Print

সর্বশেষ সংবাদ | Daily Stock BD

পিপলস লিজিং: এক দিনে চার এজিএম করে ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন চেয়ারম্যান

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ২৯, ২০২৩ , ১২:২১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ডিসেম্বর ২৯, ২০২৩, ১২:২১ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার

জমানো টাকা ফেরত না পাওয়ায় মাঝেমধ্যেই রাস্তায় নামছেন বন্ধ হয়ে যাওয়া পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএস) আমানতকারীরা। টাকা ফেরত না পেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আমানতকারীরা। এর মধ্যে চার বছরের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করে এক দিনেই সম্মানী বাবদ ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হাসান শাহেদ ফেরদৌস। এ ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের সম্মানী কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করে দিয়েছেন আদালত।

আমানতকারীর জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারায় ২০১৯ সালের জুলাইয়ে পিপলস লিজিং অবসায়নের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন প্রতিষ্ঠানটিতে আমানতকারীদের জমা টাকা ছিল ২ হাজার ৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। আইন অনুযায়ী যে কোনো প্রতিষ্ঠান অবসায়নের জন্য আদালতের অনুমতি নিতে হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই সাময়িক অবসায়ক নিয়োগ দেন আদালত। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা এ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে অবসায়ন প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে চালু করার উদ্দেশ্যে ওই বছরের ১২ জুলাই উচ্চ আদালত একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেন।

তবে বিভিন্ন পর্যায়ে পিপলস লিজিংয়ের পর্ষদ থেকে অনেকে পদত্যাগ করেছেন। সবশেষ পদত্যাগ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) কাজী তৌফিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম রানা এফসিএ। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হাসান শাহেদ ফেরদৌস। তিনিসহ ছয়জন পরিচালক এবং একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক রয়েছেন।

জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে পিএলএফএসের এজিএম হয়নি। এরপর আদালত মনোনীত পর্ষদও এজিএম আয়োজন করেনি। এ পরিস্থিতিতে নিয়ম রক্ষার জন্য গত ২৯ অক্টোবর এক দিনেই ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে চার বছরের বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) আয়োজন করা হয়।

২০১৮, ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালের জন্য ওই এজিএম করা হয়। এক দিনের ওই সভার জন্য সম্মানী বাবদ ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন আদালত থেকে মনোনীত প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হাসান শাহেদ ফেরদৌস। এক দিনের এজিএমে এত টাকা নেওয়ায় পর্ষদ সদস্যদের কেউ কেউ এ বিষয়ে আপত্তি তোলেন। কোনো কোনো পরিচালক সম্মানীই নেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়।

জানা গেছে, আদালতের আগের নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিটি বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিতির জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং এজিএমের জন্য তিন লাখ টাকা নিতে পারবেন চেয়ারম্যান। আর প্রত্যেক পরিচালক প্রতিটি এজিএমের জন্য ১ লাখ টাকা এবং পর্ষদ সভাপ্রতি ২৫ হাজার টাকা নিতে পারবেন। তবে এক দিনেই চার এজিএম করে চেয়ারম্যান ১২ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর সম্মানী অনেক কমিয়ে নতুন করে নির্ধারণ করেছেন আদালত। এখন থেকে পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালক এজিএমপ্রতি ২৫ হাজার এবং পর্ষদ সভাপ্রতি ১০ হাজার টাকা নিতে পারবেন। ১২ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।

এক দিনেই চার এজিএম করে ১২ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান শাহেদ ফেরদৌস বলেন, এখানে বিতর্কের কিছু নেই। আদালত থেকে অনেক আগেই এ সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ হয়েছে। একেকটা এজিএমের জন্য অনেক পরিশ্রম আছে। এটা নিয়ে কেউ কথা তুলতে পারে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিচ্ছে। এরই মধ্যে ৪০ কোটি টাকার মতো ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির হাতে দেড়শ কোটি টাকার মতো নগদ আছে। ৩০ কোটি টাকার মতো আমানত রাখা হয়েছে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন সভায় উপস্থিত হয়ে একজন পরিচালক কত টাকা সম্মানী নিতে পারবেন, তা নির্ধারিত আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থিতির জন্য চেয়ারম্যানসহ একজন পরিচালক আট হাজার টাকা সম্মানী নিতে পারেন। মাসে সর্বোচ্চ চারটি সভার জন্য এ সম্মানী নেওয়া যায়। আর এজিএমে উপস্থিতির জন্য আলাদা কোনো সম্মানী পান না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পরিদর্শনে উঠে আসে, পিপলস লিজিং থেকে বিতরণ করা ঋণের সিংহভাগই জালিয়াতির মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবশেষ ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন দেশ থেকে পলাতক এবং ভারতে আটক প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদার।

© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)