সকল মেনু

ব্যাংক এশিয়ার ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনে ১২.৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত

স্টাফ রিপোর্টার: পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত ব্যাংক এশিয়া ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনে সাড়ে ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রথম দেশের কোনো বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এ উদ্যোগ নিল।

ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণা অনুসারে, গত ১৩ জুলাই এক বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ব্যাংক এশিয়ার সূত্র জানায়, ফিনটেক বা আর্থিক-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং আরও কয়েকটি ফার্মের সাথে কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগ হবে এই ডিজিটাল ব্যাংক। যাতে স্পন্সর হিসেবে ১০ শতাংশ অংশীদারত্ব থাকবে ব্যাংক এশিয়ার। ইতোমধ্যেই ডিজিটাল ব্যাংকিং লাইসেন্স পেতে কনসোর্টিয়ামটি বাংলাদেশের ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে। তবে প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংকের কোনো নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আদিল চৌধুরীকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তিনি মুঠোফোনে পাঠানো বার্তার উত্তরও দেননি।

ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিধিমালা অনুমোদনের পরে, গত ২১ জুন আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্সের আবেদন জমা দিতে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক। লাইসেন্স আবেদনে আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ৪১ দিন সময় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এই সময়সীমা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

ব্যাংক এশিয়ার সূত্রগুলো জানায়, তারা ২০১৯ সালেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডিজিটাল ব্যাংকের নিবন্ধন পেতে আবেদন করেন। কিন্তু, সে সময় এ বিষয়ে কোনো বিধিমালা না থাকায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমতি দিতে পারেনি।

যেভাবে গড়ে তোলা হয় ডিজিটাল ব্যাংক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধিমালা অনুসারে, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম ১২৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন দেখাতে হবে, আর মূলধন আসতে হবে স্পন্সরদের থেকে।

প্রতিটি স্পন্সরকে ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকার শেয়ার মালিকানা নিতে হবে, আর সর্বোচ্চ তা হতে পারবে ১০ শতাংশ বা ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধিমালায়, ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনে ফিনটেক কোম্পানি, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা, মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে যৌথ উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

কোনো ডিজিটাল ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিবন্ধন পাওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যবসা শুরুর পাঁচ বছরের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ব্যতীত স্পন্সরদের শেয়ার হস্তান্তর করা যাবে না।

পরিচালক বোর্ডের অন্তত অর্ধেক সদস্যের যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং  উদীয়মান প্রযুক্তি, সাইবার আইন বা বিধিমালা ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক ব্যাংকিং এর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বাকি অর্ধেক সদস্যের ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং ব্যাংক আইন ও বিধিমালার বিষয়ে জ্ঞান আর দক্ষতা থাকতে হবে।

ডিজিটাল ব্যাংকের শুধুমাত্র একটি সদর দপ্তর থাকবে, এছাড়া সারাদেশে শাখা, উপশাখার মতো কোনো দৃশ্যমান উপস্থিতি থাকবে না। নিজস্ব গ্রাহকদের লেনদেনের সুবিধার্থে ভার্চুয়াল কার্ড, কিউআর কোড এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবা/পণ্য ইস্যু করবে ডিজিটাল ব্যাংক। গ্রাহকদের শুধুমাত্র ইন্টারনেট-ভিত্তিক সেবা দিবে ডিজিটাল ব্যাংক।

মজুরি আয়কারীদের রেমিট্যান্স সংগ্রহ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো ধরনের লেনদেন বা বাণিজ্যে অর্থায়ন করতে পারবে না ডিজিটাল ব্যাংকগুলো। বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা – নগদ একটি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top