Print

সর্বশেষ সংবাদ | Daily Stock BD

১০ ব্যাংকের যৌথ বিনিয়োগে আসছে ‘ডিজি টেন ব্যাংক পিএলসি’

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১০, ২০২৩ , ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০২৩, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার

সিনিয়র রিপোর্টার: যৌথভাবে ১০টি ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। কাজ করবেও তারা একসঙ্গে। যৌথভাবে প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংকটির নাম হবে ‘ডিজি টেন ব্যাংক পিএলসি।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এসব ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শিগগিরই মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা ব্যাংকগুলোর একাধিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন। কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে অনুমোদন নিয়ে ডিএসইর মাধ্যমে পিএসআই প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরপরে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুমোদনের জন্য আবেদন করবে।

গত জুন মাসে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১ আগস্ট আবেদনের শেষ তারিখেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমন সময়ই ১০ ব্যাংকের এ উদ্যোগের কথা জানা গেল।

প্রস্তাবিত ‘ডিজি টেন ব্যাংক পিএলসি’তে মালিকানায় অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংকে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমটিবি। মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ করে বিনিয়োগকারীদের জানিয়ে দেব আগামী কার্যদিবসের মধ্যে।

ডিজিটাল ব্যাংকে বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে সিটি ব্যাংকও। বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে ব্যাংকটি জানায়, প্রস্তাবিত ‘ডিজি টেন ব্যাংক পিএলসি’তে ১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন হবে ন্যূনতম ১২৫ কোটি টাকা। সিটি ব্যাংক বিনিয়োগ করলে তা হবে ডিজিটাল ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের ১১.১১ শতাংশ। অর্থাৎ এই ব্যাংকে সিটি ব্যাংকের শেয়ার থাকবে ১১.১১ শতাংশ।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রস্তাবিত ‘ডিজি টেন ব্যাংক পিএলসি’তে বিনিয়োগ করবে সিটি ব্যাংক।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক ছাড়া কনসোর্টিয়ামে আরও আট ব্যাংক যোগ দিতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার তিনটি ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক ডেকেছে প্রস্তাবিত ‘ডিজি টেন ব্যাংক পিএলসি’-বিনিয়োগ অনুমোদন করতে।

১০ ব্যাংকের এই কনসোর্টিয়ামের বাইরেও ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’-এ বিনিয়োগ করার কথা ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে ৫১ শতাংশের মালিকানা হবে ব্র্যাক ব্যাংকের। সব মিলিয়ে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় এখন পর্যন্ত ১১টি ব্যাংক বিনিয়োগে আগ্রহের কথা জানাল। ১০ ব্যাংক মিলে দীর্ঘমেয়াদি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাংলাদেশে এই প্রথম।

গত জুন মাসে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে অনলাইনে আবেদন নিতে ওয়েবপোর্টাল চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় অন্যান্য শর্তের মধ্যে উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ১২৫ কোটি টাকা ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন থাকার কথা বলা হয়, যেখানে প্রচলিত ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকা। উদ্যোক্তা হতে চাইলে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার শেয়ার ধারণ থাকতে হবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ সর্বশেষ সংশোধনী (২০২৩)-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্য বা প্রতিষ্ঠান, একক বা যৌথভাবে কোনো ব্যাংকের মোট শেয়ারের ১০ শতাংশের বেশি ক্রয় করতে পারবে না। ডিজিটাল ব্যাংকের মালিকানার বেলায়ও ব্যাংক কোম্পানি আইন প্রযোজ্য হওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংকের ৫ শতাংশের বেশি মালিকানা পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

ডিজিটাল ব্যাংক করার জন্য সিটি ব্যাংক যে আটটি ব্যাংকের সঙ্গে জোট বা কনসোর্টিয়াম গঠন করেছে সেগুলো হচ্ছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি), ইস্টার্ণ ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল), ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিবিএল), ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক (এনসিসিবি) ও মিডল্যান্ড ব্যাংক। ডিজিটাল ব্যাংক গঠনে ৯ ব্যাংকের প্রতিটি প্রায় ১৪ কোটি টাকা করে মোট ১২৬ কোটি টাকা মূলধন জোগান দেবে।

এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, আমাদের কনসোর্টিয়ামের অন্য ব্যাংকগুলোর নাম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোই জানাবে। আমি শুধু বলতে পারি যে আমরা দেশ সেরা নয়টি ব্যাংক মিলে এই কনসোর্টিয়াম গঠন করেছি। আমাদের সম্মিলিত গ্রাহকসংখ্যা এখনই প্রায় ৫ কোটি। আমরা যারা এ উদ্যোগে একত্র হয়েছি, তারা সবাই ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় অনেক এগিয়ে রয়েছি।

মাসরুর আরেফিন বলেন, কনসোর্টিয়ামে থাকা প্রতিটি ব্যাংকের ওপরই এ দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অগাধ। আমরা দেশ সেরা এই ৯ ব্যাংক যদি লাইসেন্স পাই, তাহলে ডিজিটাল ব্যাংকিং নিয়ে সরকারের স্বপ্ন আরও সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকিংয়েরও একটা পরবর্তী পর্যায় বলে কথা আছে। এই যুগে ও সময়ে সেই পরবর্তী পর্যায়টা নিঃসন্দেহে ডিজিটালি সব সেবা দেওয়ার পর্যায়। সে পর্যায়ে ওঠার জন্যই আমাদের ৯ ব্যাংকের একত্র হওয়া।

  • ‘ডিজিটাল ব্যাংক’ খোলার আবেদন করার সুযোগ ১৬ দিন বাড়ল

© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)