ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গত সপ্তাহ (২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ – ২ জানুয়ারি, ২০২৫) কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। সূচক সামান্য বৃদ্ধি পেলেও, লেনদেনের পরিমাণ আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ছিল মিশ্র, এবং বাজারে কিছুটা অবকাশের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
সূচকের অগ্রগতি: ডিএসইএক্স সূচক ৩০ পয়েন্ট বা ০.৪৮% বৃদ্ধি পেয়ে সপ্তাহ শেষে ৬,২৭৫ পয়েন্টে স্থির হয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার কিছু বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা যায়, তবে বুধবার থেকে সূচক আবার ইতিবাচকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
লেনদেনের তথ্য: সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,৬০০ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬.৫% কম। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭২০ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাতগুলোর মধ্যে ছিল ফার্মাসিউটিক্যালস খাত। আর কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল স্কয়ার ফার্মা, এসিআই লিমিটেড, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস। এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল। আরো ছিল অটোমোবাইল খাত।
ব্যাংকিং: ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের শেয়ারগুলোর লেনদেনের চাপ ছিল। মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবং যমুনা অটোমোবাইলসের শেয়ারগুলোতে কিছুটা উত্থান লক্ষ্য করা গেছে।
বিনিয়োগকারীদের মনোভাব: বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি বেশ স্থির ছিল, তবে কিছু ছোট বিনিয়োগকারীর মধ্যে বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং বাজারের গতিপ্রকৃতি বিষয়ে সচেতন থাকার গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগামী সপ্তাহের পূর্বাভাস: আগামী সপ্তাহ (৫-১১ জানুয়ারি, ২০২৫) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কিছু অস্থিরতা দেখা যেতে পারে, তবে বিশ্লেষকরা আশা করছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে।
নতুন আইপিও ঘোষণা: বর্তমানে কোনো নতুন আইপিও ঘোষণা নেই, তবে জানুয়ারির শেষ দিকে কিছু নতুন আইপিও আসতে পারে। বিনিয়োগকারীদের ওই পরিকল্পনাগুলোর দিকে নজর রাখা উচিত।
ডিএসইএক্স সূচকের জন্য ৬,২০০ পয়েন্টে সাপোর্ট এবং ৬,৩৫০ পয়েন্টে রেজিস্ট্যান্স রয়েছে। সূচক যদি ৬,৩৫০ পয়েন্ট অতিক্রম করে, তবে বাজারে উন্নতির সম্ভাবনা বাড়বে। তবে, সূচক ৬,২০০ পয়েন্টের নিচে নেমে গেলে, বিক্রির চাপ বাড়তে পারে।
খাতভিত্তিক পূর্বাভাস: ইজেনারেশন লিমিটেড এবং গ্রামীণফোনের শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে। একইসঙ্গে ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে স্কয়ার ফার্মা এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারগুলোর প্রতি আগ্রহ থাকতে পারে।
গ্যাস ও পাওয়ার খাতে: ইউনাইটেড পাওয়ার এবং এক্সিম গ্যাসের শেয়ারগুলোর প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ: আইপিওতে বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত এবং মৌলিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নির্ধারণ করুন।
সতর্কতা: বাজারের অপ্রত্যাশিত ওঠানামা সামাল দিতে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যশীল এবং সতর্ক থাকা উচিত। অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বিশেষ নোট: এই প্রতিবেদন শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে। বিনিয়োগের আগে পেশাদার আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করুন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।