সকল মেনু

তাৎক্ষণিকভাবে ডিএসইর চার কর্মকর্তা বরখাস্ত নিয়ে বিতর্ক

সিনিয়র রিপোর্টার: বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)। অতীতে কখনো ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) নিয়োগ নিয়ে, কখনো এমডির পদত্যাগ নিয়ে, কখনোবা আবার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে এক্সচেঞ্জটি।

এবার ডিএসইর চারজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা নিয়ে আবারো বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শোকজ করার আগেই তাৎক্ষণিকভাবে চার কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন এক্সচেঞ্জটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ নিয়ে ডিএসইর কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক ফলাফল ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশের ক্ষেত্রে বেশকিছু ভুলের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে এ বছরের ৩১ জানুয়ারি ইস্টার্ন কেবলস লিমিটেড ও ১ ফেব্রুয়ারি বিচ হ্যাচারির ভুল আর্থিক ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে ডিএসই।

এক্ষেত্রে ইস্টার্ন কেবলসের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হলেও ডিএসইর ওয়েবসাইটে এটিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হিসেবে প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে বিচ হ্যাচারির এক প্রান্তিকের ইপিএসের তথ্য অন্য প্রান্তিকে দেখানো হয়। লেনদেন চলাকালে বিভ্রান্তিকর এসব তথ্যের প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সে সময় অভিযোগ ওঠে।

সম্প্রতি ডিএসইর পর্ষদ সভায় বিভ্রান্তিকর এসব তথ্য প্রকাশের বিষয়ে এক্সচেঞ্জটির ভারপ্রাপ্ত এমডি এম সাইফুর রহমান মজুমদারের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে পর্ষদ। সভায় পর্ষদের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভারপ্রাপ্ত এমডিকে পরামর্শ দেয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত এমডি গত বুধবার ডিএসইর মার্কেট অপারেশন্স বিভাগের প্রধান ও এক্সচেঞ্জটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রনি ইসলাম, একই বিভাগের ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান ও হুমায়ূন কবীর এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ রাকিবুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তের আদেশ জারি করেন।

কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ইস্টার্ন কেবলস ও বিচ হ্যাচারির বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বরাত দেয়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে বিভাগটির পক্ষ তথ্য বিতরণরের ক্ষেত্রে করা ভুলের বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, এতে অংশীজনদের মধ্য ভুল তথ্য যাওয়ার পাশাপাশি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জের সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এ কারণে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একই সঙ্গে ডিএসই সার্ভিস রুলস ২০১৭ অনুসারে দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তার কারণ ব্যাখ্যা করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আগেই বরখাস্ত করে তারপর শোকজের নোটিস দেয়ার বিষয়টি নিয়ে ডিএসইর কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, এক্ষেত্রে আগে শোকজ করে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেয়াটাই সমীচীন ছিল। এটিই প্রচলিত রীতি।

জানতে চেয়ে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি এম সাইফুর রহমান মজুমদারকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি ডিএসইর পর্ষদ আরো অন্য দুই প্রার্থীর সঙ্গে তাকেও ডিএসইর এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএসইসির পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

জানতে চাইলে ডিএসইর চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘পর্ষদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শোকজ করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এমডিকে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি শোকজ করার আগেই তাদের বরখাস্ত করেছেন কিনা সেটি এখনো বলতে পারছি না। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে খোঁজখবর নেয়া হবে।’

ডিএসইর মার্কেট অপারেশনস বিভাগ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে করা ভুলের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে বিএসইসির পক্ষ থেকে বিভাগটির কর্মকর্তাদের কমিশনে তলব করা হয়েছিল। সে সময় কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে ভুলের কারণ জানতে চাওয়া হয়।

পাশাপাশি তারা কী পদ্ধতিতে তথ্য প্রকাশ করেন সে বিষয়েও কমিশন জানতে চায়। বাজার সংবেদনশীলতার বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের তথ্য বিতরণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরো সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছিল কমিশন। তবে এ ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে ডিএসইকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে ডিএসইর মার্কেট অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে ভুলের ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছিল।

চার কর্মকর্তাকে শোকজের আগেই বরখাস্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‌বিধি অনুসারে ডিএসই মহাব্যবস্থাপক কিংবা তার ওপরের পদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে কি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে সে বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এর নিচের পদের ক্ষেত্রে এমডিকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

তবে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আগে শোকজ করাটাই প্রত্যাশিত। এক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যতয় হয়েছে কিনা সেটি কমিশন যাচাই করে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনে কমিশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ক্ষেত্রে করণীয় কী সে বিষয়েও নির্দেশনা দেয়া হবে।’

অন্যদিকে, ডিএসইর এইচআর এবং এডমিনের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ সামিউল ইসলামকে জিএম (জেনারেল ম্যানাজার) থেকে সিনিয়র জিএম পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। আর কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ আসাদুর রহমানকে জিএম থেকে সিনিয়র জিএম পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top