Print

সর্বশেষ সংবাদ | Daily Stock BD

ইমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন : যোগ্য উদ্যোক্তা উন্নয়নে আলাদা বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৫, ২০২২ , ২:৩৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৫, ২০২২, ২:৩৩ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার: স্টার্টআপ কোম্পানির জন্য শেয়ারবাজারে আলাদা বোর্ড গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তিনি বলেন, যোগ্য স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে। আমাদের ইমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন তা পারবে।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর নিকুঞ্জের ডিএসই ভবনে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট অব বাংলাদেশ প্রস্পেক্ট অ্যান্ড অপারচুনিটিস ফর টেক স্টার্টআপ অ্যান্ড গ্রোথ স্টেজ কোম্পানিজ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংক গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত নিয়ে ঋণ দেয়। অন্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে অনেক সাবধান হতে হয়। এছাড়া জামানত নিতে হয়। কিন্তু স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো নতুন জেনারেশন গঠন করে। এদের পক্ষ জামানত রাখা সম্ভব হয় না। তবে, তাদের কোম্পানি চালানোর জ্ঞান এবং ইনোভেটিভ পরিকল্পনা থাকে। এ জাতীয় কোম্পানিকে কমিশন সহযোগিতা করবে।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর মধ্যে যারা ভালো করছে, যাদের গ্রোথ ভালো আমরা তাদের পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করার সুযোগ দেবে। তবে, সবার জন্য এ সুযোগ ওপেন করে দেওয়া হবে না। তাহলে, যারা খারাপ তারা এসে— যারা ভালো করছে তাদের পরিবেশ খারাপ করে দেবে।

স্টার্টআপ কোম্পানির মুনাফা করতে সময় লাগে। তবে লোকসানে থাকলেও ছাড় বা সুযোগ দিয়ে (ওয়েভার) শেয়ারবাজারে আসতে দেওয়ার সুযোগ আছে। আর এ সুযোগ করে দেবো। তবে, আইন পরিবর্তন করে সব লোকসানি স্টার্টআপ কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনা যাবে না। তাহলে যেসব কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারে ফন্দিফিকির করে তারা সুযোগ নেবে।

তিনি বলেন, আমাদের কোনো কোম্পানির অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের দিকটিও দেখতে হয়। তাই সবকিছু কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মনোপুত নাও হতে পারে। তবে, এটা কাউকে নিরুৎসাহিত করি না। কারণ আমাদের কোম্পানির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের দিকটিও বিবেচনা করতে হয়। আমাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় আমরা বামে গেলে ডান মন খারপ করে, আবার ডানে গেলে বাম মন খারাপ করে।

স্টার্টআপ কোম্পানিকে সহযোগিতা করলে যদি দেশ লাভবান হয়, তাহলে কেন সহযোগিতা করবো না। তবে, এ জাতীয় কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আসতে চাইলে অবশ্যই কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার ইস্যু করতে হবে। অন্যথায় আমরা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেবো না।

স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বোর্ড গঠন করা বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো মূল বা এসএমই মার্কেটে এসে খাপ খাওয়াতে পারবে না। তবে উন্নতি করার পরে এসএমইতে দেওয়া হবে। আরও উন্নতির পরে এসএমই থেকে মূল মার্কেটে নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এনএম জিয়াউল আলম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক আমিন ভূঁইয়া, ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী প্রমুখ।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের দুয়ার সবসময় স্টার্টআপ কোম্পানির জন্য খোলা। আপনারা কমিশনে আসেন। আপনাদের কথা গুরুত্বসহকারে শুনতে চাই। সমস্যা থাকলে, তা সমাধান করা হবে। আমাদের দেশে ফান্ডের সমস্যা নেই, আছে স্পৃহার অভাব। বর্তমানে আমাদের দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর পিই ১৫ এর কাছাকাছি। যা বিনিয়োগের জন্য খুবই ভালো।

© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)