Homeখাতওয়ারী সংবাদফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ ও মাস্টার ফিড পরিচালকের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ ও মাস্টার ফিড পরিচালকের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সিনিয়র রিপোর্টার: মাস্টার ফিড এগ্রোটেকের প্রয়াত পরিচালক রফিকুল আলমের স্ত্রী উম্মে হাবিবা ইয়াসমিনের শেয়ার ও টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কাউসার আল মামুন আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিকার চেয়ে সোমবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন উম্মে হাবিবা।

দেশের পুঁজিবাজারে স্বল্প মূলধনি প্ল্যাটফর্মে (এসএমই মার্কেট) তালিকাভুক্ত মাস্টার ফিড এগ্রোটেক লিমিটেড।

এদিকে, তার অভিযোগের আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সব তথ্য জানিয়েছেন বলে জানান ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কাউসার আল মামুন। তিনি জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানানো হয়েছে। তারা তদন্ত করে দেখবেন তিনি সেই পরিচালকের স্ত্রী কী-না। তারপর বিএসইসি যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

চিঠিতে উম্মে হাবিবা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ২০২২ সালের ১৫ জুলাই আমার স্বামী (মাস্টার ফিডের প্রয়াত পরিচালক) মৃত্যুবরণ করেন। ফলে আদালতের রায়ে উত্তরাধিকার সার্টিফিকেট অনুযায়ী স্বামীর মোট শেয়ারের ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৫০০টি শেয়ার পান তিনি।

সেসব শেয়ার নিজের নামে নিতে ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজের মতিঝিল শাখায় একটি বিও অ্যাকাউন্ট (নং ১২০৪৪৩০০৭৫৮৭৪৯৪৯) খোলেন। পরবর্তীকালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অনুমোদনক্রমে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) মাধ্যমে শেয়ার বিও হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

সেই শেয়ার বিক্রি করে এবং বিভিন্ন তারিখে ফার্স্ট ক্যাপিটালের সিইও মো. কাউসার আল মামুনের অনুমোদনের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেন উম্মে হাবিবা। এক্ষেত্রে ১৪ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত এক কোটি ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করেন তিনি। এরপর অজ্ঞাত কারণে সিইও কাউসার বিভিন্ন অজুহাত তৈরি করে টাকা দিতে বিলম্ব করেন এবং টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেন।

উম্মে হাবিবা ১৭ জুলাই তার বাবা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেয়া মো. আবুল বাসার ও মাস্টার ফিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কবীর হোসেনকে নিয়ে ফার্স্ট ক্যাপিটালে যান। সেখানে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন মো. কাউসার আল মামুন।

চিঠিতে উম্মে হাবিবা আরও বলেন, ফার্স্ট ক্যাপিটালের সিইও’র আচরণ কাম্য ছিল না, যা তার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখলে প্রমাণিত হবে। একই সঙ্গে তিনি কমিশনে প্রমাণ হিসেবে রফিকুল আলমের মৃত্যুসনদ, আদালতের উত্তরাধিকার আদেশ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমোদন কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, ফান্ড রিকুইজিশন স্লিপ এবং রফিকুল আলম ও উম্মে হাবিবা ইয়াসমিনের কাবিননামার কাগজ জমা দিয়েছেন।

জানতে চাইলে ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজের সিইও মো. কাউসার আল মামুন বলেন, বিভিন্ন কারণে তাকে সন্দেহ হওয়ায় আমি বিএসইসির কাছে অভিযোগ দিয়েছি। কমিশন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। আমি কোনো শেয়ার বা টাকা আত্মসাৎ করিনি। কারণ শেয়ার ও টাকা যে বিও হিসাবে থাকার কথা, সেখানেই রয়েছে।

কমিশন তদন্ত করে দেখবে, তিনি কোম্পানির মৃত পরিচালকের স্ত্রী কী-না। তদন্তের পর বিএসইসি পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দিলে টাকা দেয়া হবে। বিএসইসি যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সাত দিনের সর্বাধিক পঠিত