সকল মেনু

উৎপাদনে ফেরার খবরে এমারেল্ড অয়েলের শেয়ার সোনার হরিণ!

সিনিয়র রিপোর্টার : উৎপাদনে ফিরছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল লিমিটেড। এমন খবরে কোম্পানির শেয়ার যেন সোনার হরিণ। যার পেছনে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। যে কারণে মাত্র ৯ কর্মদিবসে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ৮ টাকা ৬০ পয়সা। এক মাসের ব্যবধানে শেয়ার দর বেড়েছে সাড়ে ১৩ টাকা।

এদিকে, কোম্পানির কারখানায় তেল রিফাইনের কাজ চালছে এবং ইতোমধ্যে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ। শিগগিরই ‘স্পন্দন’ ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফজাল হোসেন।

কোম্পানি ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় শত কোটি টাকা ঋণে থাকা কোম্পানিটির শেয়ার গত ১৮ মে (শনিবার) বিক্রি হয়েছিল ৩২ টাকা। সেই শেয়ার রোববার (২৬ জুন) সর্বশেষ বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ এক মাস ৮ দিনে শেয়ারটির দাম বেড়েছে সাড়ে ১৩ টাকা। এর মধ্যে সর্বশেষ ৯ কর্মদিবসে বেড়েছে ৮ টাকা ৬০ পয়সা।

১৩ জুন (সোমবার) শেয়ারটির দাম ছিল ৩৬ টাকা ৯০ পয়সা। সেই শেয়ার সোমবার সর্বশেষ বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ ৯ দিনে বেড়েছে ৮ টাকা ৬০ পয়সা।

হঠাৎ শেয়ারের দাম বাড়ার পেছনে কোনো সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কি না তা জানতে এখনও কোম্পানিটিকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়নি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। তবে বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে— বন্ধ কোম্পানিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। শিগগিরই বিদেশে কোম্পানির পণ্য স্পন্দন রাইস অয়েল রপ্তানি হবে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, এমারেল্ড অয়েল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোম্পানিটি উৎপাদন শুরু করেছে পুরোদমে। তারা এখন তাদের পণ্য বাজারজাত করবে।

এ বিষয়ে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফজাল হোসেন বলেন, সব প্রতিবন্ধকতা পার হয়ে আমরা তেল রিফাইনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। শিগগিরই আমাদের রিফাইন করা তেল ‘স্পন্দন’ ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত শুরু করতে পারব। ইতোমধ্যে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে এমারেল্ড অয়েলে দুটি ইউনিট রয়েছে। এর একটির ধানের কুঁড়া ক্র্যাশ করার ক্ষমতা ১৮০ টন, অপরটির ক্ষমতা ১৫০ টন। ইউনিট দুটির দৈনিক মোট উৎপাদনক্ষমতা ৩৩০ টন।

তবে এখন শুধু ১৮০ টনের ইউনিটটিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এই ইউনিটে ধানের কুঁড়া ক্র্যাশ করে ৩৫ টনের মতো অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল পাওয়া যায়। এ থেকে দৈনিক পরিশোধিত তেল পাওয়া যায় প্রায় ২৫ টন। তাই এই মুহূর্তে আমরা প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার লিটার তেল বাজারে দিতে পারব। অচল ইউনিটটি সচল করা গেলে উৎপাদনের পরিমাণ আরও বাড়বে। এই তেল দেশের বাজারে পাশাপাশি ভারত ও জাপানে রপ্তানি করা হবে।

২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এমারেল্ড অয়েল। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বছর দুই না যেতেই মালিকানা দ্বন্দ্ব ও ঋণগ্রস্ত হয়ে কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ থাকার প্রায় ছয় বছর পর জাপানি মালিকানাধীন মিনোরি বাংলাদেশ কোম্পানিটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর কোম্পানিটি উৎপাদনে ফেরার চেষ্টা করে। তারই ধারাবাহিকতায় সব সমস্যা ও বাধা অতিক্রম করে উৎপাদন শুরু করেছে কোম্পানিটি। এখন উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ শুরু করতে যাচ্ছে।

কোম্পানিটির মালিকানার ৩৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। বর্তমানে কোম্পানির ব্যাংক ঋণ রয়েছে প্রায় ১শ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণ রয়েছে ৩০ কোটি ৫৯ লাখ ৫ হাজার টাকা। আর দীর্ঘমেয়াদি ঋণ রয়েছে ৬২ কোটি ৮১ লাখ ১ হাজার টাকা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top