Print

সর্বশেষ সংবাদ | Daily Stock BD

আইপিও’র অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম: শাস্তির মুখে সিকদার ইন্স্যুরেন্স

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ৯:৩৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ব্যবহারে বড় ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আইপিও ফান্ডের অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করা, সময়মতো ব্যবহার করতে ব্যর্থ হওয়া এবং পূর্বানুমোদন ছাড়া খাত পরিবর্তনের দায়ে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও কোম্পানি সচিবকে জরিমানা করা হয়েছে।

শর্ত লঙ্ঘনের কারণে কোম্পানির ৯ জন পরিচালক, সিইও এবং সচিবসহ ১১ জনের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে সর্বমোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কমিশন। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

সিকদার ইন্স্যুরেন্স আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর কোম্পানিটিকে আইপিওর সম্মতিপত্র দেওয়া হয় এবং ২১ থেকে ২৮ ডিসেম্বর সাবস্ক্রিপশন সম্পন্ন হয়। ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি উত্তোলিত পুরো অর্থ ন্যাশনাল ব্যাংকের এসক্রো হিসাবে জমা করা হয়। প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, এ অর্থের মধ্যে ৪ কোটি টাকা ব্যাংকে এফডিআর, ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ৬ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার টাকা ফ্লোর ক্রয় এবং ১ কোটি ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকা আইপিও ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত ছিল। এসব অর্থ তিন মাসের মধ্যে ব্যবহারের কথা ছিল।

বিএসইসির তদন্তে আইপিওর অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম উঠে আসে। এফডিআরের জন্য নির্ধারিত ৪ কোটি টাকার পরিবর্তে কোম্পানিটি ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। ব্যাখ্যা ছিল, আইপিও ব্যয়ের খাত থেকে ২০ লাখ টাকা স্থানান্তর করে এফডিআরে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

তবে খাত পরিবর্তনের আগে শেয়ারহোল্ডারদের অন্তত ৫১ শতাংশের অনুমোদন নেওয়ার শর্ত থাকলেও কোম্পানিটি তা নেয়নি। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার মধ্যে কোম্পানিটি ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

অর্থাৎ, ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা অব্যবহৃত ছিল। কোম্পানি জানিয়েছে, ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্য সংকটের কারণে দুটি চেক ফেরত যায় এবং ৪০ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার আটকে থাকায় বিনিয়োগ সম্ভব হয়নি। তবে এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি বিএসইসি।

অন্যদিকে ফ্লোর কেনার জন্য বরাদ্দ থাকা ৬ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার টাকার কোনো অর্থই নির্ধারিত সময়ে ব্যবহার হয়নি। পরে কোম্পানির পর্ষদ ওই অর্থ সরকারি ট্রেজারি বিলসে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, যা ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডাররা অনুমোদন করেন। তবে তদন্তকালীন সময়ে এ অর্থ পূর্বনির্ধারিত কাজে ব্যবহার না হওয়ায় বিএসইসি এটিকে শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে।

আইপিও ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৯০ লাখ টাকা। বাকি প্রায় ২১ লাখ ২৮ হাজার টাকা অব্যবহৃত থাকে। এর মধ্যে ২১ লাখ টাকা এফডিআরে বিনিয়োগ করা হলেও নেওয়া হয়নি আগাম অনুমোদন।

এসব বিষয়ে ২০২৬ সালের ৮ জুন বিএসইসির শুনানিতে কোম্পানির কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা দেন। তবে কমিশন তা গ্রহণ করেনি। আদেশে কোম্পানির আইপিও তহবিল ব্যবহারের শর্ত না মানাকে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে চেয়ারম্যান নাসিম সিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান মামতাজুল হক সিকদার, পরিচালক লিসা ফাতেমা হক সিকদারসহ নয়জন পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শেখ আবদুর রফিক এবং কোম্পানি সচিব আবদুর রাজ্জাককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

জরিমানার পরিমাণ ১১ লাখ টাকা। জরিমানার অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে কমিশনে জমা দিতে হবে। অন্যথায় সিকিউরিটিজ আইনের অধীনে নেওয়া হবে পরবর্তী ব্যবস্থা।

© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)