Print

সর্বশেষ সংবাদ | Daily Stock BD

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য সুখবর

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৩০, ২০২৬ , ২:৩৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ৩০, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা এখন চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা তুলতে পারবেন। এতদিন শুধু নিজের চিকিৎসার জন্য টাকা তোলার সুযোগ থাকলেও এখন থেকে মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন ও স্বামী-স্ত্রীর চিকিৎসাসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে এ অর্থ তোলা যাবে।

বুধবার, ২৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ব্যাংকগুলো এই হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য ঘোষিত স্কিমে কিছু সংশোধন এনে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। সংশোধিত স্কিমে চিকিৎসার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রাহকের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের অনেক সময় চিকিৎসার বাইরেও জরুরি প্রয়োজনে অর্থের প্রয়োজন হয়। কারো মেয়ের বিয়ে, আবার কারো পরিবারের সদস্যের চিকিৎসার জন্য অর্থ প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগের স্কিমে এ ধরনের জরুরি প্রয়োজনে অর্থ তোলার সুযোগ ছিল না। সংশোধিত স্কিমে সেই সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি কাজেও অর্থ তোলা যাবে।

জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। আর বাকি চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় জামানত ছাড়াই ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়।

এতে ব্যাংকগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতেও ব্যর্থ হয়। এ পরিস্থিতিতে গত বছর অন্তর্র্বতী সরকার শরিয়াহভিত্তিক এ পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে।ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।

বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এছাড়া আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। অবশিষ্ট অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে।

জানা গেছে, এ তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহককে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর শেষে পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বিতরণ করা এসব ঋণের বিপরীতে জামানতের পরিমাণ মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৪.৫৬ শতাংশ। বর্তমানে এ পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৭.৪৩ শতাংশ।

© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)