মো. সাইফুল ইসলাম: দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। পরিবর্তিত সরকারের নতুন ও বিচক্ষণ কমিশন উদ্বেগের সেই কারণগুলো খুঁজে নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। লক্ষ্য- বাজার উন্নয়ন, তারল্যের সরবরাহ বৃদ্ধি ও আস্থার উন্নয়ন। উদ্বেগের পরিস্থিতির উন্নয়ন ও মোকাবেলায় কিছু সংস্কার করা বাধ্যতামূলক। তার মধ্যে নতুন প্রস্তাবনা হলো- শর্ট সেলিং এবং T+1 সেটেলমেন্ট প্রবর্তন করা যেতে পারে।
বিশ্বের অধিকাংশ দেশের উন্নত বাজারে যা রয়েছে। এতে বাজারের ঝুঁকি কমাতে ও বিনিয়োগকারীদের আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে। অন্যদিকে শর্ট সেলিং চালু করলে ম্যানিপুলেশনকারী শেয়ারের কৃত্তিম সংকট তৈরী করতে পারবে না। নতুন ব্যবস্থায় পুঁজিবাজারে তারল্য বৃদ্ধি পাবে।
যা বিনিয়োগকারীসহ সবার মঙ্গল। নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-
শর্ট সেলিং প্রবর্তনের প্রস্তাবনা
দেশের পুঁজিবাজার শুধুমাত্র লং-অনলি। ফলে ম্যানিপুলেশনকারীরা শেয়ারের কৃত্তিম সংকট তৈরী করে দাম বাড়িয়ে মুনাফা নিয়ে শেয়ার বিক্রি করে। শর্ট সেলিং চালু করলে ম্যানিপুলেশনকারী শেয়ারের কৃত্তিম সংকট তৈরী করতে পারবে না। দামও বাড়াতে পারবে না। শর্ট সেল থাকলে তারল্য বৃদ্ধি পায়।
যিনি আজ সাপ্লাই সাইডে, পরবর্তীতে তিনি আবার ডিমান্ড সাইডে আসেন। ফলে একাধারে মার্কেট পড়তে পারে না, এতে বাজার অনেক স্থিতিশীল হয়। শর্ট সেলিং থাকলে বিনিয়োগকারীরা দাম বাড়লে বা কমলে উভয় ক্ষেত্রে লাভ করে টিকে থাকতে পারে। এটি বাজারকে স্বাভাবিক ভারসাম্যে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং বিনিয়োগকারীদের আরও নমনীয় কৌশল গ্রহনের সুযোগ দেবে।
বিশ্বের সকল উন্নত বাজারে, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (NYSE) বা লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে (LSE), শর্ট সেলিং দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যা বাজারের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশেও এই ব্যবস্থা চালু করা হলে পুঁজিবাজারে তারল্য বৃদ্ধি পাবে এবং ম্যানিপুলেশন কমবে।
T+1 সেটেলমেন্ট পদ্ধতির প্রবর্তন
ব্যাংকিং সেক্টরে এখন ‘আরটিজিএস’ ও ‘বিইএফটিএন’ সুবিধা চালু হয়েছে, কাজেই দ্রুত ক্যাশ সেটেলমেন্ট সম্ভব। বর্তমানে আমাদের বাজারে A ও B এবং N ক্যাটাগরির শেয়ারে T+2 সেটেলমেন্ট পদ্ধতি চালু রয়েছে- যা লেনদেনের ক্ষেত্রে সময় বেশি নেয়। বিশ্বব্যাপী উন্নত বাজারগুলোতে T+1 সেটেলমেন্ট সিস্টেম চালু রয়েছে, যা লেনদেনের কার্যক্রমকে দ্রুত করে।
T+1 পদ্ধতি প্রবর্তন করা হলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ অন্য লেনদেন করতে পারবেন। তারল্য সমস্যার সমাধান আসার বিশেষ সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়াও, এটি বাজারের ঝুঁকি কমাতে এবং বিনিয়োগকারীদের আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে।
T+1 সেটেলমেন্টের মাধ্যমে কম সময়ে লেনদেন সম্পন্ন হলে বাজারের তারল্য ও স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।
পুঁজিবাজার সঙ্কট নিরসনে, বর্তমান সময়ে শর্ট সেলিং ও T+1 সেটেলমেন্ট পদ্ধতি চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এই দুটি ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে শেয়ারের কৃত্তিম সঙ্কট কাটবে, বাজারের তারল্য বৃদ্ধি পাবে, স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে, যা আমাদের পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রস্তাবগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)