Print

সর্বশেষ সংবাদ | Daily Stock BD

ডরিন পাওয়ারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ৬, ২০২৫ , ১:০৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ৬, ২০২৫, ১:০৬ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার

ডরিন পাওয়ারের ‘গোপনে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বিক্রি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের বিরুদ্ধে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গঠিত ‘তদন্ত কমিটি অনুসন্ধান শুরু’ করেছে বলে জানিয়েছে বিএসইসির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র।

২০০৭ সালে তত্তাবধায়ক সরকারে আমলে ডরির পাওয়ারের ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন শুরু হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রগুলোর মেয়াদ শেষ হলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করে ‘স্ক্রাব হিসেবে’ দুটি কেন্দ্রের সব মালামাল বিক্রি করে দেয় পাওয়ার কর্তৃপক্ষ।

১৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বিএসইসির যুগ্ম পরিচালক অনু দে-কে কমিটির প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুজন সদস্য হলেন- সহকারী পরিচালক ফারুক আলম ও সহকারী পরিচালক জনি হক। তদন্ত শেষে আগামী ৬০ দিবসের মধ্যে অনুসন্ধানের প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে বিএসইসি।

একই সঙ্গে তদন্তে সহায়তা করতে ডরিন পাওয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি পাঠায় বিএসইসি। সেই চিঠি হস্তগত করে জবাব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডরিন পাওয়ার কর্তৃপক্ষ। কমিটির প্রধান বিএসইসির যুগ্ম পরিচালক অনু দেসহ তিন সদস্য ডরিন পাওয়ারের বিক্রি হওয়া দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রস্থল পরিদর্শন করেছে।

তবে মাহে রমজান শুরু হওয়ায় অনুসন্ধানের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। যার কারণে তৃতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন এখনো হয়নি। তবে শিগগিরই পরিদর্শন করা করা হবে বলে জানিয়েছে ডরিনের দায়িত্বশীল আরেকটি একটি সূত্র।

তদন্ত কমিটিকে সহায়তা করতে ‘ডিএসইতে প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্যসহ অন্যান্য নথিজাত সব তথ্য’ সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডরিন পাওয়ার কর্তৃপক্ষ। তবে ‘চলমান তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান নিয়ে’ কর্তৃপক্ষ কোন মন্তব্য করতে রাজী নয়।

তবে ডরিন পাওয়ারে বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, ‘ডিএসইকে জানিয়ে এসব মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। কোম্পানির মোট সম্পদের ৫০ শতাংশ হলে এজিএম বা ইজিএমের প্রয়োজন পড়ে। তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীর অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। তার নিচে হলে প্রয়োজন পড়ে না।

তাই ডরিনের উদ্যোক্তাপরিচালক কোম্পানির মোট সম্পদের মাত্র ২.৪৬ শতাংশ বিক্রি করেছে। তবে বিক্রি করতে সংবাদপত্রে তথ্য প্রকাশ এবং উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। অন্যদিকে, পাওয়ার প্লান্টের ইঞ্জিন দুর্বল হওয়ায় পিডিবি অনাগ্রহী হয়ে পড়ে। গ্যাস সরবরাহের বিপরীতে উৎপাদন অনেক কম ছিল।’

ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড আওয়ামী লীগ পরিবারের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানি। যার নেতৃত্বে যশোরের নূরে আলম সিদ্দিকীর পরিবার। প্রতিষ্ঠানের ৬৬ মেঘাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র কাগজে থাকলেও এখন উৎপাদনে নেই।

ঝিনাইদহে জামায়াতে ইসলামির কর্মী আবদুস সালামকে হত্যার ১১ বছর পরে মামলার প্রধান আসামি করে তাকে আটক করা হলেও পরে জামিনে বের হন তিনি। ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপরে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত ছিলেন তিনি।

তার বাবা নূরে আলম সিদ্দিকী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ছিলেন। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাঞ্চনপুরের উত্তরপাড়ায়।

© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)