বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণের জন্য জমা পড়া আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ চেম্বার অব অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ), বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহাম্মদ ও সরোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসব কর্মসূচির নীতিমালায় কোনো ঘাটতি বা অস্পষ্টতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, ঋণ বা সহায়তার আবেদন অনুমোদনে ব্যাংকের বোর্ড সভার কারণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি বোর্ড সভা হতে এক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এ কারণে প্রতি সপ্তাহে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ বোর্ড সভা আয়োজন করে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অযথা বিলম্ব বন্ধের দাবিও জানান ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্মসূচির নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ দায়িত্ব। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত সহায়তা পান এবং কর্মসূচির সুফল নিশ্চিত হয়, সে জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
একই সঙ্গে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এনওসি বা অনাপত্তিপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সুবিধা নিতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ থাকলেও বিভিন্ন ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে অনেকে আবেদন করতে পারছেন না। অনেক ব্যাংক আবেদন নিতে চাচ্ছে না, আবার কেউ কেউ নানা অজুহাতে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারেও কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা দ্রুত দূর করে ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক প্যাকেজটি বাস্তবায়নে আন্তরিক এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০ হাজার কোটি টাকার এ তহবিল থেকে ঋণ পেতে এখন পর্যন্ত ২৫ জন গ্রাহক মোট ৭৫০ কোটি টাকার আবেদন করেছেন। এর মধ্যে তিনজন গ্রাহকের অনুকূলে মাত্র ৫০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)