সকল মেনু

গ্যাস সংকটে কমেছে ২৯ কোম্পানির মুনাফা

সিনিয়র রিপোর্টার: গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতের কোম্পানিগুলোর নীট মুনাফায়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভূক্ত ৫৮ টি কোম্পানির মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের  (জুলাই-ডিসেম্বর,২২) অনিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ৪৮ টি কোম্পানি।

বস্ত্রখাতের কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতের কোম্পানিগুলোর নীট মুনাফায়।

কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ২৯টি কোম্পানির নীট মুনাফা গত অর্থবছরের প্রথমার্ধের তুলনায় কমেছে। এ সময়ে মুনাফা বেড়েছে ১৯টি কোম্পানির।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ক্রেতাদের কাজের অর্ডার বাতিল, বিলম্ব হওয়ার কারণে বেশিরভাগ তৈরি পোশাক কারখানা ন্যূনতম ৮ ঘণ্টাও তাদের ইউনিট চালাতে পারছে না। এর একটি বড় কারণ চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট।

এছাড়াও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি কারখানা সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন উৎপাদন বন্ধ রাখে বলেও জানান তিনি।

জুলাই-ডিসেম্বর,২২ সময়ে মতিন স্পিনিংয়ের নিট মুনাফা হয়েছে ৩৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে একই সমেয় এর পরিমাণ ছিল ৫৪ কোটি ১ হাজার টাকা।

মুনাফা কমের বিষয়ে মতিন স্পিনিংয়ের ভাইস চেয়ারম্যান এম. এ রহিম বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে আমাদের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে আমরা ডিজেল দিয়ে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। ফলে এবার আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে যার প্রভাব পড়েছে আমাদের মুনাফায়।

জুলাই-ডিসেম্বর,২২ সময়ে প্যাসিফিক ডেনিমস নিট মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৪ হাজার টাকা।

কোম্পানিটি  তার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে বলেছে কাঁচামালের দর বৃদ্ধি এবং গ্যাসের অপর্যাপ্ততার ফলে কোম্পানিটির আয় কমেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরেক কোম্পানি সায়হাম কটন মিলস জুলাই-ডিসেম্বর,২২ সময়ে ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা নিট মুনাফা  করেছে। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি মুনাফা করেছিল ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

কোম্পানিটি  তার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে বলেছে কাঁচামালের দর বৃদ্ধির বিপরীতে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য কমে যাওয়ার ফলে তাদের আয় কমেছে।

শেপার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ তার আয় কমার কারণ হিসেবে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে বলেছে রপ্তানি ব্যায় বৃদ্ধির কথা।

কোম্পানিটি  জুলাই-ডিসেম্বর,২২ সময়ে ৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা করে। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল।

সর্বশেষ  চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি, বৃহৎ শিল্প খাতে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে প্রায় তিন গুণ বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে।

মাঝারি শিল্প খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ১১ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতে ১০ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে।

শিল্পে উৎপাদিত নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (ক্যাপটিভ) জন্য ইউনিট প্রতি গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। সরকারি, আইপিপি ও রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ৫ টাকা ২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪ টাকা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top