সকল মেনু

বাধ্যতামূলক ছুটিতে ডিএসইর সেই কোম্পানি সচিব আসাদুর রহমান

সিনিয়র রিপোর্টার : বাধ্যতামূলক ছুটিতে গেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও কোম্পানি সচিব মো. আসাদুর রহমান। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়ার পর তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মে) থেকে রোববার (২৯ মে) পর্যন্ত তিনি বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকবেন বলে ডিএসইর অফিস সার্কুলারে বলা হয়েছে। এ সময়ে তার দায়িত্ব পালন করবেন ডিএসইর জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. শফিকুর রহমান।

অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অস্বচ্ছতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি তদন্ত করার নির্দেশ দেয় বিএসইসি।

ছয় কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন- ডিএসইর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সামিউল ইসলাম ও মো. আসাদুর রহমান। আরো আছেন উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান, মো. সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, সিনিয়র ম্যানেজার মো. রনি ইসলাম ও মো. পাঠান (হারুনুর রশিদ পাঠান)।

তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে বিএসইসি। তার আগেই বাধ্যতামূলক ছুটিতে গেছেন কোম্পানি সচিব মো. আসাদুর রহমান।

মো. আসাদুর রহমানের বাধ্যতামূলক ছুটি নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, তিনি বাধ্যতামূলক ছুটিতে যাননি, স্বাভাবিক ছুটিতে গেছেন।

ডিএসইর দেওয়া সার্কুলারে ‘মেন্ডেটরি লিভ’ লেখা রয়েছে জানালে সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, আপনি যেভাবে কথা বলছেন, তাতে মনে হচ্ছে আপনার কাছে প্রমাণ আছে। প্রমাণ থাকলে আপনি আমাদের অফিসে আসেন।

বিএসইসি তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কারণে মো. আসাদুর রহমান বাধ্যতামূলক ছুটি নিয়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, আপনার সঙ্গে আমি কোনো কথা বলবো না। এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

বিএসই সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মো. সামিউল ইসলাম, মো. আসাদুর রহমান, মো. শফিকুর রহমান, মো. সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, মো. রনি ইসলাম ও মো. পাঠান এ ছয় কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে চলতি বছরের ১০ এপ্রিল বিএসইসিতে একটি অভিযোগ জমা পড়ে। ওই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরমধ্যে ডিএসইর জিএম মো. সামিউল ইসলামের বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি ২০০১ সালে তার পরিচিত লোকের কাছে তথ্যপাচার করেন। এজন্য তাকে সার্ভেইল্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে অ্যাডমিনে থাকাকালীন তার এবং তার স্ত্রীর নামে হাউসে অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যবসা করার অভিযোগ ওঠে। অফিস থেকে ডিএসই কর্মীদের ব্যবসায় যুক্ত থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা এলে এ দম্পতি নিজেদের নামের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ক্লোজ করে বাসার কাজের বুয়ার নামে অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যবসা চালিয়ে যায়। মূলত, অফিসের চোখে ধুলো দিতেই এমন কৌশল নেন তারা।

এরপর রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় নতুন অফিস নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হলে সেটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়ে সামিউল ইসলামের ওপর। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অফিসের রড চুরি করে স্ত্রীর নামে উত্তরায় একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেন তিনি। নিকুঞ্জে অফিসের কাজে বিমগুলোতে রড কম দেওয়া হয়েছে বলে জানালেও দ্রুতই এ অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যবসা করা এবং অফিসের মালামাল চুরির দায়ে তাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার কথা উঠলেও শেষ পর্যন্ত কিছু প্রভাবশালী সদস্যের কারণে দাপটের সঙ্গে বহাল তবিয়তেই থেকে যান সামিউল।

এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাভারে একটি বেভারেজ লিমিটেড কোম্পানি করেছেন। বিভিন্ন হাউসে তার ব্যাপক ক্ষমতা, ব্যবসা তো রয়েছে। একই সঙ্গে ক্রেস্ট সিকিউরিটিস লিমিটেডের ৫০ শতাংশ শেয়ার তার। একজন চাকুরিজীবী হয়ে তিনি এতো টাকা কোথায় পেলেন, তা জানতে তাকে দুদকে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু এখানেও কথিত প্রভাবশালী সদস্যরা তাকে বাঁচিয়ে দেন। বর্তমানে ডিএসইর এ কর্মকর্তা অফিস এবং অফিসের বাইরে নারীসঙ্গ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ডিএসইর অন্য এক জিএম মো. আসাদুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জিএম হওয়ার পর এমনই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন যে, নিজের বেতন দ্বিগুণ করে নিয়েছেন। যেখানে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে তিনিও অফিস এবং অফিসের বাইরে নারীসঙ্গ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

ডিজিএম মো. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সামিউল ও আসাদুরের অপকর্ম কোনো অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ হলে তখন তিনি (শফিকুর রহমান) সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তীসময়ে আর এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ না করার জন্য উৎকোচ হিসেবে টাকা দিতেন।

অন্য ডিজিএম মো. সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি লিস্টিং ডিপার্টমেন্টে থাকাকালীন রাহিমা ফুড নিয়ে জালিয়াতির পরিপ্রেক্ষিতে তার চাকরি হারানোর কথা। কিন্তু অদৃশ্য কোনো এক শক্তির প্রভাবে তাকে লিস্টিং থেকে মনিটরিং ডিপার্টমেন্টে স্থানান্তর করা হয়। এ ডিপার্টমেন্টে আসার পর ক্ষমতাধর সদস্যদের হাউসগুলো নামেমাত্র ইন্সপেকশন করা হতো। হাউসের নেগেটিভ ব্যাল্যান্স থাকলেও তা পসিটিভ করে পাঠাতো বিএসইসিতে।

ডিএসইর সিনিয়র ম্যানেজার মো. রনি ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মেম্বারশিপ ডিপার্টমেন্টে থাকাবস্থায় হাউসে তার একটা ওয়ার্ক স্টেশন ছিল এবং হাউস বিক্রি ও অথোরাইজ নিয়োগে মানুষের কাছ থেকে তিনি টাকা নিতেন।

আরেক সিনিয়র ম্যানেজার মো. পাঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অ্যাকাউন্টসে থাকাবস্থায় এফডিআর ও ডিপোজিট চেচের জন্য ক্লাইন্টের কাছ থেকে টাকা নিতেন। যা মারাত্মক ভায়োলেশন। অথচ প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে এ কর্মকর্তাও বহাল তবিয়তে থাকেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top