রূপালী ব্যাংকে সরকারের মালিকানা আরও বাড়ছে। বিপরীতে কমে যাচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার। কারণ, ব্যাংকটির পক্ষ থেকে সরকারের দেওয়া প্রায় ৭০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তাকে নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সোমবার, ৩০ জুন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে পাঠানো এক ঘোষণায় রূপালী ব্যাংক জানিয়েছে, সরকারের কাছ থেকে পাওয়া ৬৭৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ টাকার ঋণের বিপরীতে নতুন করে ৪৫ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ২৫৩টি শেয়ার ইস্যু করা হবে। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে ১৫ টাকা, যার মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্য এবং ৫ টাকা প্রিমিয়াম।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকটির বর্তমান মূলধন ৪৮৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৯৪১ কোটি টাকায়। এর ফলে সরকারের শেয়ারের পরিমাণ ৯৫ শতাংশে পৌঁছাবে, আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ারের পরিমাণ নেমে আসবে মাত্র ৫ শতাংশে। অথচ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র একটি নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকার বেশি, তাদের কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা বাধ্যতামূলক।
বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের মোট ৪৮ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৫টি শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে সরকারের হাতে ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশ। বাকি প্রায় ১০ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ।
ব্যাংক সূত্র জানায়, নতুন শেয়ার ইস্যু করা হবে সরকারের পক্ষ থেকে অর্থসচিবের নামে। এ লক্ষ্যে আগামী ২৭ আগস্ট বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন সাপেক্ষে শেয়ার ইস্যুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ (বিএসইসি) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।
বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, ব্যাংকটি আগে আমাদের কাছে আবেদন করেছিল। আমরা তাদের নতুন করে আবেদন করতে বলেছি। এবার নতুন করে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিনিয়োগকারীদের একাংশের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় রূপালী ব্যাংকে সাধারণ বিনিয়োগকারীর অংশীদারিত্ব আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে। যা একদিকে বাজারে ব্যাংকটির লেনদেনযোগ্য শেয়ারের ঘাটতি তৈরি করবে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ১০ শতাংশ মালিকানা রাখার বিধানেরও ব্যত্যয় ঘটাবে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, একদিকে সরকার একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে চাচ্ছে, অন্যদিকে এমন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ কমিয়ে ফেলা পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।