Print

সর্বশেষ সংবাদ | Daily Stock BD

নয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬ হাজার ৮১০ কোটি টাকা

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৩০, ২০২২ , ৩:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০২২, ৩:৫২ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার: চলতি বছরের জুন পর্যন্ত চতুর্থ প্রজন্মের ৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা পাঁচ বছর আগে ছিল মাত্র ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। সে হিসাবে এই ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের মধ্যে পদ্মা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৬৮ শতাংশ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ফারমার্স নামে থাকা ব্যাংকটির খেলাপি ছিল মাত্র ৭২৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের মাত্র ১৪ শতাংশ।

শেয়ারবাজারের ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৭১২ কোটি, যা মোট ঋণের প্রায় ৪ শতাংশ। পাঁচ বছর আগে এই ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ।

মেঘনা ব্যাংকের খেলাপি দাঁড়িয়েছে ২৪১ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৬ শতাংশ। পাঁচ বছর আগে খেলাপি ঋণের হার ছিল প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। মিডল্যান্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৬২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ শতাংশ।

মধুমতি ব্যাংকের খেলাপির পরিমাণ ১৮০ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। পাঁচ বছর আগে এই ব্যাংকের বিতরণ করা ২ হাজার ৭৯০ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে খেলাপি ছিল মাত্র ৯ কোটি টাকা।

শেয়ারবাজারের সাউথ বাংলা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল জুন পর্যন্ত ৪১৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৬ শতাংশ। পাঁচ বছর আগে এই ব্যাংকের ঋণ ছিল ৪ হাজার ৩০৬ কোটি, যার মধ্যে খেলাপি ছিল মাত্র ৩১ কোটি টাকা। শেয়ারবাজারের এনআরবিসি ব্যাংকের মোট খেলাপি ২১৫ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। আর গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩৩০ কোটি বা ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬০০ কোটি টাকা বা ৬ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এই বিষয়ে বলেন, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এই ব্যাংকগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। যদি অযোগ্যরা সনদ পায় তবে ব্যাংকের করপোরেট শাসন ও কমপ্লায়েন্স পালন করা কঠিন। কারণ, তারা অনেক প্রভাবশালী বলে এমনটা করা অস্বাভাবিক নয়। তবে কী কারণে খেলাপি বেড়েছে ও কারা মূল খেলাপি, তা তদন্ত করে জনসমক্ষে তুলে ধরতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তিনি বলেন, ‘যদি এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংকের পরিচালকের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঋণ নিয়ে ফেরত না দেন, তবে সেটা আদায় করা কঠিন হবে। যদিও এভাবে ঋণ নেওয়া বেআইনি। এসব ঋণ বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এটা করা সহজ না হলেও অসাধ্য নয়।’

খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রয়োজন বিবেচনা করে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে নতুন ব্যাংক হিসেবে ঋণ বিতরণে কিছুটা আগ্রাসী মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এসব ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক চলমান রেখেছে। বড় কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)