আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসির শেয়ারের দর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আইপিডিসির শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণ জানতে গত ১৫ মে কোম্পানিটিকে চিঠি পাঠানো হয়। জবাবে কোম্পানিটি জানায়, তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত বা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই, যার কারণে শেয়ারের দাম বাড়তে পারে। এরপরই শেয়ারটির লেনদেনে কোনো ধরনের কারসাজি হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে।
এ কারণে বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। পাশাপাশি কমিশনের সার্ভিল্যান্স বিভাগ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন নিবিড় নজরদারিতে রেখেছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ২ জুন আইপিডিসির শেয়ারের দাম ছিল ১৮ দশমিক ৯০ টাকা। মাত্র ১২ কার্যদিবসের ব্যবধানে ১৮ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ৬০ টাকায়। অর্থাৎ এ সময়ে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৭০ টাকা বা ৫৬ দশমিক ৬১ শতাংশ। তবে রোববার, ২১ জুন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দাম কিছুটা সংশোধন হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কোম্পানিটির কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বা উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক অগ্রগতির খবর না থাকায় কারসাজির সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারের দাম ও লেনদেন অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ডিএসইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো সমন্বিত কারসাজিমূলক বা অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে কি না, অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং সংঘটিত হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার ও তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস ও কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না।
এ ছাড়া সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের কোনো ভূমিকা বা দায় রয়েছে কি না এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনসহ অন্য কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় থাকবে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অনুমোদিত প্রতিনিধি (এআর), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। বিএসইসির মতে, কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে সন্দেহজনক লেনদেনের ঘটনা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলের আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।
আইপিডিসি ফাইন্যান্স ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৪২৯ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারসংখ্যা ৪২ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫১টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের হাতে ৪০ শতাংশ, সরকারের হাতে ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৯ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।