পুঁজিবাজারের মতো পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ভেতরেও অদ্ভূত রকমের অস্থিরতা শুরু হয়েছে। শিবলী কমিশনের আমলে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে গত মঙ্গলবার বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার প্রতিবাদ তীব্র হয়ে ওঠে।

প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে জুনিয়র কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ করেন কমিশন ভবন। ভবনে প্রবেশ ও বাহির বন্ধ করার ঘটনায় দুপুরে অবস্থান নেয় পুলিশ ও সেনা সদস্যরা। তাদের লাঠিচার্জে অন্তত ১০ জন আহত হয়। উদ্ভূদ পরিস্থিতির মুখে দুপুরের পরে সেনা সদস্যদের সহযোগিতায় কর্মস্থল ত্যাগ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকারে আমলে নিয়োগ পাওয়া বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগ দাবি জোরালো হয়ে উঠে এবং বিকালে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। ঢাকার আগারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে কর্মবিরতীর ঘোষণা করেন বিএসইসির আন্দোলনরত কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার সংস্থাটিতে কাজ হচ্ছে না। পুরো পরিস্থিতি নিয়ে কর্মকর্তারা-কর্মচারীরা নিজেদের মধ্যে আলাপ–আলোচনা করছেন। আজ বেলা ১১টায় বিএসইসি কার্যালয় ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ সংস্থাটির দ্বিতীয় তলায় মাল্টিপারপাস হলে একত্র হয়েছেন। নির্বাহী পরিচালকেরাসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিএসইসি ভবনের ষষ্ঠ তলায় সভায় মিলিত হয়েছেন। ভবনের পঞ্চম তলায় বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের তলায় একদম সুনসান নীরবতা।
নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসর
সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যানসহ ৩ কমিশনারের পদত্যাগ দাবি
কমিশন ভবনে লাঠিচার্জে আহত অন্তত ১০ জন
বিএসইসি ভবনে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা: সেনাসদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাহারায় দুপুরের পরে রাশেদ মাকসুদ ও কমিশনের সদস্যরা কার্যালয় ছাড়ার সময় তার পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তার আগে গতকাল বেলা ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিএসইসির মূল ফটক বন্ধ ছিল। কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। এ সময় কমিশনের চেয়ারম্যানসহ অন্য কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
পরে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী হাজির হন। সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল এসে বাইরে অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশের একটি দলও ছিল। তারা কমিশনের নিারপত্তাকর্মী ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ‘গেটের ওপর দিয়ে ভেতরে ঢুকে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে অন্তত ৮-১০ জন আহত হন’ বলে অভিযোগ করেন কমিশনের কমকর্তারা।
এ বিষয়ে তথ্য জানতে নতুন মুখপাত্র মো. আবুল কালামের মোবাইল ফোনে একাধিকার কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। অন্তর্র্বতী সরকারে আমলে বিএসইসির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে চলছেন। একই সঙ্গে তথ্য না দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর দাপ্তারিক আদেশ দেয় বিএসইসি চেয়ারম্যান। তার পরদিনই গতকাল এই ঘটনা ঘটে। মূল ফটকে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা বলছেন, কিছু কর্মকর্তা প্রতিটি ফ্লোরের কাচের ফটকগুলোও বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই এক ফ্লোরের কর্মচারিরা অন্য ফ্লোরে যেতে পারছেন না।
নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএসইসির মুখপাত্র ছিলেন। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর গত অগাস্টে তাকে অন্য বিভাগে পাঠানো হয়। সর্বশেষ নভেম্বরে তাকে করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগে বদলি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগ দাবি: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন বিএসইসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। চেয়ারম্যান এবং তিন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে বুধবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
আগাগাঁওয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অফিসে বুধবার বিকালে কমিমনের পদত্যাগ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সম্মেলনে বলা হয়, আজকের (গতকাল) মধ্যে কমিশন পদত্যাগ না করলে কাল (আজ) থেকে বিএসইসির সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মবিরতি পালন করবেন।
© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)