Print

সর্বশেষ সংবাদ | Daily Stock BD

ভারতে শেয়ার বাজার থেকে ৯ লাখ কোটি রুপি তুলে নিলেন বিনিয়োগকারীরা

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২, ২০২৬ , ৮:২৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার

ভারতের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর বেলা ২টার মধ্যে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) প্রধান সূচক সেনসেক্স ১ হাজার পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়। একই সময়ে নিফটি ২২ হাজার ৩০০ পয়েন্টের নিচে নেমে যায়। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার থেকে অর্থ তুলে নেওয়া অব্যাহত রাখায় বাজারে এ চাপ তৈরি হয়েছে।

বিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজার মূলধন দিনের শুরুতে ছিল ৪৭১ লাখ ৮৬ হাজার ২৯২ কোটি রুপি। বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে তা কমে দাঁড়ায় ৪৬২ লাখ ৭১ হাজার ৫৪৫ কোটি রুপিতে। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৯ লাখ কোটি রুপি।

বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) ধারাবাহিক বিক্রিও বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। শুধু ৩০ সেপ্টেম্বর এফআইআইগুলো ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করেছে ১০ হাজার কোটি রুপির বেশি। আগের দুই দিনে তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার কোটি রুপির বেশি।

বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরির অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের সুদহার বৃদ্ধি। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ ৫ দশমিক ৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এতে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট আয়ের সম্পদ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ফলে ভারতের মতো উদীয়মান বাজারের তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারের প্রতি আগ্রহ কমতে পারে।

এর সঙ্গে চাপ বাড়াচ্ছে ভারতীয় রুপির দরপতন। বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৯৬-এর নিচে নেমে যায়। রুপির দুর্বলতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতীয় শেয়ারে ডলারে হিসাব করা মুনাফা কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

তেলের বাজারও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দামের অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ভারত তার তেলের চাহিদার বড় একটি অংশ আমদানি করে বলে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে দেশটির অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। বাজারে অস্থিরতাও বেড়েছে। শেয়ারবাজারের অস্থিরতা পরিমাপের সূচক ইন্ডিয়া ভিআইএক্সও দরপতনের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে।

তবে সেনসেক্সের বড় পতনের অর্থ এই নয় যে ভারতের সব ধরনের শেয়ারে একই মাত্রায় দরপতন হয়েছে। ০২১ ট্রেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঈশান লাজারাস বলেন, নিফটি ৫০ পুরো বাজারের চিত্র তুলে ধরে না। কারণ বর্তমানে অনেক খুচরা বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ মাঝারি ও ছোট মূলধনের কোম্পানির শেয়ারে বেশি।

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঈশান লাজারাস বলেন, নিফটি ৫০ বাজারের কেবল একটি অংশের চিত্র দেখায়। নিফটি মিডস্মল ৪০০ সূচক এখনও সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ নিচে রয়েছে। গত পাঁচ বছরে নিয়মিত বিনিয়োগের অর্থ বড় কোম্পানির শেয়ার থেকে মাঝারি ও ছোট মূলধনের শেয়ারের দিকে ধীরে ধীরে সরে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঈশান লাজারাসের ভাষ্য, ২০২০ সালের শেষ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) নিবন্ধিত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা তিন গুণের বেশি হয়েছে। শক্তিশালী বাজারে যারা বছরে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রিটার্ন পেতে অভ্যস্ত হয়েছেন, তাদের কাছে এক অঙ্কের রিটার্ন হতাশাজনক মনে হতে পারে।

তবে তাৎক্ষণিক চাপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঈশান লাজারাস। তার মতে, বাজারে দরপতন হয়েছে বলেই শেয়ারকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)