দেশজুড়ে রাজনীতির উত্তাল হওয়া বইছে। এমন দিনগুলোতে পুঁজিবাজারে বিশেষ প্রভাব পড়ছে না। উত্তাল দিলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন গত মঙ্গলবার হাজার কোটি ছাড়িয়েছে। যদিও ‘এশিয়া মহাদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের মানি মার্কেটের মিল’ নেই। তবুও খুব সংবেদনশীল মার্কেটের এই সময়ে ‘খুব বড় ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে না’ বা আশঙ্কার কোন কারণ নেই -বলেছেন রাসেল কবির।
একাধারে তিনি একজন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারী। বর্তমানে তিনি হযরত শাহ আমানত সিউিরিটেজের হেড অব ট্রেড এন্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।
রাজধানীর মতিঝিলে মঙ্গলবার দুপুরে একান্ত সাক্ষাৎকারে রাজনীতির উত্তাল দিনে তুলে ধরেন পুঁজিবাজারের আগাম চিত্র। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- শাহীনুর ইসলাম।
সেক্টরাল মুভমেন্ট হিসেবে ছোট প্রাইসের শেয়ারগুলির দাম বাড়ছে। লো-পেইডআপ ক্যাপিটালের শেয়ার ফুওয়াং ফুডসসহ আরো অনেক কোম্পানির শেয়ারদর এখন তুঙ্গে। সেক্টরাল হিসাবে যা বোঝা যাচ্ছে, ছোট প্রাইসের শেয়ারগুলোর মধ্যে কিছু সিলেকটিভ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ দিয়েছে।
আগামী সপ্তাহে আইটি সেক্টর ভালো করার আভাস দিচ্ছে। জেনারেল ইন্সুরেন্সগুলোতেও সেই বাতাস লাগার আভাস মিলেছে। আর উত্থানের পেছনের কারণ হিসেবে মাসখানের আগে একটি কারেকশন হয়েছে, করেকশনের পরে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়। তারা অনেকে টেকনিক্যালি ভিউতে হিসাব করেন।
কোম্পানির ডিভিডেন্ড আপনি টেক করেন বা না নাই করেন- দরের বিষয়টি মাথায় নিতে হবে।এই সাইক্লোজি যদি কাজ করে- ১০ থেকে দশ হাজার জনে উপকৃত হবে। শেয়ারবাজারে ঝুঁকি সব সময়ে থাকবে, তবে টেকক্যিাল অ্যানালাইসেস জানা থাকলে সেই ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব। আমি বেসিক অ্যানালাইসেসকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি, ফান্ডামেটাল অ্যানালাইসেসের বিষয়ে এখন যাচ্ছি না। সবই জানা দরকার, তবে আমি এই মুহূর্তে অ্যাডভান্স লেভেলকে বেশি গুরুত্বেও সঙ্গে দেখছি।
অভার হিটেড কি না- সামনে সেনসেটিভ কিছু আছে কী-না, তাদের ইপিএস কেমন। দেয়ার সম্ভাবনা কেমন? ফান্ডমেটাল শুধু নয়, শেয়ার সংখ্যাও জানা খুবই জরুরি। লাফার্জ, কেয়া কসমেটিকস বা এনবিএল কোম্পানির শেয়ার আমি কিনব না। কারণ কোম্পানিগুলোর বিপুল পরিমাণ শেয়ার- কোন ভাইভ আসবে না। বর্তমানে ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি টাকা।
এই মুহূর্তে এই কোম্পানির শেয়ারগুলোর প্রাইস উপরে ওঠার মতো মার্কেটের সক্ষমতা আছে কী-না ভাবা দরকার। এ কারণে ‘বাল্কি শেয়ার’ -এর পক্ষে নই।গোটা এশিয়া মহাদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের মানি মার্কেটের মিল পাবেন না।
বাংলাদেশের মার্কেট খুব সংবেদনশীল, সেনসেটিভ। তাই সতর্ক হয়েই বিনিয়োগ করতে হবে, মুনাফাও তুলে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে- কেনার সময় যদি মুনাফা করতে পারেন বিক্রির সময়ও পারবেন।
© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)