পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে নতুন করে চারটির উৎপাদন বন্ধ এবং গ্যাস সংকটের কারণে একটিকে লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ও পুরাতন ২৫টি মিলে মোট ৩০টি কোম্পানির উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।
ডিএসইর পরিদর্শক দল গত জুলাই মাসে কোম্পানিগুলোর কারখানা পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে। উৎপাদন বন্ধ রাখা কোম্পানিগুলো হলো- নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেড, আরএসআরএমস্টিল, নুরানী ডাইং এন্ড সোয়েটার লিমিটেড ও আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড।
অন্যদিকে, ‘জেড’ ক্যাটাগরির হামিদ ফেব্রিক্স লিমিটেডের উৎপাদন সোমবার ‘লে-অফ’ বা উৎপাদন স্থগিত করেছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। ‘গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে’ বলে জানিয়েছেন কোম্পানি সেক্রেটারি মারুফ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে নরসিংদীর শিলমান্দির ফ্যাক্টরিতে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। আপাতত উৎপাদন স্থগিত করেছে পর্ষদ। গ্যাস সমস্যার সমাধান হলেই উৎপাদন শুরু হবে।’ তবে ‘উৎপাদন বন্ধকালীন শ্রম আইন অনুসারে শ্রমিকদের আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে’ বলেন মারুফ শাহরিয়ার।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ, ঢাকার পুঁজিবাজারে বিভিন্ন খাতের বর্তমানে ৩৬০টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। তার মধ্যে মঙ্গলবার ৫টি কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে জানায় ডিএসই।
উৎপাদন বন্ধের কারণ ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সংকট’ বলেন নুরানী ডাইং এন্ড সোয়েটার লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি মাহবুব আলম। এর বাইরে আর মন্তব্য করতে রাজী হননি তিনি।
‘চট্টগ্রামে ফ্যাক্টরি প্রস্তুত কিন্তু ওয়াকিং ক্যাপিটাল ১০০ কোটি টাকা নেই। যার কারণে এখনি উৎপাদনে ফেরা সম্ভব নয়’ বলেন আরএসআরএম স্টিল কোম্পানির সক্রেটারি মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন।
তিনি বলেন, ‘১০০ কোটিতে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব। তবে ব্যবসা চালিয়ে নিতে আরও অন্তত ৩০০ কোটি টাকার দরকার। উদপাদনে ফেরার ৭দিন আগে রেগুলেটরি বড়ির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জোনানো হবে’ বলেন মঈনউদ্দীন।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মালিকানাধীন কোম্পানি আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত একটি মামলা করে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড। প্রায় ১৪ কোটি টাকার ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করে ব্যাংক। পরে জানুয়ারি মাসে আরামিট সিমেন্টের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন স্থগিত রাখার আদেশ দেয় আদালত।
তবে বন্ধের কারণ জানতে আরামিট সিমেন্টের কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ কামরুজ্জামানকে ফোন দেয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
ডিএসইতে অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন খাতের ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে ২৫টি কেম্পানির উৎপাদন অনেক আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। সেই কোম্পানিগুলো হলো- অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, দুলামিয়া কটন, এমারেল্ড অয়েল, ফ্যামিলি টেক্স (বিডি), জিবিবি পাওয়ার, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস, খুলনা পাওয়ার, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, মেট্রো স্পিনিং মিলস, মিথুন নিটিং, নর্দার্ন জুট, প্রাইম টেক্সটাইল, রিজেন্ট টেক্সটাইল, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, তুং হাই নিটিং, ইয়াকিন পলিমার, জাহিন স্পিনিং মিলস, শ্যামপুর সুগার মিলস, উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি ও রহিমা ফুড কর্পোরেশন।
বন্ধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে শ্যামপুর সুগার মিলস ও উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। এ কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করলেও দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।
© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)