সকল মেনু

টেকনো ড্রাগসের রোড় শো ও আমলনামা

সিনিয়র রিপোর্টার: ভেটেনারি (প্রাণিজ) প্রোডাক্ট দিয়ে প্রথমে আমাদের বাণিজ্যের যাত্রা। উৎপাদিত ৪৫০ প্রকারের ওষুধ দিয়ে দেশিয় বাজার ১০-২০ শতাংশ টেকনো ড্রাগসের নিয়ন্ত্রণে। দেশে ভেটনারির প্রবর্তক টেকনো ড্রাগস। পরবর্তীতে মানুষের ওষুধ নিয়েও কাজ শুরু করি।

২০১৪ সালে ওষুধ রপ্তানিতে চতুর্থ স্থান অর্জন করি; এরপরে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে তৃতীয় স্থান অর্জনে সক্ষম হই। রোড় শো অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন টেকনো ড্রাগসের ব্যবস্থাপনা (এমডি) পরিচালক শাহ জালাল উদ্দিন।

রাজধানীর একটি হোটেলে শনিবার বিকালে, ১৪ অক্টোবর তিনি আরো বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে ডলার সংকটের কারণে কাঁচামাল আমদানী কমায় রফতানীতে ভাটা পড়ে। যে কারণে গত দুই বছর আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়ি। তবে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের ঘাবড়ানোর কোন কারণ নেই। মূল প্রডাক্টস জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল, যার মূল ক্রেতা সরকার বলে জানান তিনি।

বুকবিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওর শর্তানুসারে রাজধানীর একটি হোটেলে রোড শো’র আয়োজন করে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে যোগ্য বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্টদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

তাদের সামনে কোম্পানির আর্থিকচিত্র, ভবিষ্যত পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ জালাল উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন কোম্পানির অর্থনৈতিক কর্মকর্তা (সিএফও) পিযুশ কুমার।

উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির চেয়ারম্যান খালেদা আক্তার খান, পরিচালক মেহরীন আহমেদ, কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক, কোম্পানি সচিবসহ বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

আরো উপস্থিত ছিলেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, ইবিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, এএফসি ক্যাপিটেল লিমিটেড, ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড, বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডসহ বিভিন্ন অ্যাসেট মানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা

অনুষ্ঠানে টেকনো ড্রাগসের আর্থিকচিত্র ও ভবিষ্যত পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজালাল উদ্দিন আহমেদ। উন্মুক্ত প্রশ্নত্তোর অনুষ্ঠানে আইপিও পরবর্তী কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমাসহ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধান অর্থনীতিক কর্মকর্তা (সিএফও) পিযুশ কুমার।

তিনি বলেন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) টাকা নির্দিষ্ট খাতে ব্যবহার করা না হওয়ায় মুনাফা কমে। তবে টেকনো ড্রাগসের মুনাফা কমার সেই সুযোগ নেই। তার কারণ, ৮০ শতাংশ শেয়ার কোম্পানি ধারণ করেছে।

উৎপাদিত পণ্য ৪৫০ প্রকারের হলেও আমাদের মূল প্রডাক্টস বার্থ কন্টোল ওষুধ। যা দেশে শুধুমাত্র আমরাই উৎপাদন করছি এবং সরকারকে সরবরাহ করছি; যা গত ১৫ বছর ধরে চলছে। আগামীতের এই ওষুধের ব্যবহার হবে। অন্যদিকে, উত্তম পরিচালনা পর্ষদ থাকায় মুনাফা কমের সুযোগ নেই।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসছে ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানি টেকনো ড্রাগস লিমিটেড। কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।

অর্থনীতিক কর্মকর্তা পিযুশ কুমার বলেন, আমরা ২০১০ সালে নরসিংদীতে শুরু করি। পরে আরো একটি প্রজেক্ট করা হয়েছে। ভ্যাকসিন প্রডাকশন প্রজেক্ট দেশে আর কোন কোম্পানির নেই। আমরা জেএমআই সিরিঞ্জের মতো ভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে চাই, যার ক্রেতা সংকট নেই।

টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের উৎপাদিত ওষুধ

নরসিংদীর কারখানার মানোন্নয়ন ও সংস্কারে ২৫ কোটি, গাজীপুরে কারখানার নির্মাণে ১৫ কোটি, যন্ত্রপাতি সংগ্রহে ২৭ কোটি, ঋণ পরিশোধে ৩০ কোটি এবং আইপিও বাবদ ৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে, বলেন তিনি।

মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন নেতিবাচক প্রভাব চলছে। প্রথমে অনেকেই ধারণা করেন, আইপিও আসার কারণে বাজারে এ অস্থিরতা। প্রথমে বন্ধ করলেও পরে তারাই আইপিওর পক্ষে বলেন।

ভালো মানের আইপিও আসলে বাজার ভালো হয় এবং হবে। বাজার পুরোটা মনস্তাত্ত্বিকভাবে চলে। পুঁজিবাজার ও আইপিও নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে নতুন বিনিয়োগকারী টানতে বাজারে আইপিও দরকার। কিছু কোম্পানি বিভিন্ন কারণে খারাপ করতে পারে, তাই বলে আইপিও বন্ধ হবে তা ঠিক নয়।

আইপিও হেয়ারিং প্রোসপেক্টাস থেকে জানা যায়, টেকনো ড্রাগস লিমিটেড লিমিটেড ২০০৯ সালে নিবন্ধিত হয়। তবে কোম্পানিটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে পরের বছর ২০১০ সালের ১ জুলাই। বর্তমানে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৯৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

সর্বশেষ হিসাববছরে কোম্পানিটি ১৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে। গত ৩০ জুন, ২০২৩ তারিখে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে (ইপিএস) ২ টাকা ৮ পয়সা। এসময় শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২৭ টাকা ৭৪ পয়সা।

টেকনো ড্রাগস লিমিটেড বাংলাদেশের বাজারে ক্যান্সার প্রতিরোধী ও হরমোন ওষুধের প্রধান প্রস্তুতকারক।

নরসিংদীর পরে ২০১৫ সালে বর্ধিত চাহিদা মেটাতে গাজীপুরেও অত্যাধুনিক কারখানা স্থাপন করে। বিশ্বের পঞ্চম গর্ভনিরোধক ইমপ্লান্ট প্রস্তুতকারক ও বাংলাদেশে প্রথম কোম্পানি। সবচেয়ে বড় ইনজেকশনযোগ্য হরমোন ওষুধ সরবরাহকারী বা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান; যার একমাত্র ক্রেতা সরকার।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top