সকল মেনু

জাল এফওসি ও ইউডির ২৫৮৮ টন কাপড় বিক্রি

তৈরি করা হয়েছে জাল ও ভুয়া এফওসি (ফ্রি অব কস্ট)। সেই এফওসিতে রয়েছে উপ কমিশনার, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, প্রধান সহকারীর সই। অথচ তারা কোনো সই করেননি। এই জাল এফওসি আবার বন্ড কমিশনারেটের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। অথচ এই এফওসির জন্য কমিশনারেটে প্রতিষ্ঠান কোনো আবেদনও করেনি।

শুধু ভুয়া এফওসি নয়, প্রতিষ্ঠানের আমদানির তালিকায় সংযোজন করা হয়েছে কয়েকটি এইচএস কোড। জালিয়াতি এখানে শেষ নয়। জাল এই এফওসি ব্যবহার করে ৮ মাসে বন্ড সুবিধায় আমদানি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৫৫ মেট্রিক টন কাপড়। এই কাপড় দিয়ে কোনো পণ্য তো তৈরি হয়নি, সোজা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে খোলাবাজারে।

এখানে শেষ নয়। বিজিএমইএ অনুমোদিত সাতটি ইউপির অধীনে ৫৫টি বিল অব এন্ট্রিতে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন কাপড়। তাও খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কার্টিং তদারকি দিয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা তিনটি বিল অব এন্ট্রিতে প্রায় ৮১ মেট্রিক টন কাপড় বন্দর থেকে খালাস দিয়েছে। তাও বিক্রি করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠান।

জাল এফওসি তৈরি, ভুয়া এইচএস কোড সংযোজন, সেই জাল এফওসিতে আমদানি করা বন্ড সুবিধার কাপড়, পরবর্তীতে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি-এমন সব জালিয়াতি করা প্রতিষ্ঠান হলো ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের আওতাধীন বি. ব্রাদার্স গার্মেন্টস কোং লিমিটেড। বন্ড সুবিধায় মোট ১৪২ কোটি টাকার কাপড় আমদানি করেছে, যাতে প্রযোজ্য শুল্ককর প্রায় ১২৭ কোটি, যা প্রতিষ্ঠানটি ফাঁকি দিয়েছে। ফাঁকি দেওয়া এই রাজস্ব পরিশোধে প্রতিষ্ঠানকে দাবিনামা সম্বলিত কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে। জালিয়াতির রাজা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (নরসিংদী-৩) জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন।

জাল এফওসি তৈরি করে আমদানি করা ১৩৫৫ মেট্রিক টন বিক্রি, শুল্ককর ফাঁকি ৬৬ কোটি টাকা

এনবিআর সূত্রমতে, বন্ড কর্মকর্তাদের সই জাল করে এফওসি তৈরি করে প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ভুয়া এইচএস কোড সংযোজন করা হয়েছে। জাল সেই এফওসির প্রত্যয়নপত্র ও এইচএস কোড সংযোজন সংক্রান্ত জাল প্রত্যয়নপত্রের কপি বন্ড কমিশনারেটের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। জাল এফওসি ও এইচএস কোড সংযোজনের প্রত্যয়নপত্র দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাপড় আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়ে নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ বরপার বি ব্রাদার্স গার্মেন্টস কোং ইউনিট-২ লিমিটেড-এমন তথ্য পায় ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। এরই ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করতে জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে।

তদন্তে জাল এফওসি ও এইচএস কোড সংযোজনের ভুয়া প্রত্যয়ন তৈরির প্রমাণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশনারেটের ওয়েবসাইটে যে এফওসি ও এইচএস কোড সংযোজনের প্রত্যয়নপত্র আপলোড করা হয়েছে, তার জন্য বি. ব্রাদার্স গার্মেন্টস কমিশনারেটের কোন শাখায় তার কোন আবেদন করেনি। অথচ ২৫ ফেব্রুয়ারি এফওসি ও ১৪ মে এইচএস কোড অনুমোদনের প্রত্যয়নপত্র ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। এই জাল এফওসি ও এইচএস কোডের প্রত্যয়ন দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ জুন পর‌্যন্ত মোট ৫২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে বন্ড সুবিধায় ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৮১০ কেজি কাপড় আমদানি করেছে।

