ব্যাংক খাতের আলোচিত গ্রাহক এননটেক্স গ্রুপের বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি করে দুই বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিল জনতা ব্যাংক। ব্যাংক, ঋণগ্রহীতা ও ক্রেতা– তিন পক্ষের মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে ভেঙে ভেঙে কিংবা একসঙ্গে পুরো জমি বিক্রি করা যাবে। যে উপায়েই জমি বিক্রি হোক, প্রথমে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ হবে।
এভাবে গ্রুপটির ১৮ প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা ৫ হাজার কোটি টাকা দুই বছরের মধ্যে আদায় করতে চায় ব্যাংক। ২০২৫ সালের মধ্যে পাওনা শোধের পর জমি অবশিষ্ট থাকলে তার মালিকানা এননটেক্সকে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এননটেক্স গ্রুপসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ নিয়ে চাপে রয়েছে জনতা ব্যাংক। ঋণ আদায়ের জন্য এননটেক্স গ্রুপকে বড় অঙ্কের সুদ মওকুফ সুবিধা দিয়েছিল ব্যাংক। ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এননটেক্স গ্রুপের কাছে আরোপিত, অনারোপিত সুদসহ ব্যাংকের পাওনা ছিল ৮ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। এককালীন ঋণ পরিশোধ সুবিধার (ওয়ান টাইম এক্সিট) আওতায় ৩ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা সুদ মওকুফ করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
সুদ মওকুফ-পরবর্তী ৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করার শর্ত দেওয়া হয়। তাতে ব্যর্থ হয় এননটেক্স গ্রুপ। নতুন করে সুদ যোগ হয়ে এখন এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৯৬০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময় দিল ব্যাংক।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এননটেক্স গ্রুপের ২২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একই সীমানায় অবস্থিত এই ১৮টি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণের বিপরীতে আশুলিয়া ও টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন প্রায় ১২৮ একর জমি ব্যাংকের কাছে বন্ধক রয়েছে। এখন এই জমি বিক্রি করে আগামী দুই বছরের মধ্যে পুরো ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ভেঙে ভেঙে কিংবা একবারে সব জমি বিক্রি করা যাবে। যখন যে অংশ বিক্রি হবে ওই পরিমাণ জমির কাগজ ছাড় করা হবে। পুরো ঋণ পরিশোধের পর যদি জমি থাকে তখন তার মালিকানা পাবে এননটেক্স।
জনতা ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে প্রকল্পটির দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। মেট্রোরেলের কারণে ওই এলাকার জমির দর দ্রুত বাড়ছে। ফলে জমি বিক্রি করে ঋণের পুরো টাকা আদায় করা সম্ভব। এসব বিবেচনায় জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক এক সভায় শর্তসাপেক্ষে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধের অঙ্গীকার হিসেবে প্রথমে গ্রুপটিকে ৩০ কোটি টাকা জমা দিতে হবে। ঋণ পরিশোধ শুরুর পর টানা দুটি কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে আবার সুবিধা বাতিল হবে।
তিনি বলেন, এভাবে সুযোগ না দিয়ে নিলাম ডেকে বিক্রি করতে সাধারণত ক্রেতা পাওয়া যায় না। আবার আইনি প্রক্রিয়ায় অনেক সময় ঝুলে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। যে কারণে এক ধরনের সমঝোতার ভিত্তিতে ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংক উপকৃত হবে।
এননটেক্স গ্রুপের মালিক ইউনুস বাদল বলেন, জনতা ব্যাংকে ঋণের বিপরীতে তাদের বিশাল জায়গা-জমি বন্ধক দেওয়া আছে; যার বাজারমূল্য ব্যাংক ঋণের চেয়ে অনেক বেশি। ব্যাংক মনে করেছে জমি বিক্রি করে ঋণ শোধ করা যাবে। তাই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে জমি বিক্রিতে তাদের আপত্তি নেই। তিনি ব্যাংকের টাকা দ্রুত পরিশোধ করে দিতে চান। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়তো বছর দুয়েক লাগবে। জমি বিক্রির টাকায় প্রথমে ব্যাংকের ঋণ শোধ হওয়ার পর বাকিটা তিনি পাবেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, করোনা মহামারির পর দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা এবং ঋণ না পাওয়ায় গেল কয়েকটি বছর তাদের জন্য অনুকূলে ছিল না। টাকার অভাবে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো সংকটের মুখে রয়েছে। যে কারণে সুদ মওকুফ সুবিধা নিয়েও তিনি পুরো ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি।
আইএমএফের শর্ত মেনে ২০২৬ সালের মধ্যে সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে নামানোর অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত যেখানে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ রয়েছে ১৭ হাজার ৫০১ কোটি টাকা, যা ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ রয়েছে ৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা। এননটেক্স, ক্রিসেন্ট লেদার, বিসমিল্লাহ গ্রুপসহ কয়েকটি আলোচিত গ্রুপ এই ব্যাংকের খেলাপি।
© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)