স্টাফ রিপোর্টার: বিবিধ খাতের কোম্পানি আমান ফিড লিমিটেড ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর তিন বছর পর অর্থাৎ ২০১৮-১৯ হিসাব বছর থেকেই ধারাবাহিকভাবে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা কমতে দেখা গেছে।
এমনকি সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে প্রথম তিন প্রান্তিকেও (জুলাই-মার্চ) আগের হিসাব বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে। কোম্পানির নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে আমান ফিডের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ।
আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৬৩ পয়সা। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আগের হিসাব বছরে ২০ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।
২০১৮-১৯ হিসাব বছরের ধারাবাহিকতায় পরের বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা কমেছে ১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা আগের হিসাব বছরের তুলনায় ২৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ কম। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭১ পয়সা। এ হিসাব বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদের পাশাপাশি আড়াই শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে।
২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আরো কমে হয়েছে ৩৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা আগের হিসাব বছরের তুলনায় ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ কম। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা। এ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।
সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২১-২২ হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে মাত্র ১১ কোটি ৩ লাখ টাকা। এ মুনাফা আগের হিসাব বছরের তুলনায় ২২ কোটি ১২ লাখ টাকা বা ৬৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮৪ পয়সা। এ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।
এদিকে সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সদ্যসমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৫ পয়সা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, আলোচ্য সময়ে তাদের পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ছে। মূলত পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম বাড়ায় এ ব্যয় বেড়েছে।
পাশাপাশি তাদের কর্মীদের বেতন বাবদ ব্যয় বেড়েছে। এসব কারণে আলোচ্য সময়ে তাদের ইপিএস কমেছে। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৩ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ১৬ পয়সা।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।