জাল প্রত্যয়নপত্র দিয়ে আমদানি করা এই কাপড় শুল্ককর ফাঁকি দিতে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এই কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৭৪ কোটি ৮৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪১৫ টাকা, যাতে প্রযোজ্য শুল্ককর ৬৬ কোটি ৬৪ লাখ ৬৬ হাজার ৭৭১ টাকা, যা প্রতিষ্ঠান ফাঁকি দিয়েছে। ৫২টি বিল অব এন্ট্রির মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর-এই দুই মাসে ১১টি বিল অব এন্ট্রিতে ২ লাখ ৯২ হাজার ৪০১ কেজি বা ২৯২ মেট্রিক টন কাপড় আমদানি করেছে। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর‌্যন্ত ছয় মাসে ৪১টি বিল অব এন্ট্রিতে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৪০৯ কেজি বা ১ হাজার ৬৩ মেট্রিক টন কাপড় আমদানি করা হয়েছে। জালিয়াতি করে এফওসি ও এইচএস কোড সংযোজনের প্রত্যয়ন তৈরির ভয়াবহ প্রমাণ পায় কমিটি।

সিস্টেম এনালিস্ট আপ করেছেন, দোষ স্বীকার, কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফওসি ও এইচএস কোড সংযোজন সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র তৈরি এবং আপলোড সংক্রান্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন কমিটির সদস্যরা। এতে একমাত্র সিস্টেম এনালিস্ট গোলাম কবির ছাড়া কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। গোলাম কবির স্বীকার করেন, তিনি যাচাই ছাড়াই তিনি ভুলবশত আপলোড করেছেন।

তবে এফওসি ও এইচএস কোড সংযোজনের প্রত্যয়ন কোন নথি বা ফাইলের মাধ্যমে নয়-প্রতিষ্ঠানের কর্মাশিয়াল এনে দিলে বা স্ক্যান করে দিলে তিনি ওয়েবসাইটে আপলোড করে দেন। বন্ড কমিশনারেটের মতো একটি স্পর্শকাতর জায়গায় ‘কর্মাশিয়াল’ দিলে সঙ্গে সঙ্গে আপলোড করে দিতে হবে-এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গোলাম কবিরের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এই জাল প্রত্যয়ন আপলোড করায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। কিন্তু কমিশনারেট থেকে অজানা কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

একাধিক সূত্র বলছে, শুধু সিস্টেম এনালিস্ট নয়, এই জালিয়াতির সঙ্গে একাধিক কর্মচারী, বহিরাগত ও কর্মাশিয়াল সরাসরি জড়িত। বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে এই জাল প্রত্যয়ন তৈরি করে তা আপলোড করা হয়। কাপড় বা কাঁচামাল বন্দর থেকে ছাড় করার পর তা আবার ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। কমিশনারেটে এই জালিয়াতির একটি চক্র দীর্ঘদিন সক্রিয় রয়েছে।
B. Brothers Garments
উপ কমিশনার কমিশনারের সই জাল, থানায় জিডি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফওসি ও এইচএস কোড সংযোজনের প্রত্যয়নপত্রে প্রতিষ্ঠান উপকমিশনার জোবাইদা নাহারের সই জাল করে প্রত্যয়ন তৈরি করেছে। যদিও প্রতিষ্ঠান জাল এফওসি ও এইচএস কোড সংযোজনের প্রত্যয়নপত্র তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তদন্ত কমিটি জোবাইদা নাহারের কাছে লিখিতভাবে তার মতামত জানতে চেয়েছেন।

তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, বর্তমানে তিনি কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে কর্মরত। তিনি বন্ড কমিশনারেটে থাকাবস্থায় বি. ব্রাদার্সকে এফওসি ও এইচএস কোড সংযোজনের প্রত্যয়ন দেয়নি এবং সই করেননি। সই জালিয়াতি করায় ১৯ জুন তিনি রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

