পুঁজিবাজার থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী খুব কম। বীমা খাত ও প্রফিডেন্ট ফান্ডের বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে আসছে না। প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আসছে না। আমাদের বিনিয়োগ সুরক্ষা আইন ১৯৮০ সালের। তাছাড়া বাংলােেশ বিনিয়োগ নীতি নেই। নতুন করে বিনিয়োগ সুরক্ষা নীতি না থাকায় দেশে বিদিশি বিনিয়োগ আসছে না।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাশে (ডিবিএ) আয়োজিত সংলাপে শনিবার এসব কথা বলেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। ঢাকা নিকুঞ্জের ডিএসই কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় পুঁজিবাজার: দর্শন ও অনুশীলন’ শীর্ষক সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য।
সংলাপে প্যানেল আলোচক ছিলেন বিএসইসির কমিশনার মো. মোহসিন চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ, আইসিএমএবির সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও এনসিপির তরুণ নেতাসহ বিভিন্ন অংশীজনরা।
সংলাপে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির আমলে অর্থনৈতিক অস্বস্থি আসেনি। কারণ বাংলাদেশের ব্যাংক ও বিএসইসির চেয়ারম্যানের ওপর হস্তক্ষেপ করেনি। যতো আইনকানুন করেন সেলফ ব্যালেন্সিং না থাকলে ভালো হবে না। ক্যাপিটাল মার্কেট লিকুইডিটি ছাড়া উন্নতি হবে না। লুটপাট শেষে এখন আর কিছুু নাই; ফ্লোর প্রাইস।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়াগকারীরা একটি ফ্রি ফেয়ার ইলেকশনের অপেক্ষায় আছে। নির্বাচন হওয়ার পর তারা বিনিয়োগে আসতে চায়, আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সরকারকে কেন ৪ বিলিয়ন ডলারের জন্য আইএমএফ’র পেছনে ঘুরতে হবে? ৪ বিলিয়ন ডলার কোনো অর্থ না। বাংলােেশ প্রতি বছর ৫শ বিলিয়ন ডলার আসবে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, একটা গ্রুপ ক্যাসিনোর মালিক। কেউ হারবে, কেউ জিতবে। দিন শেষে সব মুনাফা ক্যাসিনো মালিকের কাছে যাবে। আপনি তো ক্যাপিটাল মার্কেটে সেটা করতে পারছেন। বাংলাদেশে এটা বিশেষ করে ঘটেছে গত ১৫ বছরে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো বেপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, পুঁজিবাজার থেকে ২০১০-১১ সালে ২০ হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি পাচার করা হয়েছে। শাস্তি যদি না হয় অন্যায় ও দুর্নীতি রোধ করা যায় না।১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় শেয়ারবাজারে অনিয়ম হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে পথে বসিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় বাজার থেকে বিপুল অর্থ বের করে নেওয়া হয়, যার কোনো বিচার হয়নি।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় দেবপ্রিয় বলেন, বিচার না হওয়ার কারণে আমরা ২০১০ সালে আবারও একই ধরনের চিত্র দেখেছি। রাজনৈতিকভাবে সিন্ডিকেট করে পুঁজিবাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই ঘটনায়ও কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মাশরুর রিয়াজ বলেন, দেশে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ খুবই কম। বীমা খাত ও প্রফিডেন্ট ফান্ডের বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে আসছে না। প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আসছে না। ন্যাশনাল ইকোনমিতে ক্যাপিটাল মার্কেল কখনোই ছিল না। সরকারে তিন পলিসিতে ক্যাপিটাল মার্কেট ছিল না।
তিনি আরো বলেন, সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ডেথ ম্যানেজমেন্ট দিয়ে পরিচালনার সক্ষমতা নেই। তাছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ নীতি নেই। ১৯৮০ সালের ইনভেস্টমেন্ট পলিসি এখনো আছে বলেন তিনি।
© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)