নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে সমন্বয়হীনতাসহ বিভিন্ন কারণে দেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার। তিনি বলেন, সিএসইর প্রস্তুতি অনুযায়ী কমোডিটি এক্সচেঞ্জ দেড় থেকে দুই বছর আগেই চালু করা সম্ভব ছিল। তবে সরকার পরিবর্তন এবং বারবার নীতির পরিবর্তনের কারণে এটি বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে।
রোববার, ১০ মে সকালে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ : সম্ভাবনা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
সিএমজেএফ ও সিএসইর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার ফারজানা লালারুখ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএসই চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন।
সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা ডেরিভেটিভস বিশ্বব্যাপী ক্যাপিটাল মার্কেটের পণ্য। বাংলাদেশে এটি ২০২৩ সালে চালুর পরিকল্পনা থাকলেও যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে তা সম্ভব হয়নি। এটি আমাদের দেশে নতুন ধারণা। তাই অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সচেতনতা তৈরির প্রয়োজন হয়েছে। যদিও আমাদের প্রস্তুতি অনুযায়ী দেড়-দুই বছর আগেই এটি চালু করা যেত।
তিনি জানান, ২০০৫-২০০৬ সাল থেকে পাকিস্তানে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু আছে। ভারতে তারও আগে থেকে চালু আছে। আমাদের দেশে দেরিতে চালু হওয়ার কারণ হলো, এটি নিয়ে অনেক সচেতনতা বাড়ানোর বিষয় ছিল, যেটি আমরা করছি। তবে বাংলাদেশে রেগুলেটরি বডির সঙ্গে সমন্বয়হীনতা ও প্রযুক্তিগত নির্ভরতার কারণে দেরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের টেকনোলজির সক্ষমতা এখনো ৬০ শতাংশের বেশি বহির্বিশ্বনির্ভর। আমাদের কমোডিটিজের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনোলজিসও দেশের বাইরে থেকে আনতে হয়েছে। এতে কিছুটা দেরি হয়েছে। রুলস অনুযায়ী কমোডিটিজ মার্কেটের জন্য আলাদা ব্রোকার তৈরি করতে হয়েছে। এজন্যও দেরি হয়েছে। সব শেষ করেও এটি দেড়-দুই বছর আগে চালু করা সম্ভব ছিল, যেটি সমন্বয়হীনতার কারণে সম্ভব হয়নি।
অনুষ্ঠানে সিএসই চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, কমপ্লায়েন্সসংক্রান্ত কিছু নীতিগত কারণে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুতে বিলম্ব হয়েছে। তবে প্রস্তুতি এখন অনেক দূর এগিয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই এটি চালু করা সম্ভব হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করতে এখন পর্যন্ত আমাদের ১০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করতে হয়েছে। এটিকে শুরু করতে আরও কিছু টাকা ব্যয় হবে। আমাদের প্রস্তুতি শেষের দিকে রয়েছে। আমাদের টিমও বিদেশ থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন এবং টেকনোলজিসও প্রস্তুত রয়েছে।
সিএসই চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোনো পণ্য বেচাবিক্রির প্ল্যাটফর্ম নয়। এটি ফিউচার কন্ট্রাক্ট সেটেলমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হবে। প্রথম পর্যায়ে আমরা ক্যাশ সেটেলমেন্ট দিয়ে শুরু করব। ফিজিক্যাল ডেলিভারি আপাতত শুরু করব না। এটির জন্য আমাদের আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। যেটি দ্বিতীয় ধাপে চালু করার সুযোগ থাকবে।
© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)