সকল মেনু

সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: ২০২২-২৩ অর্থবছরের আট দিন বাকি থাকতেই পুরো অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার ৫০ কোটি টাকা বেশি নিয়েছে সরকার। গত ২২ জুন পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছর ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা নেয় সরকার। যা ছিল এক অর্থবছরের বিবেচনায় সর্বোচ্চ। এদিকে ব্যাংক থেকে প্রথমবারের মতো সরকারের ঋণস্থিতি ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। তবে অন্য উৎস, বিশেষত সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ কম পাওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

অর্থবছর শেষ না হতেই সেই লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যয় সংকোচনের নীতি থাকলেও সরকারের পরিচালন খরচ তেমন কমেনি। ডলারের দর বেড়ে যাওয়ায় সুদ পরিশোধেও বাড়তি খরচ হচ্ছে। অন্যদিকে আশানুরূপ রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে কম।

গত অর্থবছরের ১১ মাসে যে পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, ভাঙানোর পরিমাণ তার চেয়ে ৩ হাজার ২৯ কোটি টাকা বেশি। বিদেশি উৎস থেকেও আগের তুলনায় সরকারের ঋণ কমেছে। এসব কারণে এখন ব্যাংক ব্যবস্থা থেকেই সরকারকে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের ২২ জুন পর্যন্ত সরকারের ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সরবরাহ করেছে ১ লাখ ১ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দিয়েছে ২৫ হাজার ৫২১ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি সরকারকে ঋণ সরবরাহ করার মানে টাকা ছাপানোর মতো, যা মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দেয়। এমনিতেই এখন মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। গত অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে।

সরকার ট্রেজারি বিল ও বন্ড ইস্যু করে ৯১ দিন থেকে শুরু করে ২০ বছর পর্যন্ত মেয়াদে ঋণ নেয়। সব মিলিয়ে ২২ জুন পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে রয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দিয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা।

গত মে পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত বিদেশি ঋণ রয়েছে ৭ হাজার ৩৫৩ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৮ লাখ কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে সরকারের ঋণ এখন ১৬ লাখ কোটি টাকার বেশি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top