সকল মেনু

ব্যবসা সফল ডিবিএল গ্রুপের পার্কওয়ে আসছে আইপিওতে

শাহীনুর ইসলাম: প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং পিএলসি। দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড বা ডিবিএল গ্রুপের ২৪টি কোম্পানির মধ্যে পার্কওয়ে প্যাকেজিং ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে ৩০ কোটি টাকা ব্যবসা সম্প্রসারণে নিতে চায়।

পোশাক দিয়ে শুরু হলেও গত ৩১ বছরের সব মিলিয়ে ডিবিএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানে ২৪টি। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ৪০ হাজার কর্মী।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে গ্রুপের বার্ষিক লেনদেন ছিল প্রায় ৬০ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার সমান। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ব্যবসা থেকেই এসেছে ৯০ শতাংশ অর্থ। সব মিলিয়ে গ্রুপটির বিনিয়োগের পরিমাণ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

তার মধ্যে মতিন স্পিনিং মিলস লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। ব্যবসা সফল কোম্পানি হিসেবে মতিন স্পিনিং ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়ে শেয়ারপ্রতি দর ৬৮ টাকা ধর রেখেছে। সেই গ্রুপের দ্বিতীয় কোম্পানি পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং পিএলসি পুঁজিবাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মতিন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের শেয়ার দরের চিত্রটি বৃহস্পতিবার ডিএসই থেকে নেয়া

পার্কওয়ে প্যাকেজিংকে পুঁজিবাজারে আনতে দেশের শীর্ষ মার্চেন্ট ব্যাংক এএএ ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ইস্যু ব্যবস্থাপক কাজ করছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়।

সমঝোতা সম্পর্কে ইস্যু ব্যবস্থাপক এএএ ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি ওয়ালীউর রহমান বলেন, ডিবিএল গ্রুপের কোম্পানি পার্কওয়ে প্যাকেজিং লিমিটেডের কর্তৃপক্ষ পুঁজিবাজারে আসতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, তারা বিনিয়োগ নিরাপত্তা এবং মুনাফা ভালো দেবেন।

ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ ৩০ কোটি টাকার আবেদন জানিয়েছেন। ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে আমরা মাত্র সমঝোতা করেছি বলেন ওয়ালীউর রহমান।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

ডিবিএল গ্রুপের চার ভাই। এখনো একত্রে ব্যবসা করছেন তারা।

১৯৯১ সালে ঢাকার ১০২ গ্রিন রোডে ছোট কারখানা দিয়ে শুরু করা সেই প্রতিষ্ঠানটি আজকের দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড বা ডিবিএল গ্রুপ। আর সেই চার ভাই হলেন- আবদুল ওয়াহেদ, এম এ জব্বার, এম এ রহিম ও এম এ কাদের। তারা যথাক্রমে ডিবিএল গ্রুপের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), ভাইস চেয়ারম্যান ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পোশাক দিয়ে শুরু হলেও গত ৩১ বছরের ব্যবসায় সিরামিক টাইলস, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ ও ড্রেজিং ব্যবসায় নাম লিখিয়েছে ডিবিএল। আগামী বছর তারা দেশে ওষুধ ব্যবসায়ও আসছে। সব মিলিয়ে ডিবিএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানে ২৪টি। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ৩৬ হাজার কর্মী।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে গ্রুপের বার্ষিক লেনদেন ছিল প্রায় ৬০ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার সমান। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ব্যবসা থেকেই এসেছে ৯০ শতাংশ অর্থ। সব মিলিয়ে গ্রুপটির বিনিয়োগের পরিমাণ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ডিবিএল নামের সঙ্গে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ও ইতিহাস

চার ভাইয়ের বাবা আবদুল মতিনের ট্রেডিং ব্যবসা ছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা থেকে নোয়াখালীর চাটখিলের গ্রামের বাড়িতে চলে যায় পুরো পরিবার। আবদুল ওয়াহেদ (গ্রুপের চেয়ারম্যান) যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। সে সময় তাঁকে ধরতে আলবদর বাহিনীর লোকজন গ্রিন রোডের বাসায় মাঝেমধ্যেই অভিযান চালাত।

অক্টোবরে গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরে আসে পুরো পরিবার। তখন করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য ভর্তি হওয়া পরিবারের বড় ছেলে আবদুল কুদ্দুস দুলালও ছিলেন। ১৪ ডিসেম্বর সকালে আলবদর বাহিনী গ্রিন রোডের বাসা থেকে তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। ১৭ ডিসেম্বর রায়ের বাজারে বধ্যভূমিতে আবদুল কুদ্দুস দুলালের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

ডিবিএল গ্রুপের বিশেষ পদক লাভ

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আবদুল কুদ্দুস দুলালের নামেই প্রতিষ্ঠান শুরু করেন ছোট চার ভাই। সেটি আজও ধরে রেখেছেন তাঁরা।

শুরুর গল্প আরেকটু

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮৯ সালে দেশে ফেরেন এম এ জব্বার। শুরুতে বাবার ব্যবসায় বসলেন। বছরখানেক পর সেটি মন দিয়ে করলেন। তারপর বাকি তিন ভাইয়ের সঙ্গে নতুন কিছু করার পরিকল্পনা শুরু করলেন। সম্ভাবনা থাকায় তৈরি পোশাক ও চামড়ার ব্যবসা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললেন।

শেষ পর্যন্ত নিজেদের বাড়িতেই ছোট পোশাক কারখানা করার মনস্থির করলেন। তত দিনে পাশের আরেকটি বাসায় তাঁরা বসবাস করেন। চাচাতো এক ভাই পোশাকের ব্যবসায় জড়িত থাকায় কাজটি কিছুটা সহজ হলো।

শুরু থেকেই চার ভাই ব্যবসা করেছেন। কখনো আলাদা হওয়ার কথা ভাবেননি।

একনজরে

প্রতিষ্ঠা ১৯৯১, প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৪টি, কর্মসংস্থান ৩৬ হাজার, বার্ষিক লেনদেন ৬০ কোটি ডলার, রপ্তানির গন্তব্য ৪০ দেশ

মূল ব্যবসা: তৈরি পোশাক, সহযোগী ব্যবসা সিরামিক টাইলস, ড্রেজিং, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ , পুমা (পরিবেশক), ক্রিকেট দল চিটাগাং ভাইকিংস

বিনিয়োগ : ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি

সাফল্যের মূলমন্ত্র: ঠিকভাবে কাজ করা, জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top