বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম. মোশাররফ হোসেন এবং তার স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া ওরফে রিয়া বেগম শেয়ারবাজারে প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৩৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন—এমন অভিযোগের তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসি নিশ্চিত করেছে, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—উপপরিচালক মাওদুদ মোমেন, সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান রনি এবং নাফিদ হাসান খান।
কমিশনের বিশেষ একটি সূত্র রোববার জানিয়েছে, আইডিআরএর চেয়ারম্যান থাকাকালে ড. মোশাররফ দুটি কোম্পানি খোলেন। প্রতিটি কোম্পানির নামে দুটি করে চারটি তহবিল গঠন করেন।
সেগুলো হলো- লাভস অ্যান্ড লাইভ অর্গানিক লিমিটেড ও গুলশান ভ্যালি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। দুই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসাবে ড. মোশাররফ এবং স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া পরিচালক হিসেবে আছেন।
৪টি তহবিলের নামে ৪টি বিও (বেনিফিশারি ওনার) অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। নম্বর হলো- যথাক্রমে ১২০৫৭২০০৬২৯৬০৭২৬, ১২০৪৩৯০০৬৫৯৪৮৬৪০, ১২০৪৬৮০০৬৬৬৪৪৭৪২ ও ১২০১৯১০০৬৫৭৩৪৭৮১।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান হওয়ার পর চার ফান্ডের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হন। প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৩২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ড. মোশারফ হোসেন এবং তার স্ত্রী ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে শেয়ারবাজারের ৫টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন।
নামসর্বস্ব ও অকার্যকর দুটি কোম্পানির প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং ফান্ডের ২৫ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগের বিধান রয়েছে বলে জানায় কমিশন।
নিজ কোম্পানির প্রভিডেন্ট ফান্ড পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘৩৩ কোটি টাকা অনেক, তার অর্ধেকও বিনিয়োগ করা হয়নি। সে সময়ে আইপিও ছিল বেশি, যে কারণে একই অর্থ একাধিক আইপিওতে আসায় ‘রিভলভিং মানি’হিসেবে বেশি দেখানো হয়। তবে ইদরায় যোগদানের আগেই এই বিনিয়োগ করা হয়েছে।’
`সে সময়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল’ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ইদরায় চেয়ারম্যান হওয়ার সে সময়ে ভীষণ ব্যস্ত ছিলাম। ভুল করে আমার প্রতিনিধি ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্সের শেয়ার কিনে থাকতে পারে। বাকি চারটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ সম্পর্কে এখন বলতে পারছি না। ইতোমধ্যে অনেককে এসব বিষয়ে তথ্য দিয়েছি’ বলেন ড. মোশারফ হোসেন।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মনে করে যে, পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম. মোশাররফ হোসেনের অভ্যন্তরীণ ট্রেডিং ও বাজার কারসাজির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
ফান্ডের টাকা ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ও ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডে বিনিয়োগ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ তথ্য সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করবে বিএসইসি।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ (১৯৬৯ সালের অধ্যাদেশ) এর ধারা ২১ দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে কমিশন বিষয়গুলির উপর তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। তদন্ত পরিচালনার জন্য ৩ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে বিএসইসি।
তদন্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, কমিশন নিজে সিদ্ধান্ত এই তদন্ত করছে। তদন্তসাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে কমিশন।’
অপরদিকে, এম মোশারফ হোসেন এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে ১৮ নভেম্বর পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।