ডেস্ক রিপোর্ট: আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড (অ্যামেক্স) ব্যবহারে দেশেই অভিজ্ঞতা সুখকর নয়, বিদেশে গিয়েও চরম বিড়ম্বনায় শিকার হচ্ছেন মর্মে অভিযোগ আছে কার্ডধারীদের। সিটি ব্যাংকের এই কার্ডটির নাম আমেরিকান হলেও খোদ আমেরিকাতে প্রায় ক্ষেত্রেই অচল বলে জানিয়েছেন কার্ডধারীরা। সেবার মান বা ক্ষেত্র নয়, শুধু কার্ডের রঙ ও নামকরণে মনোযোগ বেশি সিটি ব্যাংকের।
কানাডা, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশেই রেস্তোরা ও সুপার শপে কেনাকাটা, হাসপাতালে পেমেন্ট করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অনেক গ্রাহক। তথ্য সূত্র: বার্তা২৪.কম
আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড নাম হলেও এটির ব্র্যান্ড নেম হচ্ছে অ্যামেক্স (AMEX)। অ্যামেক্স কার্ড ইউজার অব বাংলাদেশ নামে অ্যামেক্স কার্ড ব্যবহারকারীদের একটি ফেসবুক গ্রুপে বেশিরভাগ মন্তব্য নেতিবাচক। দেশের বাইরে যাওয়ার সময় ডলার এনডোর্স করে গেলেও ব্যবহার করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন অনেকে।

আশানুর রহমানের ওই কমেন্টের জবাবে আরেকজন খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, আপনি কয়টা দেশ ঘুরে এই তথ্যটা দিলেন যদি বলতেন। জবাবে আশানুর রহমান ১০টি দেশের কথা উল্লেখ করেছেন।
কার্ড নেওয়া ঠিক হবে কি-না! শামীম আহমেদ নামের এক আইডির থেকে করা প্রশ্নের জবাবে আশানুর রহমান লিখেছেন, ‘‘দেশে হলে অ্যামেক্স ঠিক আছে বাট দেশের বাইরে হলে নিয়েন না।”
সোয়াদেকিন রিসান নামের একজন তার চীন সফরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ট্যুরে যাওয়ার আগে পাসপোর্ট এনডোর্সসহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক কাজ শেষ করে যাই। কিন্তু আমি চীনে গিয়ে অ্যামেক্স ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারিনি। এমনকি এটিএম বুথ থেকেও টাকা তুলতে ব্যর্থ হই। আমি আইসিবিসি এবং ব্যাংক অব চায়নার এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে গেলে বারবার এরর দেখায়। সিটি ব্যাংকের হেল্প লাইনে অনেক চেষ্টা করেও রিচড করতে পারিনি।
কাস্টমার কেয়ার নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার মনতোষ পাল নামের একজন ভুক্তভোগী লিখেছেন, অ্যামেক্স কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস এর যা অবস্থা তাতে গ্রাহকদের নাভিশ্বাস অবস্থা। কার্ডের আউটস্ট্যান্ডিং বিল, ডিউ ডেট এবং ডিউ অ্যামাউন্ট জানতে চাইলে বলে, “আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া নিষেধ। লিংক দিচ্ছি দেখে নিন। লিংকে গেলে আপডেট পাওয়ার উপায় নেই। যেটা থেকে, সেটা মাসিক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী দেখায়। ফলে প্রায়শই সুদ আর “পেনাল্টি ফর লেট পেমেন্ট”দিয়ে টাকা গচ্চা যাচ্ছে। পকেট মারেরা পকেট মারলে হয় চুরি আর অবৈধ। এই এমএনসি সেভাবে পকেট কাটছে তা কি চুরি বা অবৈধ বলা যায়?”
