রাজধানীর নিকুঞ্জে গতকাল ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় শেয়ারবাজারের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা, ডিএসই চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের শেয়ারবাজারের গভীরতা অনেক কম, আর ভালো ভালো কোম্পানি এ বাজারে আসতে খুব বেশি আগ্রহী নয়। এসব কোম্পানির মালিকরা ভাবেন, ছেলে হবে পরিচালক, বউ চেয়ারম্যান। শেয়ারবাজারে আসা মানেই ভালো ব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসন ইত্যাদি উন্নত হওয়া। কিন্তু অনেকে এসব বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চান না, তাই তারা বাজারে আসতে আগ্রহী নন। সময় এসেছে বাজারের গভীরতা বাড়ানোর, আর তার জন্য ভালো ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। পুনর্গঠনের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য উপকার বয়ে আনবে। তবে, সুশাসন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ অপরিহার্য।
ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম তার আলোচনায় বলেন, বর্তমান বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তারা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও নীতিমালা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতাপূর্ণ শেয়ারবাজার নিশ্চিত করা, যেখানে বিনিয়োগকারীরা সুরক্ষিত অনুভব করবেন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন, বাজারে বারবার অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে বিনিয়োগকারীদের বড় ক্ষতি হচ্ছে। এজন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
ডিএসই’র তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বাজার মূলধনে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দেখা গেছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষত, অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বাজারে গভীরতা বাড়াতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার করের সুবিধাসহ বিভিন্ন নীতি-সহায়তা বিবেচনা করবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কিছু ভুল নীতির কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়েছিল, তবে বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার বড় সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। এসব সংস্কারের ফল বিনিয়োগকারীরা সাময়িক কিছু যন্ত্রণা সত্ত্বেও লাভবান হবেন।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা শেয়ারবাজারের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। বাজার-সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে শেয়ারবাজারকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে হবে, এটাই ছিল এই সভার মূল বার্তা
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।