পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের টাকা না পেয়ে গত অক্টোবরে কর্মবিরতি শুরু করেন। দেড় মাস পর বেতন পরিশোধের পর শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চিঠির জবাবে মঙ্গলবার কোম্পানি জানিয়েছে, ১০ ডিসেম্বর কোম্পানিটির শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন।
তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ন্যাশনাল টি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১০৪ টাকা ১০ পয়সা এবং আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৬ টাকা ২ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১৫২ টাকা ২৯ পয়সায়।
৩০ জুন, ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি ন্যাশনাল টি। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৯৬ টাকা ২৪ পয়সা এবং আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৪ টাকা ৪৭ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ১৯ পয়সায়।
২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ন্যাশনাল টির পর্ষদ। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৪ টাকা ৪৭ পয়সা এবং আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩১ টাকা ৬৮ পয়সা। ৩০ জুন, ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩১ টাকা ৬৮ পয়সা এবং আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৫ টাকা ৭১ পয়সা।
ডিএসইতে মঙ্গলবার ন্যাশনাল টির শেয়ার সর্বশেষ ১৯৮ টাকায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৭৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৫২৯ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।
গত অক্টোবরে ন্যাশনাল টি কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে চাঁদা উত্তোলনের সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সেই সঙ্গে কোম্পানিটির মূলধন বৃদ্ধির সম্মতিপত্রে উল্লেখিত শর্ত পরিপালিত হয়েছে কিনা তা যাচাই করাসহ অন্যান্য বিষয়ে তদন্ত করতে কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি।
কমিটিকে তদন্ত শেষ করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বলা হয়, কমিশনের সম্মতিপত্রে উল্লিখিত সরকারের শেয়ার ৫১ শতাংশ বৃদ্ধির শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে ন্যাশনাল টির আবেদন অনুসারে মূলধন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রদত্ত সম্মতিপত্রের মেয়াদ (শেয়ারের চাঁদা গ্রহণের সময়সীমাসহ) আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
একই সঙ্গে সংগৃহীত চাঁদার ক্ষেত্রে সরকারের শেয়ার ৫১ শতাংশ বাড়ানোর শর্ত পরিপালিত না হলে কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোম্পানিটি ওই চাঁদা ব্যবহার করতে পারবে না।
আরো বলা হয়, পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ন্যাশনাল টি গত পাঁচ বছরে সরকারি শেয়ারধারণ হ্রাসের কারণ, শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তরের মাধ্যমে ওই কোম্পানির মূলধন কাঠামোর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, শেয়ারের চাঁদা গ্রহণের সময় বাড়ানোর আবেদন প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবে শেয়ার ক্রেডিট করার কারণ, বর্তমান ঋণের দায়, তিন বছর ধরে ক্রমাগত লোকসানের কারণ, কোম্পানির শেয়ারদরের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কারণ ও মূলধন বৃদ্ধির সম্মতিপত্রে উল্লেখিত শর্ত পরিপালিত হয়েছে কিনা তা যাচাই করাসহ অন্যান্য বিষয়ে তদন্ত করতে কমিটি গঠন করেছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।