জাল এফওসিতে বিপুল পরিমাণ কাপড় খালাস করে প্রতিষ্ঠান দায় দিচ্ছে দুই জনৈক ব্যক্তিকে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফওসি ও এইচএস কোড সংযোজনের প্রত্যয়ন জালিয়াতির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া জহির হিমা প্রতিষ্ঠানের দোষ অস্বীকার করেন। তিনি কমিটিকে জানায়, এফওসির আওতায় বন্ডের কাপড় আমদানির সময় তিনি দেশে ছিলেন না। প্রতিষ্ঠানের কর্মাশিয়াল মো. রেজাউল করিম তাকে জানিয়েছেন এফওসির আবেদন করা হয়েছে এবং তা অনুমোদন হয়েছে, যা বন্ড কমিশনারেটের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। এই প্রত্যয়নপত্র দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাপড় আমদানি করা হয়েছে।

তবে এই কাপড় দিয়ে পণ্য তৈরি করে রপ্তানি করা হয়েছে কিনা-তা তিনি স্বীকার করেননি। মো. আনোয়ার হোসেন ব্যাপারী ও মো. শফিকুল ইসলাম নামে দুইজনের যোগসাজসে এই জাল এফওসি ও এইএস কোড সংযোজনের প্রত্যয়ন তৈরি করা হয়েছে বলে জানান হিমা। কিন্তু এই দুই ব্যক্তির কোন পরিচয় না দিয়ে দুইজনকে ‘জনৈক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ এই দুইজন বহিরাগত বা দালাল হিসেবে প্রতিষ্ঠানের কাজ করেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। ধরা পড়ার পর প্রতিষ্ঠান তাদের দায় নিচ্ছে না। বন্ড কমিশনারেট যখন প্রতিষ্ঠানের বিআইএন লক করে দেয়, তখন কমিশনারেট থেকে বাঁচতে এই দুইজনের নামে একটি জিডি ও একটি মামলা করে প্রতিষ্ঠান।

বি. ব্রাদার্স জাল প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে বিপুল পরিমাণ কাপড় আমদানি করলেও ফৌজদারি মামলা করেনি বন্ড

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান এফওসি ও এইচএস কোড সংযোজনের কোনো আবেদনপত্র শাখায় জমা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠান যে আবেদন করেছে-তা দেখাতে পারেনি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ঘুষের বিনিময়ে এই জাল প্রত্যয়ন তৈরি ও আপলোড করার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। প্রতিষ্ঠান শুধু জাল কাগজপত্র তৈরি করে ক্ষান্ত হয়নি, সেই জাল কাগজ দিয়ে প্রায় ১৩ লাখ কেজি বা ১৩৫৫ মেট্রিক টন কাপড় আমদানি করেছে। শুধু আমদানি নয়, জাল কাগজে আমদানি করা কাপড় শুল্ককর ফাঁকি দিতে বিক্রিও করে দিয়েছে। জাল প্রত্যয়ন তৈরি করা ফৌজদারি অপরাধ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ফৌজদারি অপরাধ করার পরও অজানা কারণে বন্ড কমিশনারেট প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা গেছে।

তিন মাসে ৬৬ ইউডিতে আমদানি করা ১২৩২ টন কাপড় বিক্রি, শুল্ককর ফাঁকি ৬০ কোটি টাকা

এনবিআর সূত্রমতে, বি. ব্রাদার্স গার্মেন্টস শুধু যে জাল এফওসি ও এইচএস কোড সংযোজনের প্রত্যয়ন তৈরি করে, সেই জাল প্রত্যয়ন দিয়ে বন্ড সুবিধায় কাপড় আমদানি করে তা বিক্রি করে তা নয়। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সালে বন্ড লাইসেন্স পেয়েছে। এরপর থেকে বেপরোয়াভাবে আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এফওসি ও এইচএস কোড সংযোজনের জাল প্রত্যয়ন তৈরির কাপড় খোলাবাজারে বিক্রির পর নড়েচড়ে বসেন বন্ড কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটিতে বন্ড কমিশনারেটের একটি প্রিভেন্টিভ টিম অভিযান পরিচালনা করেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর‌্যন্ত তিন মাসের আমদানি, রপ্তানি ও সরেজমিন কাঁচামাল হিসাব করা হয়।

