পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঢাকার অফিসে বৃহস্পতিবার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনারের পদত্যাগ দাবির মুখে কর্মবিরতী চলাকালে বিকালে ‘অন্যায় দাবির মুখে পদত্যাগ করবেন না’ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাসুদ।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার কমিশনের নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে ‘অতৈনিকভাবে’ বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর দাপ্তারিক আদেশ দেয় বিএসইসি চেয়ারম্যান। তার পরদিনই গত বুধবার ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে আন্দোলনে নামেন কমিশনের জুনিয়র কর্মকর্তারা। এ সময় পুলিশ ও সেনা সদস্যরা লাঠিচার্জ করলে অন্তত ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় এদিন বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে ‘চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনারের পদত্যাগ’ না করা পর্যন্ত কর্মবিরতীর ঘোষণা দেন তারা।
চলমান কর্মবিরতীতে গতকাল দুপুরের পরে থমথমে পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা এনে আন্দোলনকারীদের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম সংবাদিকদের কাছে দাবির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে পদত্যাগ না করলে আমরা সবাই কর্মবিরতিতে যাব। আমরা অফিসে আসব, কাজ করব না।’
নিয়ন্ত্রক সংস্থা অচলাবস্থার দ্রুত সমাধান চায় ডিবিএ
পদত্যাগ না করলে অফিসে আসব, কাজ করব না
মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমরা এক দফা দাবি দিয়েছি। তিন কমিশনার এবং চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করতে হবে। তারা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কর্মবিরতী চলমান থাকবে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর পুঁজিবাজার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থায় সুদিন ফেরেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংক পেয়েছে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, আর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পেল একটি অনভিজ্ঞ কমিশন। বর্তমান কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ অন্যান্য কমিশনারদের পুঁজিবাজার নিয়ে কোনো ধারণা নেই, বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি পুঁজিবাজারের উন্নতি ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের সদিচ্ছাও নেই।
এরপরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাসুদ বলেন, ‘সরকারের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আমাদের সরকার এখানে পাঠিয়েছেন একটা মিশন দিয়ে; সেই মিশন থেকে আমরা একচুল পরিমাণ সরব না। কোনো ধরনের অন্যায় দাবির কাছে আমরা মাথা নত করব না। আমরা যেই কাজটা নিষ্ঠার সাথে এবং নিয়মনীতির সাথে করে যাচ্ছি, সেই কাজটা আমরা করে যাব।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে সরকার আমাদের সাথে কথা বলেছে। আমাদেরকে বলেছে- আমরা যে কাজগুলা করছি, সেগুলো আরো যাতে জোরদারভাবে করতে পারি। সেই কাজটা করে যাব, এটুকুই আমরা বলব।’
সরকার বলতে কার সাথে কথা বলেছেন, এ প্রশ্নের উত্তরে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা সরকারের সাথেই কথা বলেছি তো।’ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে আছে, তাহলে আপনি কাদের নিয়ে কাজ করবেন। তাদের দাবি পুরো কমিশন অযোগ্য এবং পুঁজিবাজার নিয়ে আপনাদের কোনো ধরনের জ্ঞান নেই – এমন প্রশ্নের উত্তরে রাশেদ মাকসুদ বলেন, ‘আমি আসলে এই ধরনের কমেন্টের কোন উত্তর এখনো দেইনি, আগেও কখনো দেইনি, এখনো দেবো না।’
আগে যারা বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ছিলেন, অচলাবস্থা সৃষ্টিতে তাদের কি কোনো ভূমিকা রয়েছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের তদন্ত তো সমস্ত কিছু ২০২৪ সাল পর্যন্ত- যে সমস্ত অনিয়ম এবং দুর্নীতি হয়েছে। এটাতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের অবশ্যই সেখানে তাদের ইন্টারেস্ট আছে- এই তদন্ত যাতে ব্যাহত হয়।’
আন্দোলনকারীরা যদি কাজে না ফেরেন- এ প্রশ্নের উত্তরে কমিশনার ফারজানা লালারুখ বলেন, ‘আমরা আহ্বান জানাব- ওনাদেরকে কাজে ফিরে আসার জন্য। চেয়াম্যানের ব্রিফিংকালে কমিশনার মহসীন চৌধুরী, আলী আকবর উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অচলাবস্থা বা সংকটের দ্রুত সমাধান চায় ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ডিবিএ। সংগঠনটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে জানান, ‘যেখানে দীর্ঘ বছর ধরে দেশবিদেশের নানান নেতিবাচক ঘটনা ও সিদ্ধান্তের ফলে দেশের পুঁজিবাজার ক্রান্তিকাল পার করছে, লাখ লাখ বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে, বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে, সেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ন্যায় অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কর্মকর্তাদের মাঝে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনা বাজারের জন্য মোটেও সুখকর নয়।’
সাইফুল বলেন, ‘কমিশনের অভ্যন্তরে সৃষ্ট এই ঘটনা বাজারে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বাজারে বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করবে এবং সামগ্রিকভাবে বাজারকে অস্থিতিশীল করে দেবে।’
© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)