Print

সর্বশেষ সংবাদ | Daily Stock BD

কাঁপন ধরাল ওরিয়ন ও বেক্সিমকো গ্রুপ

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২ , ৩:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২, ৩:১৮ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার

সিনিয়র রিপোর্টার : ওরিয়ন গ্রুপের তিন কোম্পানির অবিশ্বাস্য উত্থানপর্ব শেষে এখন উল্টো চিত্র। এই গ্রুপের চারটি কোম্পানির মধ্যে একটির দর কমেছে এক দিনে যতটা কমা সম্ভব, প্রায় ততটাই। অন্য তিনটির দরও পতনের সর্বনিম্ন সীমার কাছাকাছি গিয়ে ফিরে এসেছে।

রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সূচক টেনে নামাতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবক ছিল ওরিয়ন ও বেক্সিমকো কোম্পানির চার কোম্পানি।

ওরিয়ন গ্রুপের মতো অতটা না হলেও বেক্সিমকোর এই দুটি কোম্পানির দর গত এক মাসে বেড়েছিল অনেকখানিই। তবে এগুলো এই সময়ে আসলে হারিয়ে ফেলা দরের কিছুটা ফেরত পেয়েছিল মাত্র।

ওরিয়নের চার কোম্পানির কী অবস্থা

পুঁজিবাজারের টাকা দরপতনের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানো এই ৩১ জুলাই। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৭ কর্মদিবসে সূচক বেড়েছে ৬০০ পয়েন্টেরও বেশি, কিন্তু তা অল্প কয়েকটি কোম্পানির দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ার কারণেই। সিংহভাগ কোম্পানি সেই ফ্লোর প্রাইসেই গড়াগড়ি খাচ্ছে।

এই সময়ের মধ্যে বিস্ময় তৈরি করে ওরিয়ন ইনফিউশনের উত্থান। গত ২৮ জুলাই কোম্পানিটির দর ছিল ১০৪ টাকা ৭০ পয়সা। ৩৬ কর্মদিবস শেষে ২১ সেপ্টেম্বর দর দাঁড়ায় ৬২৬ টাকা ৫০ পয়সা। পরের দিন দর দাঁড়ায় ৫৭৫ টাকা ৬০ পয়সা।

কোম্পানিটি রোববার একপর্যায়ে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ৫৩২ টাকা ৫০ পয়সার কাছাকাছি চলে এসেছিল। তবে ৫৩৪ টাকা পর্যন্ত নামার পর আবার ঘুরে দাঁড়ায়। দিনের একেবারে শেষ দিকে হঠাৎ বেড়ে দাম দাঁড়ায় ৫৬৫ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ৯ টাকা ৯০ পয়সা বা ১.৭২ শতাংশ। এদিন দরপতনের সর্বোচ্চ সীমায় ছিল ওরিয়ন ফার্মা।

কোম্পানিটির দর গত ২৮ জুলাই ছিল ৭৮ টাকা ৭০ পয়সা। ৩৭ কর্মদিবস পর ২২ সেপ্টেম্বর দাঁড়ায় ১৪৯ টাকা ৬০ পয়সা, সেদিন সর্বোচ্চ দর ছিল ১৫৬ টাকা ৫০ পয়সা।

এটির পতনের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৯.৯৬ শতাংশ। নামতে পারত ১৩৪ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত। এই দরেই হাতবদল হয়েছে বিপুলসংখ্যক শেয়ার। পরের দিন শেষ করে ১৩৫ টাকা ১০ পয়সায়। এই দরপতনের কারণে ডিএসইএক্স থেকে হারিয়ে গেছে ৮.০২ পয়েন্ট।

এদিন সূচক সবচেয়ে বেশি কমিয়েছে একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি বিকন ফার্মা। কোম্পানিটির ৬.২৩ শতাংশ দরপতনে সূচক কমেছে ১১.৪২ পয়েন্ট।

গত ২৮ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৪০ টাকা ৬০ পয়সা। ২০ সেপ্টেম্বর উঠে যায় ৩৯৩ টাকায়। সেদিনই অবশ্য দিন শেষ করে ৩৬১ টাকায়। গত বৃহস্পতিবার দর দাঁড়ায় ৩৩৫ টাকা ৬০ পয়সায়।

এদিন দর নামতে পারত ৩০৬ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত। নেমেছিল ৩১০ টাকা পর্যন্ত। তবে দিন শেষ করে ৩১৪ টাকা ৭০ পয়সায়। পতন হয় ৬.২৩ শতাংশ।

অস্বাভাবিক হারে লাফাতে থাকা কোহিনূর কেমিক্যালসের দরপতন হয়েছে ৭.০৫ শতাংশ, যে কারণে সূচক কমেছে ২.৭৫ পয়েন্ট।

গত ২৮ জুলাই কোম্পানিটির দর ছিল ৩৭৯ টাকা ৯০ পয়সা। ২১ সেপ্টেম্বর দর উঠে ৭৫৭ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত। তবে দিন শেষ করে দর হারিয়ে। গত বৃহস্পতিবার দর ছিল ৬৪৫ টাকা ৪০ পয়সা। ৪৫ টাকা ৫০ পয়সা কমে এখন দাঁড়িয়েছে ৫৯৯ টাকা ৯০ পয়সা।

বেক্সিমকো গ্রুপের কত পতন

এদিন সূচকের পতনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রভাবক ছিল বেক্সিমকো ফার্মা। ১০.০২ পয়েন্ট সূচক কমেছে কোম্পানিটির শেয়ারের ৫.২৫ শতাংশ দরপতনে।

কোম্পানিটির শেয়ারদর গত ২৮ জুলাই ছিল ১৪৬ টাকা। গত ১১ সেপ্টেম্বর উঠে ১৯১ টাকা ৩০ পয়সা। গত বৃহস্পতিবার সেখান থেকে কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১৮০ টাকা ৮০ পয়সা। রোববার দর দাঁড়ায় ১৭১ টাকা ৩০ পয়সায়। কমেছে ৯ টাকা ৫০ পয়সা।

বেক্সিমকো লিমিটেডের গত ২৮ জুলাই ছিল ১১৪ টাকা ২০ পয়সা। সম্প্রতি দর ১৪৬ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও গত বৃহস্পতিবার স্থির হয় ১৩৪ টাকা ৫০ পয়সায়। ২ টাকা ৮০ পয়সা কমে দর দাঁড়িয়েছে ১৩১ টাকা ৭০ পয়সায়।

এই কোম্পানিটির কারণে সূচক কমেছে ৫.৮ পয়েন্ট।

অবশ্য এই দুটি কোম্পানির দর গত বছরের নভেম্বর থেকে অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটের ১৯০ টাকার ঘর থেকে নেমে আসে ১১০ টাকার ঘরে, আর বেক্সিমকো ফার্মার দর ২৫৫ টাকা থেকে নেমে আসে দেড় শ টাকার নিচে। গ্রুপের আরও দুই কোম্পানি শাইনপুকুর সিরামিকস ও আইএফআইসি ব্যাংকের দর খুব একটা পাল্টায়নি এদিন।

© দৈনিক স্টক বাংলাদেশ- ২০২৩
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০ ১৭৯৭-৬১১৯৬১, +৮৮০ ৯৬৩৮ ৯৩৫৭৩৬
ইমেইল: info@dailystockbd.com (যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম মুঠোফোন)