একেএম রফিকুল ইসলাম নামের একজন গ্রাহক কমেন্টে লিখেছেন, …. বেশি বেশি খরচ করতে পারলে প্লাটিনাম কার্ডে প্রচুর বেনিফিট। তবে ভিআইপি জায়গা ছাড়া এটি ব্যবহার করা যায় না বললেই চলে। ইন্ডিয়াতে অধিকাংশ এটিএম বুথ ও পস মেশিনে এটি কাজ করে না। সাউথ ইস্ট এশিয়ায় একমাত্র সিঙ্গাপুর ছাড়া কোন দেশেই এই কার্ড ব্যবহার করে শান্তি পাইনি। নরমাল জায়গাতে ব্যবহারের জন্য অ্যামেক্স প্লাটিনাম কার্ড কোনভাবেই প্রাইমারি কার্ড হসেবে ব্যবহার করা স্বস্তিকর হবে না।
একেএম রফিকুল ইসলাম কমেন্টের উত্তরে মারুফ হোসাইন লিখেছেন, বাস্তব তথ্য! আমি নিজেও এই বিষয়গুলি ফেস করে এখন অ্যামেক্সের সাথে অন্য একটি ব্যাংকের প্লাটিনাম ক্রেডিট কার্ড ইউজ করি।

মীর নাসের নাম একজন পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, এই প্রথম দেশের বাইরে এসে কার্ড ব্যবহার করতে চাচ্ছি। বাইরে আসার আগে ডলার পার্ট অ্যাক্টিভেট করে এসেছি এবং অ্যাকাউন্ট অপশনে ডলার পার্টের পরিমাণও শো করছে। কিন্তু চেন্নাই এ্যপোলো হাসপাতালে পস এ বিল দিতে গিয়ে ট্রানজেকশন ফেইল্ড হয়েছে। আবার এটিএম বুথেও ট্রাই করেছি কিন্তু একই অবস্থা। এখন আমি কি করতে পারি জানালে উপকৃত হতাম।
তার ওই পোস্টে নাজমুস শাকের তরফদার লিখেছেন, অ্যামেক্স নিয়ে দেশেই কোন ভরসা নেই আরতো দেশের বাহিরে!
সাইমুন সালিম নামে একজন পোস্ট করেছেন, সিটি ব্যাংকের অ্যামেক্স কার্ড ব্যবহার করি ফেসবুক বুস্টের জন্য বাট তাদের সার্ভিস চার্জ অনেক বেশি। ৫ ডলারে আমার কেটেছে ১ হাজার টাকার উপরে।
শাহজাদ হোসেন চৌধুরী লিখেছেন, লিমিট এর চেয়ে বেশি টাকা খরচ করা যায় না ক্রেডিট কার্ডে, কিন্তু ইন্টারেস্ট এড হওয়ার পরে লিমিট ক্রস করা দেখিয়ে তারা ওভার লিমিট চার্জ নেয় এবং এই ওভার লিমিট চার্জ অনেক।
আল আমীন নামে একজন গ্রাহক লিখেছেন, সিটি ব্যাংকের অ্যামেক্স ডেবিট কার্ড প্রায় ২ বছর হলো ব্যবহার করি না। কাল শুনলাম ১৩০০ টাকা ও চার্জ বাকি। চার্জ বাড়তেই থাকবে, মুক্তির উপায় কি?
মারিয়া হাসান কমেন্ট অপশনে লিখেছেন, অ্যাকাউন্ট কাজে না লাগলে বন্ধ করে দেওয়া একমাত্র সমাধান। মাসুম বিল্লাহ দ্রুত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
ব্যাংকটির কার্ড ব্যবহারকারী একাধিক গ্রাহক বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, তাদের কথা ও কাজের সঙ্গে মিল নেই। অনেক রকম হিডেন চার্জ রয়েছে, যা আগে বলা হয়নি। একজন গ্রাহক বলেছেন, তিনি থাইল্যান্ড গিয়ে বিগ-সি এবং অনেকগুলো সুপারশপে কার্ড দিয়ে পেমেন্টে করতে পারেননি।
ঢাকা বিমানবন্দরে ভিন্ন ভিন্ন কার্ডধারীর জন্য ভিন্ন ভিন্ন লাউঞ্জ নিয়েও বিব্রত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন অনেকে। টেবিলে বসার পর যদি আপনাকে বলে, আপনি এখানে বসতে পারবেন না, আপনার নির্ধারিত লাউঞ্জ অন্যটি। তখন আপনাকে কেমন লাগবে! কার্ড দেওয়ার পর বলেছে, স্যার আপনার কার্ডতো সিলভার, আপনি প্ল্যাটিনামে এসেছেন। আপনাকে অন্য লাউঞ্জে বসতে হবে!
