পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ প্রস্তুতকারক ও বিপণন কোম্পানি রেনেটা লিমিটেড। দেশের প্রথম সারির কোম্পানিটি ওষুধ উৎপাদন আরও বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ গ্রহণ করছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএফসি (ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন) থেকে ৫ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭০০ কোটি টাকা) ঋণ নেবে রেনেটা।
‘আগামী সপ্তাহে এই অর্থ ছাড় দেয়া হবে’ জানিয়েছেন কোম্পানি সেক্রেটারি জুবায়ের আলম। তিনি বলেন, ‘ওয়াকিং ক্যাপিটাল হিসেবে এই টাকা ব্যবহার করা হবে। আমরা আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ৫ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ ছাড় দেবে আইএফসি।’
ঋণ গ্রহণে গত বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গণমাধ্যমকে শুক্রবার, ৯ মে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রেনেটা জানায়, দেশের অর্থনীতিতে ওষুধশিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি। এই খাত রপ্তানি ও দক্ষ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ক্রমাগত অবদান রেখে চলেছে। এই অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ওষুধ সরবরাহের সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারবে রেনাটা। পাশাপাশি এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প ইতিমধ্যে দেশের প্রায় সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও কার্যক্রম প্রসারিত করছে। আইএফসির এই অর্থসহায়তা রেনাটার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিতে সহায়ক হবে, যা কোম্পানিটির সরবরাহব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। এ ছাড়া এই অংশীদারত্ব রেনাটার নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও রপ্তানি কার্যক্রমেও নতুন গতি আনবে।
আইএফসি ও রেনাটা মনে করে, তাদের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জেনেরিক ওষুধ খাতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে আরও দৃঢ় করা সম্ভব হবে।
রেনাটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ এস কাইসার কবির বলেন, ডলার সরবরাহে ঘাটতি, বিনিময় হারের অবমূল্যায়ন ও দেশে অর্থায়নের উচ্চ খরচের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রেনাটার পাশে আইএফসির দাঁড়ানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে আমাদের সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা করছি।
দক্ষিণ এশিয়ায় আইএফসির আঞ্চলিক পরিচালক ইমাদ এন ফাখুরি বলেন, রেনাটার সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্ব ওষুধশিল্পে বড় ভূমিকা রাখবে। এই শিল্পে প্রবৃদ্ধি হবে, সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানও বাড়বে। রেনাটা যাতে শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখতে পারে, সেই চেষ্টা আমরা করব।
রেনেটা চলতি বছরে ৯২ শতাংশ নগদ অর্থাৎ প্রতি শেয়ারে ৯ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তার আগের বছরে ২০২৩ সালে ৬২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি দর ছিল ৪৮৩ টাকা।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।