম্ভাবনার ভিত্তিতে এ মার্কেটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসএমই প্ল্যাটফর্ম ও এটিবিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। এ আলোকে ওটিসি থেকে এটিবিতে স্থানান্তর করা হবে ইউনাইটেড এয়ারকে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top