রোগাক্রান্ত আর্থিক খাত সংস্কারে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। ব্যাংকগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করতেই এই অর্থায়ন করবে উন্নয়ন সহেযাগী প্রতিষ্ঠানটি। মূলত বাধ্যতামূলকভাবে তিনটি শর্তের সংমিশ্রনে আর্থিকখাত সংস্কারে সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক।
সেজন্য অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (একিউআর) করতে হবে। ইতোমধ্যে শুদ্ধাচার ফেরাতে শর্ত পরিপালনে বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছে। তবে আইএমএফ এখনো কোন শর্ত দেয়নি। প্রতিনিধিদল ফেরত যাওয়ার পরে অর্থায়নের বিষয়ে জানাবে।
সংস্কারের মধ্যে রয়েছে- ব্যাংকের ইউনিফাইড বেনিফিশিয়ারি ওনার্সশিপ (ইউবিও) কারা (শেয়ার মালিক) তা প্রকাশ করতে হবে। সব ধরনের ব্যাংকগুলোকে ইউবিও তালিকা প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সজ্ঞা নির্ধারণে (এনপিএল) তালিকায় থাকতে হবে এবং দেশের সব ব্যাংকগুলোকে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জবাবদিহিতার আওতায় আনার শর্ত দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের গভর্নর ব্যাংক খাত সংস্কারে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। আপতত তিনটি শর্তের আপাতত বিকল্প দেখছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা নিদের্শনার আলোকে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদল গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক পারিদর্শন করেছে।
বিশ্বব্যাংকের শর্ত সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও মুখপাত্র হোসনে আরা শিখা বলেন, ব্যাংক খাত সংস্কারে ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। আরো কিছু কাজের পাশাপাশি অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ করতে হবে। তবে আইএমএফ এখনো কিছু জানায়নি। তারা ফেরত গিয়ে অর্থায়নের বিষয়ে জানাবে।
অন্য একটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ চায় চার বিলিয়ন ডলার কিন্তু আইএমএফ তিন বিলিয়ন ডলার দিতে চায় বলে তথ্য জেনেছি। তবে তারা ফেরত দিয়ে পরিমাণ জানাবে বলে জেনেছি বলেন হোসনে আরা শিখা।
৫ ব্যাংকের তারল্য সমাধান সম্পর্কে তিনি বলেন, কিছু সবল ব্যাংক দুর্বল ব্যাংকগুলোকে অর্থায়ন করতে চায় না। ইতোমধ্যে ৫ ব্যাংকের চুত্তি হয়েছে, আজকেই (গতকাল) বিকালে হওয়ার কথা রয়েছে। না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ৮ ব্যাংকের এমডি নিয়োগ সম্পর্কে হোসনে আরা শিখা বলেন, এটা গভর্নরের বিষয়। আমাদেও সরকার প্রধান দেশে ফিরলেই একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এদিকে, বিশ্বব্যাংকের দুটি সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে গতকাল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শর্ত সাপেক্ষে সব ধরনের সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)। এ অর্থ পাওয়া গেলে ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংস্কারে ব্যয় হবে। যদিও ঋণ সহায়তার পরিমাণ কত তা জানাননি অর্থ উপদেষ্টা। অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে ঋণের পরিমাণ চূড়ান্ত হবে বলে জানানো হয়েছে। সচিবালয়ে দুই সংস্থার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন।
অবশ্য এর আগে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় সাইডলাইন বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বিশ্বব্যাংক সাড়ে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন খাতে সংস্কার সহযোগিতায় বাংলাদেশকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে এই ঋণ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)