পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হওয়ার পেছনে কেবল কর প্রণোদনা বা ইনসেনটিভের ঘাটতি দায়ী নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তার মতে, বাজারের মূল সমস্যাগুলো অন্য জায়গায় রয়েছে, যেগুলো সমাধান না করলে শুধু প্রণোদনা দিয়ে স্থায়ী উন্নতি সম্ভব নয়।
রোববার, ৮ মার্চ রাজধানীর ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড ফর দ্য নিউ গভর্নমেন্ট ইন দ্য স্টক মার্কেট’ শীর্ষক এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ)।
তিনি বলেন, ইনটেনসিভ সমাধান নয়, আগেও আমরা অনেক বেশি ইনটেনসিভ দিয়ে দেখেছি, তাতেও ভালো ফল আসেনি। বর্তমানে যে সাড়ে ৭ শতাংশ ট্যাক্স পার্থক্য রয়েছে, সেটি কম নয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা গত বছর ক্যাপিটাল গেইনে (মূলধনি মুনাফা) ট্যাক্স কমিয়েছিলাম, তার ফলে দুই-তিন দিন বাজার ভালো ছিলো। পরে আবার আগের মতো খারাপ হলো। তাহলে সমস্যা তো ক্যাপিটাল গেইনে ছিলো না। ইনটেনসিভ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারে উন্নয়ন করা যায় না।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে ব্যাংকে টাকা রেখে, বিমায় পলিসি করে এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে মানুষ ঠকেছে। এখানে আমাদের পলিসিতে সমস্যা ছিলো, আছে। বিশ্বের কোনো দেশের অর্থনীতিই পুঁজিবাজার বাদ দিয়ে এগোতে পারেনি। আমরা কেন পুঁজিবাজারকে উদ্যোক্তাদের জন্য আগ্রহের জায়গায় নিতে পারিনি? এর বড় কারণ দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ব্যাংক থেকে হয়েছে। তাহলে পুঁজিবাজার থেকে টাকা না নিয়ে উদ্যোক্তারা কেন ব্যাংকে যাচ্ছে, সেটির কারণ খুঁজতে হবে?
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান। তিনি তার প্রেজেন্টেশনে দেখান যে, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা ‘ট্যাক্স’ সমস্যা। একটা ভালো কোম্পানি কেন তালিকাভুক্ত হবে? যেখানে তাকে অনেক বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে আসতে হবে। তালিকাভুক্ত হলে তার ট্রান্সপারেন্সি বাড়বে, অনেক বেশি স্বচ্ছ থাকতে হবে। এজন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে আনতে হলে অবশ্যই তাকে কিছু সুযোগ দিতে হবে। এজন্য করপোরেট কর ছাড়সহ বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করে দেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাধারণ সম্পাদক সুমিত পোদ্দার বলেন, গত দুই বছরে কোনো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আসেনি। এই জায়গায় চেঞ্জ আনতে হলে আমাদের ইনটেনসিভ দিতে হবে। আমাদের দেশে বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য একটি ট্যাক্স ইনটেনসিভ দেওয়া হচ্ছে, যেটির হার ৫ শতাংশের মতো। এই জায়গাতে গ্যাপটা বাড়ানো উচিত। আমরা যদি শ্রীলঙ্কার দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, সেখানে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যাক্স ইনটেনসিভ দেওয়া হয়। আমাদেরও এখানে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তবে আরেক আলোচক বিএসইসি কমিশনার মো. সাইসুদ্দিন বলেন, আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেছি, এখনো কেন আমাদের ইনটেনসিভ নিয়ে ভাবতে হবে? এখানে নিশ্চয়ই সিস্টেমে কিছু সমস্যা আছে। আমাদের সমস্যাগুলো খুঁজতে হবে। ইনটেনসিভ দিয়ে নয়, সমস্যার সমাধান খুঁজে ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে হবে। আমাদের ইকুইটি মার্কেট নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ফিক্সড ইনকাম, ফিক্সড কুপন- এমন সুবিধার পণ্যে গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদে আত্মবিশ্বাসী হবে। পুঁজিবাজারে সবশ্রেণির মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।
সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে আলোচক হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ।
© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)