সকল মেনু

সিমেন্ট ও ইস্পাত কোম্পানির আয় বাড়লেও নিট মুনাফা নেতিবাচক

সিনিয়র রিপোর্টার: চলতি ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের অধিকাংশ কোম্পানির আয় বাড়লেও কর-পরবর্তী নিট মুনাফা কমে গেছে। এমনকি কয়েকটি কোম্পানিকে আলোচ্য সময়ে বড় লোকসান গুনতে হয়েছে। এ সময়ে ইস্পাত খাতের বড় কোম্পানিগুলোকেও আয় বাড়া সত্ত্বেও নিট লোকসান গুনতে হয়েছে।

দেশের পুঁজিবাজারে সিমেন্ট খাতের সাতটি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। সেগুলো হলো কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড, ক্রাউন্ট সিমেন্ট পিএলসি, মেঘনা সিমেন্ট মিলস লিমিটেড, প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেড, আরামিট সিমেন্ট, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড। এর মধ্যে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের হিসাব বছর গণনা করা হয় জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়ে।

তালিকাভুক্ত ইস্পাত খাতের বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম) লিমিটেড, বিএসআরএম লিমিটেড ও জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড। এর মধ্যে বিএসআরএম লিমিটেড ও জিপিএইচ ইস্পাত চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে লোকসানে রয়েছে। আর বিএসআরএম স্টিলের নামমাত্র মুনাফায় হয়েছে।

চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কনফিডেন্স সিমেন্টের সমন্বিত আয় হয়েছে ১৯৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আয় ছিল ১৮৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে সমন্বিত নিট মুনাফা ছিল ৪৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ২২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

ক্রাউন সিমেন্টের চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে আয় হয়েছে ১ হাজার ১৩০ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৮৭২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ২৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ১১ কোটি ৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। মূলত আলোচ্য আয় বাড়ার পরও মুনাফা কমার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে কোম্পানিটির আর্থিক ব্যয়বৃদ্ধি।

প্রথমার্ধে মেঘনা সিমেন্টের আয় হয়েছে ২২৬ কোটি ৯ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় কমেছে ৪৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ২৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

আলোচ্য হিসাব বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে প্রিমিয়ার সিমেন্টের বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ৮৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৮৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ৫০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যকর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছিল ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

আলোচ্য সময়ে লোকসান হওয়ার কারণ হিসেবে প্রিমিয়ার সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির করণে আলোচ্য সময়ে তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়েছে। এতে কোম্পানির উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যয়বৃদ্ধি পাওয়ায় আলোচ্য সময়ে কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে।

চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে আরামিট সিমেন্টের বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পাটির বিক্রি বাবদ আয় কমেছে ৮২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসানা হয়েছে ২৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ লোকসান ছিল ১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট লোকসান বেড়েছে ৮৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বিএসআরএম লিমিটেডের আয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৬৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ হাজার ৪৫৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ২৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ১১০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা হয়েছিল ২৪২ কোটি ৮ লাখ টাকা।

আলোচ্য জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বিএসআরএম স্টিলের আয় হয়েছে ৩ হাজার ৭০২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ৮৮৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৯ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২০০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ৯৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।

চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে জিপিএইচ ইস্পাতের মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৮২২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে মোট আয় ছিল ১ হাজার ৯৯২ কোটি ২০ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মোট আয় বেড়েছে ৪১ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটিকে ৮৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট লোকসান গুনতে হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে ৯৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top