সিটি ব্যাংক অ্যামেক্স সিলভার, গোল্ড এবং প্ল্যাটিনামের পাশাপাশি অতি সম্প্রতি ঘটা করে মেটাল কার্ড নাম দিয়ে নতুন কার্ড নিয়ে এসেছে বাজারে। গত সপ্তাহে বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে মেটাল কার্ড উদ্বোধন করা হয়। সিটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কার্ড মেম্বাররা তাদের জীবনধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ২০ হাজার টাকা মূল্যের এক্সক্লুসিভ ওয়েলকাম গিফট ভাউচার পাবেন এবং দুই বছরের জন্য বিনামূল্যে ট্যাবলেট প্লাস-এর মেম্বারশিপ উপভোগ করবেন, যা আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল বুটিক হোটেল এবং ব্র্যান্ডসমূহে বিশেষ সুবিধা দেবে। বিনামূল্যে প্রায়োরিটি পাস মেম্বারশিপ পাবেন এবং দুইজন অতিথিসহ বিশ্বের ১,৭০০-এরও বেশি বিমানবন্দর লাউঞ্জে অবারিত প্রবেশাধিকার উপভোগ করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন বলেছেন “মেটাল কার্ড আমার কাছে খুব একটা বড় বিষয় নয়। যেটা সত্যিকার অর্থে এটিকে আলাদা করে তোলে তা হলো আমেরিকান এক্সপ্রেস-এর শতবর্ষের গ্রাহক প্রতিশ্রুতির ঐতিহ্য।”
কার্ডধারীরা অভিযোগ করেছেন, নতুন নতুন নাম দিয়ে কার্ড আনতে ব্যাংকটির যতটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সেবার মান ও ক্ষেত্র বাড়াতে তার সিকিভাগ মনোযোগও দৃশ্যমান নয়। এখন আবার মেটাল কার্ড বাজারে এনেছে। প্লাস্টিক বা টাইটেনিয়াম কার্ডে কি সমস্যা সেটা তারা বলছে না।
সিটি ব্যাংকের হট লাইন সার্ভিসে (জাহিদ) কার্ড সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলে বলেন, বিদ্যমান ৩টি কার্ডের বার্ষিক ফি রয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ৫ হাজার টাকা এবং ২৫ হাজার টাকার সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। আর মেটাল কার্ডের বার্ষিক চার্জ ধরা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এর বাইরে এসএমএস চার্জ, ফান্ড ট্রান্সফার চার্জ, আর ক্যাশ উত্তোলন করলে হাজারে দৈনিক ৬৯ পয়সা সুদ সব কার্ডের জন্য অভিন্ন। অথচ অ্যামেক্স মেটাল কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় বার্ষিক ফি ৫০ হাজার টাকা, এটা বেশ কৌশলে চেপে যাওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ব্যাংকটির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের তথ্য পাচার করার অভিযোগ সামনে এসেছে। এতে করে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সিটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, সিটি ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক এবং ডার্ক ওয়েবে গ্রাহকদের তথ্য বিক্রি সংক্রান্ত একটি খবর আমাদের নজরে এসেছে। স্টেটমেন্ট পোর্টালের অতি সামান্য এক ত্রুটিকে কেন্দ্র করে দেশের একটি সেরা ব্যাংক নিয়ে এ ধরণের অপপ্রাচার কোনভাবে কাম্য নয়। পোর্টালের ত্রুটি আমরা তৎক্ষণাৎ ঠিক করে ফেলেছি। পুরো ঘটনায় কারও কোন সামান্যতম আর্থিক ক্ষতি ইত্যাদি সম্পন্ন হয়নি। গ্রাহকের সকল আর্থিক তথ্য আমাদের কাছে নিরাপদ রয়েছে এবং এ ত্রুটির পুনরাবৃত্তি হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
ব্যাংকের ওই বিবৃতির নিচে ফাহমিদ হোসেন লিখেছেন, এটা দিয়ে কি বুঝালেন? সিটি ব্যাংকতো মেনেই নিল তাদের সিস্টেমে বাগ ছিল।
অ্যামেক্স ক্রেডিট কার্ডটি সিটি ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশে এক্সক্লুসিভ বাজারজাত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত। এ ব্যাংকের আরো রয়েছে ভিসা ক্রেডিট কার্ড, ইনফিনিটি ও প্ল্যাটিনাম। এছাড়াও আছে মাস্টার কার্ড ডেবিট কার্ড। সিটি ব্যাংক পিএলসি’র নিজস্ব একটি কার্ড রয়েছে ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক। এই কার্ডগুলোর প্রচার-প্রচারণা ব্যাংকটি কদাচিৎ করে থাকে।
© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)