সকল মেনু

ব্যাংক ঋণে বাজেট-ঘাটতি মোকাবেলা করতে চায় সরকার

স্টাফ রিপোর্টার: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও অস্থিরতায় দেশে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে মূল্যস্ফীতি। দেখা দিয়েছে তারল্য সঙ্কট। তার উপর, বাজেট ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন খাত থেকে ঋণ নেয় সরকার। এক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রকে বিবেচনা করা হয় বড় একটি খাত হিসেবে। যদিও সাম্প্রতিক উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কড়াকড়ি আরোপে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিতে পড়েছে ভাটা ।

পাাশাপাশি, বিদেশ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত ঋণ সহয়তা। এরফলে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ ক্রমশঃ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম সাড়ে সাত মাসে ব্যাংক খাতে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা।

এ সময়ের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ৫৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। এরমধ্যে আগের নেয়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ১৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। এতে ৪২ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সরকারের। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি।

ব্যাংক থেকে গত ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল সরকার।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার হ্রাসসহ নানা কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে নামায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে এ খাত থেকে সরকার আর কোনো ঋণ নিতে পারছে না। বিপরীতে, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, আশানুরূপ বিদেশি ঋণ-সহায়তাও আসছে না। যেকারণে, সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবীদদের অনেকই।

আবার, ঋণ-অনিয়মের সাম্প্রতিক খবরে অনেক ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে। দেশের ব্যাংকিং খাত এতে তারল্য সংকটে ভুগছে। এমন পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তফসিলি ব্যাংকগুলোর আগের ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জুলাইতে তফসিলি ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে, নতুন করে আর ঋণ না নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগের ১৩ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে ওইসব প্রতিষ্ঠানের। যেকারণে, দেশের বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকতে হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়। আগের অর্থবছরে এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা।

হিসেব অনুযায়ী, আগের তুলনায় এবার সরকারের ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বেশি। পাশাপাশি রয়েছে- সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top