সকল মেনু

ভীতি ছড়ানো মার্কেটে ক্রেতা সংকট

দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে ভীতিকর পরিবেশ কয়েক সপ্তাহ দরে সৃষ্টি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে বছরের সর্বনিম্ন লেনদেন হওয়ায় ভীতি আরো ছড়িয়ে পড়ে। যে কারণে সপ্তাগের দ্বিতীয় দিনে সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিক্রেতার সংকট সৃষ্টি হয়। ভরে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকেন।

শেয়ারের দাম আরও কমতে পারে এই ভয়ে ব্যক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ধরনের বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনছেন না। বস সোমবার (১৮ এপ্রিল) লেনদেন হওয়া ৩৮০ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে শতাধিক কোম্পানির ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ক্রেতার বিপরীতের শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ায় রোববারের চেয়ে এদিন পুঁজিবাজারে আরও বড় দরপতন হয়েছে।

ব্যাংক-বিমামহ সব খাতের শেয়ারের দাম কমায় এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কমেছে ৭২ পয়েন্ট। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমেছে ১৭২ পয়েন্ট।

সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনও। এর ফলে গত সপ্তাহের বুধবার সূচক সামান্য বৃদ্ধির পর চলতি সপ্তাহের রোববার ও সোমবার টানা দুদিন দরপতন হলো। এর আগের দিন ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছিল ৩০ পয়েন্ট। আর সিএসইর সূচক কমেছিল ৬৪ পয়েন্ট।

এদিকে টানা ধসে রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। তারা বলছেন, এ অবস্থার পরিবর্তনে প্রয়োজনে বিনিয়োগ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান বলেন, এখন প্রয়োজন শেয়ার কেনার। শেয়ার কিনলেই মার্কেট ঘুরে দাঁড়াবে।

ডিএসইর তথ্য মতে, সোমবার সূচকের নিন্মমুখী প্রবণতায় দিনের লেনদেন শুরু হয়ে শেষ সময় পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এদিন ডিএসইতে ৩৮০টি প্রতিষ্ঠানের ৯ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার ৭৪০টি শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। ডিএসইতে ১৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৩৪৭টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টির।

তাতে ডিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ৭২ পয়েন্ট কমে সাড়ে ৬ হাজার পয়েন্টের নিচে অবস্থান করছে। যা গত এক মাসের আগের অবস্থানে ফিরেছে। এর আগে ৭ মার্চ ডিএসইএক্স ছিল ৬ হাজার ৪৫৬ পয়েন্ট।

অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে কমেছে ১৩ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট এবং ডিএস-৩০ সূচক কমেছে ২৫ দশমিক ৩১ পয়েন্ট। সোমবার ডিএসসিতে ৩৯৩ কোটি ৯৭ লাখ ৯২ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৯৩ কোটি ৯৭ লাখ ৯২ হাজার টাকার শেয়ার।

এদিন সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে জেএমআই হসপিটালের শেয়ার। এরপর লেনদেন হয় লাফার্জ হোলসিম, কাট্টালি টেক্সটাইল, স্কয়ার ফার্মা, বেক্সিমকো লিমিটেড, বিএসসি, বিকন ফার্মা, ডরিন পাওয়ার, বেক্সিমকো ফার্মা ও ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকো লিমিটেড।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭২ দশমিক ৫ পয়েন্ট কমে ১৯ হাজার ১৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইতে সোমবার ২৬৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ২২৫টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টির। এ বাজারে ৩৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭৪ হাজার ২৮৭ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top