সকল মেনু

আইপিওতে নেয়া ৫৭ কোটির সন্ধানে এডিএনে দ্বিতীয়বার তদন্ত কমিটি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এডিএন টেলিকম লিমিটেড। ২০২০ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ৫৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করে পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত হয়। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে কোম্পানিটির গৃহীত ৫৭ কোটি টাকার ব্যবহার জানতে দ্বিতীয়বার অনুসন্ধান করবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তদন্ত কমিটি গঠনের চিঠি ইতিমধ্যে এডিএন টেলিকম লিমিটেড কর্তৃপক্ষ হাতে পেয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছেন কোম্পানি সেক্রেটারি মনির হোসেন। তিনি বলেন, আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত ৫৭ কোটি টাকার ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চায় কমিশন। কমিশনের দেওয়া চিঠি গত রোববার আমরা পেয়েছি।

এডিএন টেলিকম লিমিটেডের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ বলেন, এটা দ্বিতীয়বার কমিশন দেখতে আসছে। ইতোপূর্বেও কমিশন হাই-টেক পার্কের জমি উন্নয়ন বিষয়ে অনুসন্ধান করে দেখেছে। তাছাড়া গত আগস্ট থেকে কোন কাজ হয়নি। নতুন করে কমিশন দেখতে চায়- এ বিষয়ে আমরা চিঠি পেয়েছি।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির উপপরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পরিচালক নিলয় কর্মকার এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) উপব্যবস্থাপক উৎপল চন্দ্র দেবনাথ।

আইপিওতে সংগৃহীত ৫৭ কোটি টাকা প্রসপেক্টাস অনুসারে হাই-টেক পার্কে জমি উন্নয়ন ও ডাটা সেন্টার স্থাপন, ব্যাংকঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে খরচের বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এ জন্য তদন্ত কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুনর্গঠিত বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ঘাটতি থাকা ব্রোকারেজ হাউসগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

তথ্য মতে, এডিএন টেলিকম পুঁজিবাজার থেকে ৫৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এ লক্ষ্যে বুকবিল্ডিংয়ের মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার শেয়ার ৩০ টাকা দরে বিক্রি করে ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ৭৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৬টি শেয়ার ২৭ টাকা দরে বিক্রয় করে ২১ কোটি ৩৭ লাখ ৪৯ হাজার ৯৮২ টাকা সংগ্রহ করেছে।

২০২৪ সালে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সিলেটে নতুন কারখানা তৈরি করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল এডিএন টেলিকম। সিলেটের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্কে (বিএসএমএইচটিপি) প্রায় ১ দশমিক ৭৫ একর বা ৭ হাজার ৯৫ বর্গমিটার জমি বরাদ্দ পায় কোম্পানিটি।

এরই ধরাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল জমির ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে জমি বরাদ্দ নিয়েছে এডিএন টেলিকম।

এডিএনের জন্য বরাদ্দকৃত প্রতি বর্গমিটার জমির জন্য বার্ষিক ইজারা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ৫০ ডলার। প্রথম ১০ বছরের জন্য ১০ হাজার ৬৪২ ডলার ভাড়া বাবদ পরিশোধ করতে হবে। তিন বছর পরপর ভাড়া বাড়বে। প্রথম দশ বছরের পরবর্তী তিন বছর পরপর সিলেটের বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে বরাদ্দকৃত জমির ইজারা ভাড়া সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়বে।

২০২৩ সালে ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য জমি কেনার ঘোষণা দিয়েছিল কোম্পানিটি। গাজীপুরের প্রখ্যাত কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে ২৩৫ ডেসিমেল জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। জমি রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য খরচ ছাড়া জমি কিনতে ২ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার টাকা ব্যয় হবে বলে জানায় কোম্পানিটি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top