এতে দেখা যায়, তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটি সাতটি ইউডির অধীনে ৫৫টি বিল অব এন্ট্রিতে ১৩ লাখ ৭২ হাজার ১৩৩ কেজি কাপড় আমদানি করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ওয়্যারহাউসে ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৭৩ কেজি কাপড় পেয়েছেন কর্মকর্তারা। বাকি ১২ লাখ ৩২ হাজার ৯৬০ কেজি বা ১ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন কাপড় পাওয়া যায়নি। এই কাপড় দিয়ে কোন পণ্য তৈরি করার কোন প্রমাণ দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া রপ্তানির কোনো প্রমাণ পায়নি কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠান এই কাপড় অবৈধভাবে অপসারণ করে খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৬৭ কোটি ৯১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৭৩ টাকা, যাতে প্রযোজ্য শুল্ককর ৬০ কোটি ৬৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪৮ টাকা।

তিনটি বিল অব এন্ট্রিতে কার্টিং তদারকি দেয় কাস্টমস গোয়েন্দা, কর্মকর্তা এসে দেখেন কাপড় প্রতিষ্ঠানে নেই

একাধিক সূত্রমতে, কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর বি ব্রাদার্স গার্মেন্টস কোং ইউনিট-২ লিমিটেডের ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ নভেম্বর পর‌্যন্ত আমদানি-রপ্তানি যাচাই করে। এতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ২৮৪ কেজি বা ৩৯৪১ মেট্রিক টন কাপড়ের হদিস নেই। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির তিনটি অব এন্ট্রি লক করেন, যাতে ৮১ হাজার ৬৩৪ কেজি কাপড় ছিলো। পরে কার্টিং তদারকি দিয়ে তা খালাস করা হয়।

পরবর্তীতে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে কোনো কাপড় পায়নি। কার্টিং তদারকি দেওয়া সেই কাপড় প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দিয়েছে। যাতে শুল্ককর ফাঁকি ২ কোটি ৮৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৬ টাকা। ফাঁকি দেওয়া শুল্ককর আদায় ও প্রতিষ্ঠানটির বিআইএন লক করতে বন্ড কমিশনারেটকে চিঠি দেয় কাস্টমস গোয়েন্দা।

প্রতিষ্ঠানটি কোনো রপ্তানি করে না, সব সময় বন্ড সুবিধার কাপড় বিক্রি করে আসছে

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ঘুষ দিয়ে ইউডি নেয়। যা দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাপড় আমদানি করে তা বিক্রি করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছিলেন সংসদ সদস্য। এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে কাপড় আমদানি করে শুধু বিক্রি করতেন। বন্ডের কোনো নিয়ম-কানুন মানতেন না। বি ব্রাদার্স লিমিটেডের দুইটি প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স ব্যবহার করে একই কাজ করে আসছে।

এফওসি ও এইচএস কোড প্রত্যয়ন জাল করে আমদানি করা ১ হাজার ৩৫৫ মেট্রিক টন কাপড় বিক্রিতে ৬৬ কোটি ৬৪ লাখ ৬৬ হাজার ৭৭১ টাকা শুল্ককর ফাঁকির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানকে দাবিনামা সম্বলিত কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিন মাসে আমদানি করা ১ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন কাপড় বিক্রি করে ৬০ কোটি ৬৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪৮ টাকা শুল্ককর ফাঁকির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানকে দাবিনামা সম্বলিত কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে।

এছাড়া জালিয়াতি ও শুল্ককর ফাঁকি দেওয়ায় বি ব্রাদার্স গার্মেন্টস কোং ইউনিট-২ লিমিটেডের বিআইএন লক করা হয়েছে। অপরদিকে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করায় বি ব্রাদার্স গার্মেন্টস কোং লিমিটেডেরও বিআইএন লক করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ ২৭ হাজার টাকা শুল্ককর ফাঁকির অভিযোগে দাবিনামা সম্বলিত কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে।

এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন এর ব্যক্তিগত নাম্বারে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্যের বিষয় লিখে দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও পরিচালক জুলিয়া জহির হিমাকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্যের বিষয় লিখে দিলেও তিনি জবাব দেননি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top