স্টাফ রিপোর্টার: পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ আগামী পাঁচ বছরের জন্য তৈরি পোশাক রপ্তানির বিপরীতে প্রযোজ্য উৎসে কর হার ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় রাজস্ব ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানায় পোশাক খাতের এ দুই সংগঠন।
রপ্তানির বিপরীতে প্রদত্ত নগদ সহায়তার উপর আয়কর হার ১০ শতাংশ থেকে ০ শতাংশ করা, গ্রিন কারখানার জন্য করপোরেট কর হার ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠন দুটি।
বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে শুল্ক বিভাগের সদস্য মো. মাসুদ সাদেক, ভ্যাট নীতির সদস্য জাকিয়া সুলতানা ও আয়কর নীতির সদস্য সামস উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেয় বিটিএমই’র নেতারা।
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের বাজেটে ঘোষিত রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য রপ্তানি পুনরায় আরো গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছে। যার প্রভাব আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হারও ঋণাত্মক ছিল।
এছাড়া ইউরোপ,আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে যার প্রভাবে অস্বাভাবিক হারে শিল্পের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিসহ উৎপাদন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।
বর্তমান এই সংকটকালীন সময়ে দেশের প্রধানতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নীতি সহায়তা প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজিএমইএ সংগঠনটির অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫ পিস ডামি পোশাক বিনাশুল্কে আমদানির অনুমোদন দেওয়া, রপ্তানিকে প্রতিযোগী করতে পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট ১২ ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাট অব্যাহতি, এইচ এস কোড জটিলতা নিরসন, ওয়াশিং-ড্রাই মেশিন ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আমদানিতে শুল্ক ছাড়।
অন্যদিকে বিকেএমইএ এর অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানসমূহকে শূন্য ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া, সোলার প্যানেল ও ইটিপি স্থাপনে আমদানি করা রাসায়নিকের শুল্ক ও মূসক ০ শতাংশ করা।
বিটিএমই এর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- রিসাইকেলড ফাইবার, ম্যানমেইড ফাইবারসহ সকল প্রকারের আমদানি পর্যায়ে যাবতীয় শুল্ক, মূসক ব্যতীত আমদানির সুযোগ, সকল প্রকার পাওয়ার লুমে উৎপাদিত কৃত্রিম আশের সুতার তৈরি ফেব্রিকসের ওপর মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছে।
ফারুক হাসান বলেন, জানুয়ারি মাসে গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম তিনবার বেড়েছে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব কারণে আমাদের কষ্ট অব প্রোডাকশন বেড়ে গেছে।
আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়া এই বছর এনবিআর রাজস্ব অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন এ বিজিএমইএ নেতা। তিনি বলেন, এত বছর যে রেভিনিউ গ্রোথ হয়েছে, এবার সেটা কমার সম্ভাবনা আছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এনবিআরের আরেকটা ডিপার্টমেন্ট বন্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেখানে আমরা প্রতিবছর হিসাব-নিকাশ জমা দেই, তাহলে আরেকটা ডিপার্টমেন্টে কেনো আমাদের দিতে হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এই সেক্টরকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য যতটুকু করার আমি করবো। ভ্যাট অনলাইন, বন্ড অটোমেশন, এসাইকুড ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সার্ভিস আরও ভালো হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ভ্যাট, ট্যাক্স কমানোর আবদার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু কিছু জিনিস আমাদের মেনে নিতে হয়। যেমন কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি এইগুলো আমাদের মেনে নিতে হয়। এটাকে (ভ্যাট,ট্যাক্স) ওই দৃষ্টিতে দেখেন। রেভিনিউ আমাদের দরকার, ট্যাক্স জিডিপি বাড়ানো দরকার।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।