হোসাইন আকমল : খুব ভালো সাফল্য আনতে পারছে না বিডি থাই ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড। সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিকের পারিবারিক এই কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের মাত্র ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
একইসঙ্গে, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই’২২-সেপ্টেম্বর’২২) মুনাফা কমেছে প্রায় ৩ গুণ। যা নানামুখী সংকটের আভাস দিচ্ছে।
অতি ধীরে বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের পথে হাঁটছে বিডি থাই ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড। ২০২১ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করা কোম্পানির কর্তৃপক্ষ বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে পারছে না।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুসাঙ্গিক শিল্প খাতের কোম্পানির কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) বোর্ড সভায় ৩০ জুন ২০২২ সালের জন্য এ ঘোষণা করে।
কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.২২ টাকা। এ সময় কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি সম্পদের পরিমাণ (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৪.১২ টাকা। আগামী ২৮ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এবং রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১ ডিসেম্বর।
এদিকে, চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) হয়েছে ২২ পয়সা, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৫৮ পয়সা।

বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড (বিডি থাই) ৩০ জুন, ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেবে না। আগের বছরে অর্থাৎ ২০২১ সালে শেয়ারপ্রতি মাত্র ২০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।
ভয়াবহ শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে কোম্পানিটি। সর্বশেষ বছর ২০২২ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ পয়সা, যেখানে আগের বছর ২০২১ সালে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা ।
বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম আর্থিক সংকটের কারণে ২০১৬ সালে রাইট শেয়ার পেলেও খুব ভালো করতে পারেনি।
শেয়ারবাজারে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের পাঁচ কোটি ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৮টি শেয়ার ১ : ১ অনুপাতে ছেড়ে ৫২ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ২৮০ টাকা সংগ্রহ করে।
২০২০ সালে বোনাস এবং নগদ মিলে মাত্র ৬ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়। ২০১৬ সালে রাইটের মাধ্যমে ৫২ কোটি উত্তোলন করে কোম্পানিটি উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও আংশিক ঋণ পরিশোধে ব্যয় করে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।
সেই আশঙ্কার পথেই চলছে ২০২১ সালে আইপিওতে আসা বিডি থাই ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড। কোম্পানির দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ রয়েছে ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ এবং স্বল্প মেয়াদে রয়েছে ৩৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ৩০ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ডিএসইতে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করলেও আজও সফল হতে পারেনি প্রকৌশল খাতের কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার শেয়ারপ্রতি দর ছিল ৪৩ টাকা। শিগগিরই সেই দর হারানোর তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।