Print

সর্বশেষ সংবাদ | Daily Stock BD

ইসলামী ব্যাংকের ১৬০ কোটি শেয়ার বিক্রির ত্রিপক্ষীয় সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২৩, ২০২৪ , ৯:২২ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২৪, ৯:২২ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার

বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল দেশের শরিয়াভিত্তিক সাতটি ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পরে আর্থিক সংকটে থাকা ৭টিসহ মোট ১১টি ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর মধ্যে শুধু ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রায় ১৬০ কোটি শেয়ার এস আলম গ্রুপের নামে-বেনামে রয়েছে। মূলধন সংগ্রহে সেসব শেয়ার বিক্রি এবং নতুন করে শেয়ার ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

মূলধন বাড়াতে এবং এস আলমের নিষিদ্ধ সব শেয়ার বিক্রির আলোচনা এগিয়েছে। ইতোমধ্যে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে ত্রিমুখী আলোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশনের বিশেষ একটি সূত্র। বাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়লে নতুন বছরে শেয়ার ছাড়াও সিদ্ধান্ত আসার আভাস দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ বিষয়ে এখনো কিছু বলছে না।

এস আলম গ্রুপ ও এর সহযোগীরা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের বিতরণ করা ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকার অর্ধেকের বেশি ঋণ নিয়েছে। তার বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকের ১৬০ কোটি শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তর নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই শেয়ার বিক্রি করে ১০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ। মূলধন বৃদ্ধি করতে আরও শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে শেয়ারবাজার থেকে আরও ২০ হাজার কোটিসহ মোট ৩০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের কথা জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে মোট ২০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপের ১৬০ কোটি বিক্রি এবং নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করবে ব্যাংকটি।

গভর্নরের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, এস আলম গ্রুপের খপ্পরে পড়ার পর ব্যাংকটিতে সুশাসন ছিল না। ফলে আইএফসি ও আল-রাজি সৌদি গ্রুপের মতো বিদেশি শেয়ারহোল্ডাররা তাদের শেয়ার বিক্রি করে দেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন করে তাদের আহ্বান জানানো হবে। তারা বিনিয়োগ করতে চাইলে যাচাই-বাছাই করে আমরা নেব। তবে জানুয়ারির মধ্যে তাদের আবার বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ব্যাংকটিতে বিদেশি শেয়ারের পরিমাণ ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০১৭ সালের এস আলমের কবলে পড়ার আগে ছিল ৭০ শতাংশ। বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), আল-রাজি কোম্পানি, সৌদিভিত্তিক কোম্পানি আরবসাস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিস্ট এজেন্সি এবং সৌদি আরবের নাগরিক ইউসুফ আবদুল্লাহ আল-রাজি ও আবদুল্লাহ আবদুল আজিজ আল-রাজি গত বছর তাদের পুরো শেয়ার বিক্রি করে ব্যাংকটির বোর্ড ছাড়েন।

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, এস আলম ও তার সহযোগীরা সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক। ইসলামী ব্যাংকের ১৬০ কোটি শেয়ার আছে। শেয়ারপ্রতি প্রায় ৫৩ টাকা হিসেবে যার বাজারমূল্য ৮ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। চট্টগ্রামভিত্তিক বিতর্কিত এ ব্যবসায়ী গ্রুপটি ব্যাংকটির প্রায় ৮০ শতাংশ শেয়ারের মালিক এবং ছদ্মনাম ব্যবহার করে শেয়ার কিনে নিজেদের অংশীদারত্বকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।

বিশিষ্ট ব্যাংকার ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান বলেন, পুনর্গঠিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ যে উদ্যোগ নিয়েছে তার উদ্দেশ্য ভালো। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন করে আস্থা ফেরানোর চেষ্ট করছে তারা।

তিনি বলেন, তবে শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। বিকল্প হিসেবে সরকার যদি নিয়ম-নীতি মেনে শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বিক্রি করে তাহলে ব্যাংক কিছুটা স্বস্তি পাবে।

তবে সুশাসনের অভাব দেখার পর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবারও ফিরতে রাজি হবেন কি না, তা সময়ের ব্যাপার বলেন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এস আলম গ্রুপ এবং এর সহযোগীরা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের বিতরণ করা ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকার অর্ধেকের বেশি ঋণ নিয়েছে

© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)