এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের চারটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট-সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বন্ধ ঘোষিত চারটি কারখানার মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেডও রয়েছে। তবে কারখানা বন্ধের বিষয়টি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানায়নি কোম্পানিটি। এ কারণে তথ্য গোপন করে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে শ্রমিকদের এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২২ জুন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাগুলোর সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানা পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এপেক্স স্পিনিংয়ের কোম্পানি সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, কারখানা দ্রুত খুলে দেওয়া হবে। এরপর তিনি আমি মিটিংয়ে আছি বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান সফিকুর রহমান বলেন, কোম্পানিটির কারখানা বন্ধের বিষয়টি আমাদের জানা নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স লন্ড্রি মিলস লিমিটেড এবং এপেক্স ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেডের শ্রমিকদের একটি অংশ ১০ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ১৫ মাসের এবং ৫ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ৭ মাসের মূল মজুরি সার্ভিস বেনিফিট হিসেবে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।
এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন কারখানার নিটিং ফ্লোরে শ্রমিক প্রতিনিধি, কারখানা কর্তৃপক্ষ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এবং বিজিএমইএর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ডিআইএফই জানায়, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধ করতে হবে। পরে ২০ জুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে, বর্তমানে প্রচলিত সার্ভিস বেনিফিট সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকবে। তবে শ্রমিকদের দাবি করা অতিরিক্ত সার্ভিস বেনিফিট দেওয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। একই সঙ্গে শ্রম আইন মেনে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, গত রোববার শ্রমিকদের একটি অংশ আইনবহির্ভূত দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে কারখানায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী চারটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, এপেক্স হোল্ডিংসের চার কারখানায় অন্তত ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনা করেও সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। এ কারণে কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে।
তবে তিনি জানান, কারখানা এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।